বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশে যে কজন প্রথিতযশা আলেম ও গবেষক ইসলামের বিশুদ্ধ রূপটিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন, তাঁদের মধ্যে ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) অন্যতম। তিনি ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত ওয়ায়েজ, মিষ্টভাষী বক্তা, গবেষক, সমাজসংস্কারক এবং ঝানু শিক্ষাবিদ। উগ্রতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে এবং ইসলামের শাশ্বত ও ভারসাম্যপূর্ণ রূপটি তুলে ধরতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
১. জন্ম ও জন্মস্থান
ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর ১৯৫৮ সালের কোনো এক শুভ ক্ষণে (সরকারি নথি মোতাবেক ১ ডিসেম্বর ১৯৬১, তবে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের মতে তাঁর মূল জন্ম ১৯৫৮ সালের দিকে) ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার ধোপাগাট্টা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঝিনাইদহের এক ঐতিহাসিক ও দ্বীনি ঐতিহ্যের অধিকারী খোন্দকার পরিবারে জন্ম নেন, যাঁর কারণে শৈশব থেকেই তিনি একটি চমৎকার ধার্মিক ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ পেয়েছিলেন।
২. পিতামাতা
তাঁর পিতার নাম খোন্দকার আনোয়ারুজ্জামান এবং মাতার নাম বেগম ফাতেমা আনোয়ারুজ্জামান। খোন্দকার আনোয়ারুজ্জামান ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও নীতিবান একজন মানুষ। মায়ের স্নেহ এবং বাবার কঠোর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর বড় হতে থাকেন। তাঁর পিতামাতা তাঁর ভেতরের প্রতিভাকে চিনতে পেরেছিলেন এবং তাঁকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান।
৩. পড়াশোনা ও শিক্ষা জীবন
ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীরের শিক্ষা জীবন ছিল এক কথায় ঈর্ষণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল। তিনি যেমন দেশের ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাগুলোতে পড়াশোনা করেছেন, তেমনই ইসলামের মূল উৎসভূমি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ক. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা
তিনি নিজ এলাকার ধোপাগাট্টা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে দাখিল (এসএসসি সমমান) ও আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ফাজিল ও ১৯৭৫ সালে কামিল (হাদিস বিভাগ) পরীক্ষায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
খ. উচ্চশিক্ষা (রিয়াদ, সৌদি আরব)
কামিল পাসের পর উচ্চশিক্ষার প্রবল আগ্রহ থেকে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ (Imam Muhammad ibn Saud Islamic University) স্কলারশিপ লাভ করেন।
- বিএ (অনার্স): তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন (Principles of Religion) ফ্যাকাল্টি থেকে কৃতিত্বের সাথে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
- এমএ ও পিএইচডি: পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি যথাক্রমে এমএ এবং পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল সমকালীন মুসলিম বিশ্বে ঈমান ও আকীদার বিচ্যুতি ও তার প্রতিকার নিয়ে। সৌদি আরবে অবস্থানকালে তিনি বিশ্বের বহু প্রখ্যাত স্কলার, বিশেষ করে তৎকালীন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন বাজ (রহ.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং সরাসরি তাঁর কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করেন।
৪. কর্মজীবন
সৌদি আরবে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সময় কাটানোর পর, ১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশের মাটিতে ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই তিনি বহুজাতিক বা বিদেশি কোনো লোভনীয় চাকরি গ্রহণ না করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।
ক. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
বাংলাদেশে ফেরার পর তিনি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া-এর ‘আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ’ বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর মেধা, যোগ্যতা ও গবেষণার মাধ্যমে খুব দ্রুতই সহযোগী অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে পূর্ণ অধ্যাপক (Professor) পদে উন্নীত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই বিভাগের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্মানিত অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
খ. সমাজসেবা ও আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট
কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দেওয়ালে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। সাধারণ মানুষের মাঝে দ্বীনি শিক্ষা ও সেবামূলক কাজ পৌঁছে দিতে তিনি ঝিনাইদহে প্রতিষ্ঠা করেন ‘আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট’ (As-Sunnah Trust)। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা পরিচালনা, ফ্রি ফ্রুট ক্লিয়ারিং, বিধবা ভাতা এবং নানাবিধ সমাজকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করতেন।
গ. মিডিয়া ও দাওয়াতি কাজ
তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে (যেমন: এনটিভি, পিস টিভি, এটিএন বাংলা ইত্যাদি) সমকালীন নানাবিধ ধর্মীয় সমস্যার সমাধানধর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। পিস টিভি বাংলায় তাঁর উর্দূ ও ইংরেজী থেকে সরাসরি অনুবাদ করে লেকচার দেওয়ার ক্ষমতা এবং পিস টিভি ইংরেজীতে তাঁর চমৎকার ইংরেজি বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলেও সমাদৃত হয়েছিল।
৫. ইসলামে কৃতিত্ব ও অবদান
ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল ইসলামের নামে প্রচলিত জাল হাদিস, কুসংস্কার এবং উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই। তিনি মনে করতেন, সমাজ থেকে বিদআত ও কুসংস্কার দূর করতে হলে তরবারি বা লাঠির প্রয়োজন নেই, বরং দলিলভিত্তিক সহীহ ইলম বা সঠিক জ্ঞানের প্রচারই যথেষ্ট।
ক. চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
২০০৫-২০০৬ সালের দিকে যখন বাংলাদেশে ইসলামের নামে কিছু উগ্রপন্থী দল বোমাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিয়েছিল, তখন ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। এই বিষয়ে তিনি আরবি ও বাংলায় অসাধারণ কিছু বই লিখেন যা তৎকালীন সময়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের চোখ খুলে দিয়েছিল।
খ. ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান
তিনি ছিলেন চরমপন্থা (Extremism) এবং শিথিলতা (Laxity)—এই দুইয়ের মাঝামাঝি বা মধ্যপন্থা (Wasaṭiyyah)-র প্রতীক। তিনি হানাফী মাযহাব বা প্রচলিত ধারার আলেমদের যেমন শ্রদ্ধা করতেন, তেমনি আহলে হাদিস বা সালাফী ধারার আলেমদের সাথেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। তিনি কওমি ও আলিয়া—এই দুই ধারার আলেমদের মধ্যে একটি মজবুত সেতু বন্ধন তৈরি করেছিলেন। কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ উলামা পরিষদও তাঁকে অত্যন্ত সমীহ করত।
৬. তাঁর লিখনী ও সাহিত্যকর্ম
ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) একজন উঁচু মাপের গবেষক ও লেখক ছিলেন। জটিল এবং সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সহজ-সরল বাংলায় সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা ছিল তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিচে তাঁর কালজয়ী কিছু বইয়ের তালিকা দেওয়া হলো:
- এহয়াউস সুনান (Ehyau us-Sunan): এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন বিদআত ও কুসংস্কার চিহ্নিত করে সুন্নাতকে জীবিত করার এক অনন্য দলিল এই গ্রন্থটি।
- হাদীসের নামে জালিয়াতি (Fabrication in the Name of Hadith): সমাজে রাসূল (সা.)-এর নামে প্রচলিত শত শত বানোয়াট ও জাল হাদিসের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন এই বইটিতে।
- রাহে বেলায়াত (Rahe Belayat): আল্লাহর ওলী বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাসনুন (রাসূলুল্লাহ সা. নির্দেশিত) দোয়া ও জিকিরের এক অপূর্ব সংকলন এটি। প্রচলিত পীর-মুরিদি বা সুফিবাদের নামে যেসব বাড়াবাড়ি হয়, তার বিপরীতে এটি এক বিশুদ্ধ গাইডলাইন।
- ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ: একটি পর্যালোচনা: সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে লেখা এই বইটি তৎকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
- কিতাবুল মোকাদ্দস, ইঞ্জিল শরীফ ও খ্রিষ্টধর্ম: খ্রিষ্টান মিশনারিদের বিভিন্ন অপপ্রচার এবং বাইবেলের অসংগতিগুলো নিয়ে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের (Comparative Religion) আলোকে লিখিত একটি অসাধারণ তাত্ত্বিক গ্রন্থ।
- আল-ফিকহুল আকবার (অনুবাদ ও ব্যাখ্যা): ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর আকীদা বিষয়ক মূল গ্রন্থ ‘আল-ফিকহুল আকবার’-এর বিশাল ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা গ্রন্থ এটি, যা বাংলা ভাষায় আকীদার জগতে এক অনন্য সংযোজন।
এছাড়াও তাঁর লেখা অন্যান্য জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: খোতবায়ে মাসূরা, কুরবানী ও জবীহুল্লাহ, পোশাক লেবাস ও ইসলাম, রমজানের সওগাত, ইসলামী আকীদা ইত্যাদি।
৭. মৃত্যু বা ইন্তিকাল
২০১৬ সালের ১১ মে, বুধবার। এই দিনটি বাংলাদেশের সর্বস্তরের মুসলিম উম্মাহর জন্য এক চরম শোকের দিন ছিল। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা জেলার চাউলিয়া নামক স্থানে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এই মহান মনীষী ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৮ বছর।
সকালে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা আসার পথে তাঁর গাড়িটি একটি বিপরীতমুখী কাভার্ড ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি এবং তাঁর গাড়িচালক মারাত্মকভাবে আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঝিনাইদহের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে বিদায় জানান। পরবর্তীতে তাঁর নিজ গ্রাম ধোপাগাট্টায় আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
অনুবাদ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন
ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর কেবল বাঙালি মুসলিমদের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের ব্যাপক মূল্যায়ন হয়েছে। সৌদি আরবের বিখ্যাত ডিকশনারি ও ইসলামি এনসাইক্লোপিডিয়াগুলোতে তাঁর আরবি বইগুলোর বেশ প্রশংসা রয়েছে।
নিচে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি এবং ভাবনার ইংরেজী ও আরবির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো, যা তাঁর সামগ্রিক চিন্তাধারাকে ফুটিয়ে তোলে:
আরবি চিন্তাধারা:
“الدعوة إلى الله لا بد أن تكون بالحكمة والموعظة الحسنة، والتشدد لا يولد إلا الجفاء والفرقة.”
বাংলা অনুবাদ: “আল্লাহর দিকে দাওয়াত অবশ্যই হিকমত (প্রজ্ঞা) এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে হতে হবে। চরমপন্থা ও কঠোরতা কেবল দূরত্ব এবং বিভেদেরই জন্ম দেয়।”
ইংরেজি মূল্যায়ন:
“Dr. Abdullah Jahangir was a bridge-builder in a polarized society. He combated religious extremism not with weapons, but with the authentic text of the Quran and Sunnah, rendering a balanced view of Islam.”
বাংলা অনুবাদ: “ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর ছিলেন একটি মেরুকরণ হওয়া সমাজের সেতু বন্ধনস্বরূপ। তিনি অস্ত্রের মাধ্যমে নয়, বরং কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ টেক্সটের (দলিলের) মাধ্যমে ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং ইসলামের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রূপ উপস্থাপন করেছিলেন।”
উপসংহার
ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) অল্প সময়ের জীবনে যে বিপুল পরিমাণ কাজ করে গেছেন, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এদেশের মুসলমানদের পথ দেখাবে। তাঁর চমৎকার বাচনভঙ্গি, সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ এবং পরমতসহিষ্ণুতা তাঁকে দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া সালাফী ও খাটি সুন্নাহর আদর্শ এবং তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ চিরকাল মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে। আল্লাহ তাআলা উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।
তার লিখিত কিছু বইয়ের ডাউনলোড লিংক নিচে :
০১. আল ফিকহুর আকবার
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
২. আল্লাহর পথে দাওয়াত
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
০৩. এহইয়াউস সুনান
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
৪. হাদীসের নামে জালিয়াতি : প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
৫. ইসলাম আকিদা
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
৬. ইসলাম হিজাব বা পর্দা
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
৭. জিজ্ঞাসা ও জবাব
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন :
৮. খুতবাতুল ইসলাম
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
০৯. কিতাবুল মুকাদ্দাস ইজ্ঞিল শরীফ ও ঈসায়ী ধর্ম
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১০. পবিত্র বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১১. পোশাক পর্দা ও দেহ সজ্জা
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১২. কুরবানী ও জবিহুল্লাহ
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১৩. রাহে বেলায়াত
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১৪. সহিহ মাসনূন ওযিফা
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১৫. শবে বরাত ফযীলত ও আমল
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১৬. রমাজান ও তারাবীহ
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১৭. A Woman From Desert
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
১৮. একজন জাপানি মহিলাম ইসলাম ও পর্দা
লেখক : ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
















