হাদিস শাস্ত্রের অনন্য জ্যোতিষ্ক: ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর বিস্তারিত জীবনী
ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে যে কজন মহান মনীষী নিজের মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সততার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী ও আদর্শকে কিয়ামত পর্যন্ত অনাগত মুসলিম উম্মাহর জন্য সংরক্ষণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম তিরমিজি (রহ.) অন্যতম। তিনি বিশ্ববিখ্যাত ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থের (সিহাহ সিত্তাহ) অন্যতম কালজয়ী সংকলন ‘জামেউত তিরমিজি’ (সুনানে তিরমিজি)-এর মহান রচয়িতা। হাদিস শাস্ত্রের বিন্যাস, হাদিসের শ্রেণীবিভাগ (যেমন: হাসান, সহিহ, জইফ ইত্যাদি পরিভাষার বহুল ব্যবহার) এবং ফিকহি মাসআলা উপস্থাপনে তাঁর পদ্ধতি ছিল এককথায় বৈপ্লবিক। নিচে এই মহান ইমামের জন্ম, বংশ পরিচয়, ইলমি সফর, শিক্ষক ও ছাত্র সমাজ, তাঁর যুগান্তকারী কর্ম এবং জীবনের শেষ দিনগুলোর ওপর একটি বিস্তৃত ও তথ্যবহুল আলোকপাত করা হলো:
১. জন্ম ও বংশ পরিচয়
ইমাম তিরমিজি (রহ.) ২০৯ হিজরি মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় খিলাফতের আমলে প্রাচীন খোরাসান অঞ্চলের ‘তিরমিজ’ নামক শহরের কাছে ‘বুগ’ নামক একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম হলো: আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মুসা ইবনে দাহহাক আস-সুলামী আল-বুগী আত-তিরমিজি। তাঁর বংশধারা আরবের বিখ্যাত ‘বনু সুলাইম’ গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁকে ‘আস-সুলামী’ বলা হয় এবং তিরমিজ শহরের বাসিন্দা হিসেবে তিনি ‘আত-তিরমিজি’ নামে বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
২. শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষা
ইমাম তিরমিজি (রহ.) এমন এক যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন আব্বাসীয় খিলাফতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছিল এবং চারদিকে হাদিস চর্চার এক সোনালী আবহ বিরাজ করছিল। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন প্রখর মেধা ও অসাধারণ স্মরণশক্তির (হিফয শক্তি) অধিকারী। সমকালীন ঐতিহাসিকদের মতে, কোনো দীর্ঘ বক্তৃতা বা হাদিসের দীর্ঘ ধারা তিনি মাত্র একবার শুনলেই হুবহু মুখস্থ করে ফেলতে পারতেন। নিজ গ্রাম ও তিরমিজ শহরের স্থানীয় উস্তাদদের কাছ থেকে তিনি পবিত্র কুরআন, আরবি সাহিত্য এবং প্রাথমিক ইসলামি ফিকহের জ্ঞান অর্জন করেন।
৩. ইলমে হাদিসের সন্ধানে দেশভ্রমণ (রিহলাহ)
হাদিসের উচ্চতর জ্ঞান এবং উচ্চ সনদের (আ’লী সনদ) সন্ধানে ইমাম তিরমিজি (রহ.) বিশ বছরের কিছু বেশি বয়সে প্রাতিষ্ঠানিক সফর শুরু করেন। তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা, বাগদাদ, ওয়া সিত, রে (বর্তমান তেহরানের কাছে) এবং সমগ্র খোরাসান অঞ্চল চষে বেড়ান। এই দীর্ঘ সফরে তিনি শত শত প্রখ্যাত মুহাদ্দিসের মজলিসে বসেন, তাঁদের থেকে সরাসরি হাদিস শ্রবণের সৌভাগ্য লাভ করেন এবং তা হৃদয়ে গেঁথে নেন। তবে তিনি তৎকালীন অন্যতম ইসলামি জ্ঞানকেন্দ্র মিশরে বা সিরিয়াতে সফর করেছিলেন কিনা—তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে।
৪. ইমাম বুখারি (রহ.)-এর সান্নিধ্য ও প্রভাব
ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর জীবনে সবচেয়ে গভীর এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস, আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহ.)। খোরাসানে অবস্থানকালে ইমাম বুখারি যখন নিশাপুরে ছিলেন, তখন ইমাম তিরমিজি তাঁর দরবারে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। তিনি ইমাম বুখারির কাছ থেকে কেবল হাদিসই শেখেননি, বরং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বা ইল্লত বের করা (ইলমুল ইলাল) এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী যাচাইয়ের (জারহ ওয়াত তা’দীল) অনন্য বিদ্যা অর্জন করেন।
ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর এই যোগ্য ছাত্রকে কতটা মূল্যায়ন করতেন, তা একটি ঐতিহাসিক উক্তি থেকে স্পষ্ট হয়। ইমাম বুখারি স্বয়ং ইমাম তিরমিজিকে বলেছিলেন:
“তুমি আমার কাছ থেকে যতটুকু না উপকৃত হয়েছ, তার চেয়ে বেশি আমি তোমার সান্নিধ্য ও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি।”
একজন বিশ্ববরেণ্য উস্তাদের মুখে নিজের ছাত্রের প্রতি এমন প্রশংসাসূচক বাণী হাদিসের ইতিহাসে বিরল।
৫. ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর উস্তাদ বা শিক্ষকবৃন্দ
ইমাম তিরমিজি (রহ.) তাঁর দীর্ঘ জ্ঞান-সফরে বহু যুগশ্রেষ্ঠ ইমামের সান্নিধ্য লাভ করেন। সিহাহ সিত্তাহর অন্য প্রধান সংকলকগণের অনেকেই তাঁর উস্তাদ ছিলেন। তাঁর প্রধান কয়েকজন শিক্ষক হলেন:
- ইমাম বুখারি (রহ.) (তাঁর সবচেয়ে প্রধান এবং আধ্যাত্মিক উস্তাদ)
- ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহ.) (সহিহ মুসলিমের সংকলক)
- ইমাম আবু দাউদ সিজিস্তানি (রহ.) (সুনানে আবু দাউদের সংকলক)
- কুতাইবা ইবনে সাঈদ
- ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ
- মুহাম্মাদ ইবনে বাশার (বুনদার)
- আলী ইবনে হুজর আল-মারওয়াযি
- আহমদ ইবনে মানী’
৬. ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর ছাত্র সমাজ
ইমাম তিরমিজি যখন হাদিসের অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হয়ে খোরাসানে ফিরে আসেন, তখন তাঁর ইলমি সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দরসে হাদিসের মজলিসে যোগ দিতে দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসতেন। তাঁর হাত ধরে বহু মুহাদ্দিস ও ফকিহ তৈরি হয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:
- আবু বকর আহমেদ ইবনু ইসমাঈল আস-সামরকান্দি
- আবু হামিদ আহমেদ ইবনু আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াযি
- মাহমুদ ইবনে আম্বর আস-সামরকান্দি
- আহমদ ইবনে ইউসুফ আন-নাসাফি
- হাইসাম ইবনে কুলাইব আশ-শাশী (বিখ্যাত মুসনাদে আশ-শাশী গ্রন্থের লেখক)
৭. ফিকহি অবস্থান ও মাযহাব
ইমাম তিরমিজি (রহ.) ফিকহ বা ইসলামি আইনশাস্ত্রের ক্ষেত্রে মূলত একজন ‘মুজতাহিদ’ ছিলেন। তবে তাঁর ফিকহি চিন্তাধারা ও হাদিস থেকে মাসআলা বের করার পদ্ধতি ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.)-এর কাছাকাছি ছিল। তাঁর সংকলিত ‘জামে’ গ্রন্থে তিনি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অন্ধ অনুকরণ না করে সাহাবি, তাবেয়ি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহদের (যেমন কুফা, মদিনা ও শাম দেশের ফকিহগণ) মতামত ও দলিল অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছেন। এই কারণে তাঁর গ্রন্থটি ‘তুলনামূলক ফিকহ’ বা Comparative Fiqh পড়ার জন্য ইসলামি স্কলারদের নিকট প্রথম পছন্দ।
৮. কালজয়ী গ্রন্থাবলি ও অবদান
হাদিস ও রাবিদের জীবনীর ওপর ইমাম তিরমিজি বেশ কিছু মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। তাঁর মধ্যে প্রধান কিতাবসমূহ হলো:
ক. জামেউত তিরমিজি (সুনানে তিরমিজি)
এটি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ। হাদিস শাস্ত্রের ইতিহাসে একে একটি অনন্য গ্রন্থ বলা হয়, কারণ এটি একই সাথে হাদিসের গ্রন্থ এবং ফিকহের আকর। এই গ্রন্থের কিছু চমৎকার বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
- তিনি কোনো হাদিস উল্লেখ করার পর তার আইনি বা ফিকহি মর্যাদা বর্ণনা করেছেন এবং এটি কোন কোন ইমামের মাযহাব তা স্পষ্ট করেছেন।
- হাদিসটি সহিহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম) নাকি জইফ (দুর্বল)—তা তিনি প্রতিটি হাদিসের নিচে নিখুঁতভাবে উল্লেখ করেছেন। হাদিস শাস্ত্রে ‘হাসান’ পরিভাষাকে তিনিই প্রথম এতো ব্যাপক ও সুসংগঠিতভাবে জনপ্রিয় করে তোলেন।
- কোনো বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণনা করার পর, ওই বিষয়ের ওপর আর কোনো কোনো সাহাবি থেকে হাদিস বর্ণিত আছে, তা ‘وفي الباب’ (এ বিষয়ে আরও বর্ণিত আছে…) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন।
ইমাম তিরমিজি নিজেই তাঁর কিতাব সম্পর্কে বলেছেন:
“আমি এই কিতাবটি সংকলন করার পর তা হিজাজ, ইরাক ও খোরাসানের আলেমদের নিকট পেশ করেছি। তাঁরা সকলেই এটি পছন্দ করেছেন এবং সানন্দে গ্রহণ করেছেন। যার ঘরে এই কিতাবটি থাকবে, মনে হবে যেন তার ঘরে স্বয়ং নবী কারীম (সা.) অবস্থান করছেন এবং তিনি নিজেই কথা বলছেন।”
খ. আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়াহ (শামায়েলুত তিরমিজি)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র অবয়ব, চালচলন, পোশাক, খাবার, ইবাদত, স্বভাব-চরিত্র এবং দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি বিবরণ নিয়ে এটি ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ও সবচেয়ে জনপ্রিয় একক গ্রন্থ। ৩৯৯টি হাদিসের সমন্বয়ে গঠিত এই কিতাবটি মুসলিম হৃদয়ে রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধিতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
গ. কিতাবুল ইলাল
হাদিসের গোপন বা সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করার ওপর এটি একটি অসাধারণ তাত্ত্বিক গ্রন্থ, যা সাধারণত জামেউত তিরমিজির শেষ খণ্ডে যুক্ত থাকে।
এছাড়াও তাঁর রচিত ‘কিতাবুজ জুহদ’ (তাকওয়া বিষয়ক) এবং ‘কিতাবুত তারিখ’ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
৯. তাঁর অসাধারণ স্মরণশক্তি ও তাকওয়া
ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর স্মরণশক্তি নিয়ে ইতিহাসে একটি বিখ্যাত ঘটনা বর্ণিত আছে। একবার তাঁর এক সফরে একজন শায়খের সাথে দেখা হয়, যার কাছ থেকে তিনি পূর্বে এক খণ্ড হাদিস লিখে নিয়েছিলেন। ইমাম তিরমিজি ভেবেছিলেন কিতাবটি তাঁর সাথেই আছে, কিন্তু ভুলে তিনি একটি সাদা খাতা সাথে নিয়ে এসেছিলেন। শায়খ যখন হাদিস পড়া শুরু করলেন, ইমাম তিরমিজি সেই সাদা খাতার দিকে তাকিয়ে শুনছিলেন। শায়খ এটি দেখে রেগে গেলেন এবং বললেন, “তুমি আমার সাথে উপহাস করছ?”
ইমাম তিরমিজি বিনীতভাবে বললেন, “হুজুর, রাগ করবেন না। আপনার সব হাদিস আমার মুখস্থ হয়ে গেছে।” শায়খ বিশ্বাস না করায় ইমাম তিরমিজি পরপর শায়খের পড়া সবকটি হাদিস হুবহু শুনিয়ে দিলেন। শায়খ বিস্মিত হয়ে বললেন, “আমি আমার জীবনে এমন স্মরণশক্তি আর দেখিনি।”
তিনি অত্যন্ত আল্লাহভীরু ও ক্রন্দনশীল মানুষ ছিলেন। আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে জীবনের শেষভাগে তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং জীবনের শেষ কয়েক বছর তিনি দৃষ্টিহীন অবস্থাতেই কাটান।
১০. ইন্তেকাল ও শেষ শয্যা
জ্ঞান অন্বেষণ ও দ্বীনের মহান খিদমতে জীবন উৎসর্গ করার পর, এই মহান ইমাম ২৭৯ হিজরির ১৩ রজব (মোতাবেক ৮৯২ খ্রিস্টাব্দ) সোমবার রাতে নিজ জন্মভূমি তিরমিজের অন্তর্গত ‘বুগ’ গ্রামে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়, যা বর্তমান উজবেকিস্তানের তিরমিজ শহরের কাছে অবস্থিত। আজো হাজার হাজার দ্বীনি পিপাসু মানুষ তাঁর কবরের পাশে গিয়ে এই মহান মণীষীর জন্য আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করেন।
উপসংহার
ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর সংকলন ও তাঁর উদ্ভাবিত হাদিস বিশ্লেষণের আধুনিক পদ্ধতি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক চিরন্তন নিয়ামত। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে হাদিসের বিশুদ্ধতা রক্ষার যে প্রাচীর তৈরি করে গেছেন, তা আজো দেদীপ্যমান। ইসলামি ইলমের প্রসারে তাঁর এই অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। মহান আল্লাহ তাআলা ইমাম তিরমিজিকে তাঁর এই মহান খিদমতের জন্য সর্বোত্তম জাজা খায়ের দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করুন। আমীন।
তার লিখিত বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ :
০৪. সুনানে তিরমজি
সংকলক : আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি।

সিহাহ সিত্তাহ বা হাদিস শাস্ত্রের ছয়টি প্রধান গ্রন্থের অন্যতম একটি হলো সুনানে তিরমিজি। এই কিতাবটি হাদিস শাস্ত্রের বিন্যাস এবং ফিকহি (আইনতাত্ত্বিক) আলোচনার সংমিশ্রণে এক অনন্য উদাহরণ।
ইমাম তিরমিজির পূর্ণ নাম আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি। তিনি ২০৯ হিজরিতে বর্তমান উজবেকিস্তানের তিরমিজ শহরের নিকটবর্তী একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম বুখারি (রহ.)-এর বিশেষ ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর কাছে হাদিসের সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও ত্রুটি নির্ণয়ের (ইলমে ইলাল) বিশেষ শিক্ষা লাভ করেন।
ইমাম তিরমিজি ছিলেন অসাধারণ স্মরণশক্তির অধিকারী। জীবনের শেষ দিকে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, তবে তাঁর জ্ঞানচর্চা ও আমল বিন্দুমাত্র কমেনি। ২৭৯ হিজরিতে তিনি নিজ মাতৃভূমিতেই ইন্তেকাল করেন।
সুনানে তিরমিজি: হাদিস ও ফিকহের সমন্বয়
ইমাম তিরমিজি তাঁর এই কিতাবটিকে কেবল হাদিসের সংকলন হিসেবে নয়, বরং ইসলামি জ্ঞানকোষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। এই কিতাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
- হাদিসের মান নির্ধারণ: ইমাম তিরমিজিই প্রথম ব্যাপকভাবে হাদিসকে তিন ভাগে বিভক্ত করে পরিচিতি দেন— সহিহ (বিশুদ্ধ), হাসান (গ্রহণযোগ্য) এবং জয়িফ (দুর্বল)। প্রতিটি হাদিসের পর তিনি এর মান সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।
- ফুকাহাগণের অভিমত: এই কিতাবের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো, ইমাম তিরমিজি একটি হাদিস উল্লেখ করার পর সেই বিষয়ে সমকালীন ইমাম ও ফকিহগণের (যেমন: ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমদ প্রমুখ) মতামত ও ইজতিহাদ তুলে ধরতেন। এতে কোনো মাসআলার পেছনে আলেমদের যুক্তি সহজে বোঝা যায়।
- পুনরাবৃত্তি বর্জন: তিনি সাধারণত একটি হাদিস এক জায়গায় উল্লেখ করেই সেই সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্র বা রাবিদের নাম সংক্ষেপে বলে দিতেন, যা কিতাবটির কলেবর ছোট কিন্তু তথ্যবহুল করেছে।
- হাদিসের সংখ্যা: সুনানে তিরমিজিতে প্রায় ৩,৯৫০টির মতো হাদিস রয়েছে।
একটি উল্লেখযোগ্য অভিমত:
ইমাম তিরমিজি নিজেই বলেছেন, “যার ঘরে এই কিতাবটি থাকবে, মনে হবে তার ঘরে স্বয়ং নবী কারিম (সা.) কথা বলছেন।”
সুনানে তিরমিজি এমন একটি কিতাব যা গবেষক আলেম এবং সাধারণ পাঠক—উভয়ের জন্যই ইসলামের জ্ঞান আহরণকে সহজ করে দিয়েছে।

সহিহ তিরমিজি ডাউনলোড লিংক :
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৫ | পঞ্চম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৬ | ষষ্ঠ খণ্ড | ডাউনলোড |
বাংলাদেশ ইসলাম সেন্টার
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৫ | পঞ্চম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৬ | ষষ্ঠ খণ্ড | ডাউনলোড |
জঈফ তিরমিজি :

জঈফ তিরমিজি ডাউনলোড লিংক :