শায়খ আহমাদুল্লাহ

একবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলাদেশে যে কজন ইসলামি ব্যক্তিত্ব তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মার্জিত ভাষা এবং সময়োপযোগী সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছেন, তাদের মধ্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ অন্যতম। তিনি একাধারে একজন প্রখ্যাত আলেম, সফল দায়ী (ইসলামের প্রচারক), সমাজ সংস্কারক ও সমাজসেবক। গতানুগতিক উগ্রতা বা সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে অত্যন্ত শান্ত, যুক্তিপূর্ণ এবং প্রাঞ্জল ভাষায় ইসলামকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করার কারণে তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে—একটি অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

আধুনিক প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে কীভাবে সমাজ ও মানবতার কল্যাণ করা যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। নিচে এই মহান দ্বীনি ব্যক্তিত্বের জীবন, কর্ম এবং অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি

শায়খ আহমাদুল্লাহ ১৯৮১ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দার বাজার সংলগ্ন এক সম্ভ্রান্ত ও ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতার নাম মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, যিনি একজন ব্যবসায়ী এবং অত্যন্ত দ্বীনদার মানুষ ছিলেন। তার মাতার নাম সুফিয়া বেগম। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ দ্বিতীয়। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত শান্তশিষ্ট, মেধাবী এবং চিন্তাশীল স্বভাবের ছিলেন। পারিবারিক ধর্মীয় পরিবেশ তার মনস্তাত্ত্বিক ও চারিত্রিক গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

২. শিক্ষা জীবন

শায়খ আহমাদুল্লাহর শিক্ষা জীবন শুরু হয় তার নিজ এলাকার মাদরাসায়। অত্যন্ত মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি মাদরাসা শিক্ষার প্রতিটি স্তর পার করেন।

  • প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা: তিনি লক্ষ্মীপুরের বশিকপুর ডিএসইউ আলিম মাদরাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ফয়জুল উলুম মাদরাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করেন।
  • উচ্চশিক্ষা (কওমি মাদরাসা কারিকুলাম): পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামের বিখ্যাত আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদরাসা)-এ ভর্তি হন। সেখানে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দিলরোড (মালিবাগ) মাদরাসায় চলে আসেন।
  • দাওরায়ে হাদিস ও ইফতা: ২০০৩ সালে জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসা থেকে তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’ (যা বর্তমানে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স সমমান) সম্পন্ন করেন। দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেন। এরপর তিনি একই প্রতিষ্ঠান থেকে ইসলামিক আইন ও ফিকহ শাস্ত্রের ওপর উচ্চতর গবেষণা বা ‘ইফতা’ (মুফতি কোর্স) সম্পন্ন করেন।

মাদরাসা শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সমকালীন বিভিন্ন বিষয়, ইংরেজি ভাষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নিজস্ব চেষ্টায় ব্যাপক দক্ষতা অর্জন করেন, যা পরবর্তীতে তার আন্তর্জাতিক দাওয়াহ কর্মজীবনে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৩. কর্মজীবন

শিক্ষা জীবন শেষ করার পর শায়খ আহমাদুল্লাহ সরাসরি সমাজ ও দ্বীনের খিদমতে নেমে পড়েন। তার কর্মজীবনকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:

ক. শিক্ষকতা ও ইমামতি

শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে তিনি ঢাকার মিরপুরের ‘দারুর রাশাদ মাদরাসা’-এ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি বেশ কয়েক বছর সুনামের সাথে হাদিস, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যের অধ্যাপনা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি মিরপুরের একটি মসজিদে খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

খ. সৌদি আরবে প্রবাসী জীবন ও আন্তর্জাতিক দাওয়াহ (২০০৯ – ২০১৮)

২০০৯ সালে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামের কাজ করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি দেশটির পশ্চিম উপাকূলীয় শহর দাদ আল-জুবাইল (Al-Jubail Zone)-এর ‘পশ্চিম জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার’ (Jubail Missionary Center)-এ একজন অনুবাদক ও ধর্মীয় আলোচক হিসেবে নিয়োগ পান।

  • সেখানে তিনি দীর্ঘ ৯ বছর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
  • এই সময় তিনি আরবি থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে আরবিতে অসংখ্য ধর্মীয় বুকলেট ও নিবন্ধ অনুবাদ করেন।
  • প্রবাসী বাঙালি এবং অন্যান্য দেশের মানুষের মাঝে ইসলামের সঠিক আকিদা ও আমল প্রচারের জন্য তিনি শত শত সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখেন। এই দীর্ঘ প্রবাস জীবন তার দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে।

গ. দেশে প্রত্যাবর্তন ও বর্তমান কর্মব্যস্ততা

২০১৮ সালে তিনি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চাকরিতে আবদ্ধ না হয়ে স্বাধীনভাবে দাওয়াহ ও সমাজসেবামূলক কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত ‘ভূমিপল্লী জামে মসজিদ’-এর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

৪. আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা: এক অনন্য বিপ্লব

শায়খ আহমাদুল্লাহর জীবনের সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী কীর্তি হলো ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’ (As-Sunnah Foundation) প্রতিষ্ঠা। ২০১৭ সালে সৌদি আরবে থাকা অবস্থাতেই তিনি এটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক শিক্ষা, দাওয়াহ ও সম্পূর্ণ মানবিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলেন। দেশে ফেরার পর এর কার্যক্রম দেশব্যাপী এক বিশাল রূপ ধারণ করে।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি মূলত তিনটি সেবাখাতে কাজ করছেন: শিক্ষা, দাওয়াহ এবং মানবকল্যাণ

মানবিক ও ত্রাণ কার্যক্রমে অবদান

বাংলাদেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে—তা বন্যা হোক, ঝড় হোক বা তীব্র শীত—আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এখন দেশের মানুষের কাছে অন্যতম বিশ্বস্ত নাম।

  • বন্যা পুনর্বাসন: ২০২০, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যাগুলোতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন কোটি কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। শুধু খাবার দেওয়াই নয়, বন্যা পরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ি মেরামত, নৌকা বিতরণ, গৃহহীনদের ঘর তৈরি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করার মতো স্থায়ী পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
  • করোনা মহামারিতে সেবা: কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে যখন চারিদিকে লকডাউন ছিল, তখন এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ঘরে ঘরে নিঃশব্দে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিলিন্ডার অক্সিজেন সরবরাহ ও কাফন-দাফনের কাজেও সম্মুখসারিতে ছিলেন এর কর্মীরা।
  • রমজান ও কুরবানির প্রজেক্ট: প্রতি বছর রমজান মাসে লাখ লাখ পরিবারকে ‘রমজান ফুড প্যাক’ এবং কুরবানির ঈদে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী মানুষের মাঝে পুষ্টিকর মাংস বিতরণ করা হয়।
  • বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দেশব্যাপী লক্ষাধিক ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয় এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে।

স্বাবলম্বীকরণ প্রজেক্ট

শায়খ আহমাদুল্লাহ বিশ্বাস করেন, কেবল ত্রাণ দিয়ে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়; বরং মানুষকে কর্মক্ষম করতে হবে। এই উদ্দেশ্যে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন অসচ্ছল পুরুষদের ভ্যান গাড়ি, রিকশা, সেলাই মেশিন, ছাগল-গরু এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি প্রদান করে ‘স্বাবলম্বীকরণ প্রজেক্ট’ পরিচালনা করছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়েছে।

৫. ইসলামে কৃতিত্ব ও ডিজিটাল দাওয়াহ

প্রথাগত ওয়াঁজ-মাহফিলের গণ্ডি পেরিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বাংলাদেশে ‘ডিজিটাল দাওয়াহ’ বা অনলাইনভিত্তিক ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ফেসবুক, ইউটিউব এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিচ্ছেন।

দাওয়াহ মাধ্যমমূল বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব
ইউটিউব ও ফেসবুকসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফলোয়ার সংখ্যা কোটির কাছাকাছি। তার ভিডিও ক্লিপগুলো অত্যন্ত গোছানো, সংক্ষিপ্ত এবং বাস্তবমুখী হওয়ায় সাধারণ ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ সহজেই গ্রহণ করে।
লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্বপ্রতি সপ্তাহে তিনি সমকালীন ও দৈনন্দিন জীবনের নানা জটিল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সরাসরি (Live) অনুষ্ঠান করেন। সেখানে কোনো অন্ধ বা গোঁড়া মতবাদ নয়, বরং কুরআন ও সহিহ হাদিসের রেফারেন্সসহ অত্যন্ত যৌক্তিক সমাধান দেওয়া হয়।
আইটি ও প্রযুক্তির ব্যবহারতিনি ইসলামি কনটেন্ট তৈরিতে সর্বোচ্চ মানের অডিও-ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, যা তরুণ প্রজন্মকে অন্য যেকোনো বিনোদনের চেয়ে দ্বীনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট করে।

৬. তার লেখনী ও গ্রন্থসমূহ

বক্তৃতা ও সমাজসেবার পাশাপাশি শায়খ আহমাদুল্লাহ একজন কুশলী লেখক। তার বইগুলো সহজ-সরল ভাষায় বাস্তব জীবনের নানা অসঙ্গতি ও তার ইসলামি সমাধান নিয়ে রচিত। তার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম:

১. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সকাল-সন্ধ্যার দুআ ও যিকির: এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সংকলন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিদিনের আমলসমূহ সহিহ বর্ণনার আলোকে সংকলিত হয়েছে।

২. রমাদান প্ল্যানার: পবিত্র রমজান মাসকে একজন মুমিন কীভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন, তার একটি চমৎকার ডায়েরি বা গাইডলাইন।

৩. উমরাহ নির্দেশিকা: উমরাহ পালনকারীদের জন্য সহজ ও সঠিক নিয়মের পকেট গাইড।

৪. পারিবারিক শিষ্টাচার ও সমকালীন ভাবনা: ইসলামি পারিবারিক জীবন কেমন হওয়া উচিত এবং বর্তমান সমাজের নানা ফেতনা থেকে পরিবারকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ।

এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টালে তার অসংখ্য গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও কলাম প্রকাশিত হয়েছে।

৭. তার দাওয়াহর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা

শায়খ আহমাদুল্লাহর এত দ্রুত এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা তাকে সমসাময়িক অনেক বক্তার চেয়ে আলাদা করেছে:

  • উগ্রতা ও কাদা-ছোড়াছুড়ির বিরোধিতা: তিনি কখনো কোনো মাহফিল বা বক্তব্যে অন্য কোনো আলেম, দল বা মতবাদকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন না। মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে তিনি শরিয়তের উসুল বা নীতিমালার আলোকে মার্জিত ভাষায় নিজের মত প্রকাশ করেন।
  • অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: তিনি বারবার বলেন, “মানবতার কোনো সীমানা নেই।” আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ত্রাণ কার্যক্রমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বিপন্ন মানুষকে সাহায্য করা হয়। তিনি অমুসলিমদের অধিকার রক্ষায় ইসলামের উদার নীতির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
  • কুরআন ও সহিহ হাদিসের প্রাধান্য: সমাজের প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার, বিদআত ও জাল হাদিসের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার। যেকোনো আমলের ক্ষেত্রে তিনি সহিহ দলিলের ওপর জোর দেন।
  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কোটি কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতি বছর অডিট ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করে জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই চরম সততা ও স্বচ্ছতার কারণে দেশ-বিদেশের বড় বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে তার সংস্থায় দান করেন।

৮. বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে শায়খ আহমাদুল্লাহ বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সম্মানিত ইসলামি ব্যক্তিত্বদের একজন। তিনি নারায়ণগঞ্জেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম সশরীরে তদারকি করছেন।

পাশাপাশি তিনি তরুণ আলেমদের আধুনিক দাওয়াহর প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও সেমিনার পরিচালনা করছেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে তার শারীরিক অসুস্থতার খবর এলে দেশজুড়ে লাখ লাখ ভক্ত তার জন্য দোয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা জনগণের মাঝে তার প্রতি ভালোবাসার গভীরতা প্রমাণ করে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং পুরোদমে তার দাওয়াহ, মানবিক প্রজেক্ট ও দ্বীনি লিখনীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপসংহার: শায়খ আহমাদুল্লাহর জীবন ও কর্ম বর্তমান যুগের মুসলিমদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, যুগের ভাষা বুঝে, আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে এবং সততা ও সেবার মানসিকতা থাকলে উগ্রতা ছাড়াই মানুষের মন জয় করা সম্ভব। বাংলাদেশের ইসলামি জাগরণ এবং সমাজ গঠনে তার এই অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তার লেখা কিছু বইয়ের লিংক :

০১. ঈমানের অপরিহার্য পাঠ

লেখক :শায়খ আহমাদুল্লাহ



০২. এক নজরে হজ

লেখক : শায়খ আহমাদুল্লাহ



০৩. তারাবীহর সালাতে কুরআনের বার্তা

লেখক :শায়খ আহমাদুল্লাহ



০৪. তালাকের আগে ভাবুন

লেখক : শায়খ আহমাদুল্লাহ



০৫. রমাদান প্ল্যানার

লেখক :শায়খ আহমাদুল্লাহ



০৬. রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সকাল-সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর.

লেখক : শায়খ আহমাদুল্লাহ



০৭. সেলফ রুকইয়া

লেখক :শায়খ আহমাদুল্লাহ



"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"