খুররম জাহ্ মুরাদ (১৯৩২–১৯৯৬) বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের একজন বিশিষ্ট পাকিস্তানি পুরকৌশলী, ইসলামী চিন্তাবিদ, তাত্ত্বিক, লেখক এবং প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে যেমন আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যায় উচ্চশিক্ষিত ছিলেন, তেমনই ইসলামী আন্দোলনের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন প্রভাবশালী সংগঠক ও দা’য়ি (আহ্বায়ক) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে তিনি দলটির নায়েবে আমীরের (সহ-সভাপতি) দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত বিতর্কিত এবং বিশেষভাবে আলোচিত। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে তাঁর সংযোগের কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি একটি সুপরিচিত ও সমালোচিত নাম। বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে খুররম জাহ্ মুরাদের বিস্তারিত জীবনী আলোচনা করা হলো:
জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
খুররম জাহ্ মুরাদ ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ ভারতের ভূপাল রাজ্যের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষা ভারতেই কাটে। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর (দেশভাগ) তাঁর পরিবার ভারত ত্যাগ করে নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়। তাঁরা পাঞ্জাবের ঐতিহাসিক শহর লাহোরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এই দেশান্তর এবং নতুন রাষ্ট্রে পুনর্বাসন তাঁর পরবর্তী জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
শিক্ষা ও প্রকৌশল জীবন (ক্যারিয়ার)
খুররম জাহ্ মুরাদ একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত আকর্ষিত ছিলেন এবং প্রকৌশলকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন।
- স্নাতক ডিগ্রি: তিনি সিন্ধুর করাচিতে অবস্থিত বিখ্যাত ‘এনইডি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ (NED University of Engineering and Technology) থেকে পুরকৌশল (Civil Engineering) বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- উচ্চশিক্ষা: পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে ‘ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা’ (University of Minnesota) থেকে পুরকৌশল বিভাগেই কৃতিত্বের সাথে মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রকৌশলী হিসেবে উল্লেখযোগ্য অবদান
একজন দক্ষ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পাকিস্তান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কিছু বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার নকশা এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ার সাথে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
১. ডিএনডি (DND) বাঁধ প্রকল্প (বাংলাদেশ): তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকাকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আইয়ুব খানের আমলে ১৯৬৫ সালে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (DND) অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ৫৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে (যার মধ্যে বর্তমানের মাতুয়াইল, মুসলিম নগর, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী, ডেমরা, নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা থানা অন্তর্ভুক্ত) বন্যামুক্ত এলাকা গড়তে এই বিখ্যাত ‘ডিএনডি বাঁধ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। খুররম জাহ্ মুরাদ ছিলেন এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী।
২. মক্কা শরীফের (পবিত্র কাবা ঘর) সম্প্রসারণ প্রকল্প: ১৯৭৫ সালে সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ খালিদ বিন আবদুল আজিজ পবিত্র মসজিদুল হারাম তথা কাবা শরীফের এক্সটেনশন বা বৃহৎ সম্প্রসারণ কাজ শুরু করেন। এই ঐতিহাসিক ও পবিত্র কাজের প্রধান প্রকৌশলী (Chief Engineer) হিসেবে খুররম জাহ্ মুরাদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মুসলিম উম্মাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে তিনি এই বিশাল দায়িত্বের জন্য সৌদি সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক বা বেতন গ্রহণ করেননি।
রাজনৈতিক জীবন ও সাংগঠনিক তৎপরতা
ছাত্রজীবন থেকেই খুররম জাহ্ মুরাদ ইসলামী ছাত্র রাজনীতির সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদুদীর চিন্তাধারা দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
ছাত্র রাজনীতি
তিনি পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী জমিয়তে-ই-তালাবা’ (পরবর্তীতে বাংলাদেশে যা ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং বর্তমানে ছাত্রশিবির নামে পরিচিত)-এর প্রাথমিক পর্যায়ের নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৫১-১৯৫২ সেশনে তিনি এই সংগঠনের দ্বিতীয় ‘নাজিম-ই-আ’লা’ (কেন্দ্রীয় সভাপতি) নির্বাচিত হন।
- ইসলামী জমিয়তে-ই-তালাবার সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করাতে এবং এর নিজস্ব সংবিধান (Constitution) প্রণয়নে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। এই সংবিধানের খসড়াটি সম্পূর্ণ তাঁরই তৈরি করা ছিল।
জামায়াতে ইসলামীতে ভূমিকা ও পূর্ব পাকিস্তান অধ্যায়
ছাত্রজীবন শেষে তিনি মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। দলের সাংগঠনিক প্রয়োজনে এবং মেধা বিবেচনায় তাঁকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পাঠানো হয়। তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন এবং এখানকার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর ‘আমীর’ (সভাপতি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- নব্বইয়ের দশকে তিনি পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ‘নায়েবে আমীর’ (সহ-সভাপতি) পদে উন্নীত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিতর্কিত ভূমিকা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ তথা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় খুররম জাহ্ মুরাদের ভূমিকা বাঙালি জাতির ইতিহাসে চরম নেতিবাচক এবং বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত। তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে এবং বাঙালিদের মুক্তিসংগ্রামকে দমন করতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।
আল-বদর বাহিনী ও সামরিক লিয়াজোঁ
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী গঠিত হয়। ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, খুররম জাহ্ মুরাদ আল-বদর বাহিনী গঠনে এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের সশস্ত্র সদস্যদের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে ‘লিয়াজোঁ অফিসার’ (Liaison Officer) বা প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন।
রাজাকার অর্ডিন্যান্স ও কৌশলগত পরামর্শ
কিছু রাজনৈতিক গবেষক ও ঐতিহাসিক তথ্যসূত্রের মতে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জারিকৃত কুখ্যাত ‘রাজাকার অর্ডিন্যান্স’ (যার মাধ্যমে রাজাকার বাহিনীকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়)-এর খসড়া ও নীতিমালা প্রণয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা ছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এ. এম. মালিকের নেতৃত্বাধীন ‘মালিক মন্ত্রিসভা’র সাথে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সুসম্পর্ক ছিল। মুক্তিকামী বাঙালি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ দমনের উদ্দেশ্যে তিনি পাকিস্তানি সামরিক জান্তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলগত পরামর্শ প্রদান করতেন।
ঢাকা ত্যাগ
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে যখন পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন তিনি তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে অবরুদ্ধ ঢাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের ঠিক প্রাক্কালে তিনি গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং পাকিস্তানের লাহোরে চলে যান।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামী দাওয়াহ ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান
১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে তিনি তাঁর দাওয়াতী ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন। তিনি শুধু এশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার ইসলামী আন্দোলনের সাথেও নিবিড়ভাবে যুক্ত হন।
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যুক্তরাজ্য (UK): তিনি যুক্তরাজ্যের লেস্টারে অবস্থিত বিখ্যাত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ (The Islamic Foundation, UK)-এর ডিরেক্টর জেনারেল (মহাপরিচালক) হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের কাছে ইসলামের সঠিক রূপ তুলে ধরা এবং তরুণ মুসলিম প্রজন্মকে সংগঠিত করার কাজ করেন।
- তরজুমানুল কুরআন: জামায়াতে ইসলামীর তাত্ত্বিক মুখপত্র এবং সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদুদী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও লাহোর থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা ‘তরজুমানুল কুরআনের’ সম্পাদকের দায়িত্বও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করেন।
- তরুণদের চরিত্র গঠন: পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অসংখ্য স্টাডি সার্কেল, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম পরিচালনা করেন, যা মুসলিম যুবকদের চরিত্র গঠন ও নেতৃত্ব বিকাশে ভূমিকা রাখে।
লেখক ও চিন্তাবিদ হিসেবে সাহিত্যকর্ম
খুররম জাহ্ মুরাদ একজন অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী লেখক, চিন্তাবিদ ও অনুবাদক ছিলেন। তিনি উর্দু ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার অনেকগুলো পরবর্তী সময়ে বাংলা, আরবিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর লেখার মূল বিষয়বস্তু ছিল ইসলামী আন্দোলন, আত্মশুদ্ধি, তরুণদের নৈতিক উন্নয়ন এবং কুরআন অধ্যয়নের সহজ পদ্ধতি।
তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত বইয়ের নাম নিচে দেওয়া হলো:
১. Way to the Qur’an (কুরআন অধ্যয়নের পথ): এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বইগুলোর একটি। কীভাবে একজন সাধারণ মানুষ কুরআনের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং তা থেকে হেদায়েত লাভ করতে পারে, তা এই বইয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
2. Interpersonal Relations (পারস্পরিক সম্পর্ক): ইসলামী সমাজে মানুষের সাথে মানুষের সামাজিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, তা এই বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য।
৩. Who is Muhammad? (মুহাম্মদ কে?): অমুসলিম ও পশ্চিমা পাঠকদের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের একটি সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনামূলক গ্রন্থ।
৪. দাওয়াতী কাজের পদ্ধতি ও এর দাবী (Urdu: Da’wah systematic approach)
৫. ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক ভিত্তি
৬. শহীদী কাফেলা (উর্দু থেকে অনূদিত জীবনীমূলক গ্রন্থ)

আল্লামা সাঈদী রহ. এর ডান পাশে যাকে দেখা যাচ্ছে খুররম জাহ মুরাদ
মৃত্যু ও মূল্যায়ন
১৯৯৬ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এই বহুমাত্রিক ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মৃত্যুবরণ করেন।
খুররম জাহ্ মুরাদের মূল্যায়ন স্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটভেদে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাকিস্তান এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী পরিমণ্ডলে তাঁকে একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ, অসাধারণ সংগঠক, দক্ষ প্রকৌশলী এবং নিঃস্বার্থ দা’য়ি হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। বিশেষ করে কাবা শরীফের সম্প্রসারণে তাঁর অবৈতনিক অবদান এবং ইউরোপে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ প্রশংসিত।
অপরদিকে, বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি একজন যুদ্ধাপরাধের সহযোগী এবং পাকিস্তানি আগ্রাসনের তাত্ত্বিক মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৭১ সালে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন দমনে আল-বদর ও রাজাকার বাহিনীর সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার কারণে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি একটি নেতিবাচক ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবেই গণ্য হন।
তার কিছু বইয়ের লিংক :
০১. ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদদের পারস্পরিক সম্পর্ক
লেখক : খুররম জাহ্ মুরাদ
০২. ইসলামী নেতৃত্বের গুণাবলী
লেখক : খুররম জাহ্ মুরাদ
০৩. কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা
লেখক : খুররম জাহ্ মুরাদ
০৪.খুররম মুরাদের শেষ অসিয়ত
লেখক : খুররম জাহ্ মুরাদ
০৫. খোশ আমদেদ মাহে রমযান
লেখক : খুররম জাহ্ মুরাদ
০৬. সুবহে সাদিক
লেখক : খুররম জাহ্ মুরাদ





