ইসলামের ইতিহাসে যে কৃতি মনীষীগণ তাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে এক নতুন পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী (রহ.)। ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ শব্দের অর্থ ‘ইসলামের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ’। দর্শন, ফিকহ (ইসলামী আইনশাস্ত্র), আকীদা (বিশ্বাস) এবং তাসাউফ (আধ্যাত্মিকতা)—সব ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদানের কারণে তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়। নিচে তাঁর জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আলোচনা করা হলো:
১. জন্ম ও জন্মস্থান
ইমাম গাযযালী (রহ.) ১০৫৮ খ্রিষ্টাব্দে (৪৫০ হিজরি) পারস্যের (বর্তমান ইরান) খোরাসান প্রদেশের তুস (Tus) নগরীর অন্তর্গত ‘গাযালা’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-গাযযালী। তাঁর নামের শেষে ‘গাযযালী’ যুক্ত হওয়ার পেছনে দুটি মত রয়েছে—এক পক্ষ মনে করেন তাঁর গ্রাম বা বংশের নাম ‘গাযালা’ থেকে এটি এসেছে; অন্য পক্ষের মতে, তাঁর পিতা সুতা কাটতেন বা পশম বিক্রি করতেন (আরবিতে ‘গাযযাল’ অর্থ সুতা কাটুনি), তাই তাঁকে গাযযালী বলা হতো।
২. পিতামাতা ও শৈশব
ইমাম গাযযালীর পিতা ছিলেন অত্যন্ত সৎ, পরহেজগার এবং দরবেশ ভাবাপন্ন একজন মানুষ। তিনি নিজে খুব বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষিত না হলেও আলেম ও জ্ঞানীদের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তিনি সবসময় আল্লাহর কাছে দুআ করতেন যেন তাঁর সন্তানরা মস্ত বড় আলেম হতে পারেন।
তাঁর পিতা মৃত্যুর পূর্বে তাঁর দুই সন্তান—মুহাম্মদ (ইমাম গাযযালী) এবং আহমদ (যিনি পরবর্তীকালে প্রখ্যাত ওয়ায়েজ ও সূফী হয়েছিলেন)—কে তাঁর এক বিশ্বস্ত সূফী বন্ধুর দায়িত্বে রেখে যান। পিতার রেখে যাওয়া সামান্য সম্পদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, সেই দরিদ্র সূফী বন্ধু তাঁদেরকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। ইমাম গাযযালী পরবর্তী জীবনে অকপটে স্বীকার করেছেন, “আমরা প্রথমে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করিনি, বরং খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার তাগিদে করেছিলাম; কিন্তু জ্ঞান নিজেই আমাদের পরে আল্লাহর মুখাপেক্ষী করে তুলল।”
৩. শিক্ষাজীবন ও জ্ঞান সাধনা
ইমাম গাযযালী (রহ.)-এর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ জন্মভূমি তুস নগরীতেই। সেখানে তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-রাযকানী নামক একজন স্থানীয় আলেমের কাছে ফিকহ শাস্ত্রের পাঠ নেন।
জুরজান ও নিশাপুরে উচ্চশিক্ষা
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি তুস ছেড়ে জুরজান নামক শহরে পাড়ি জমান এবং ইমাম আবু নাসর ইসমাইলীর অধীনে পড়াশোনা করেন। জুরজান থেকে ফিরে এসে তিনি তৎকালীন ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র নিশাপুরে যান। নিশাপুরের নিজামিয়া মাদ্রাসায় তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠতম আলেম এবং আশআরী কালাম শাস্ত্রের ইমাম, ইমামুল হারামাইন আবু মাআলী আল-জুওয়াইনী (রহ.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন।
ইমাম জুওয়াইনী তাঁর এই ছাত্রের মেধা দেখে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে “এক অগাধ সমুদ্র” বলে আখ্যায়িত করেন। এখানে থাকা অবস্থায়ই ইমাম গাযযালী ফিকহ, উসুল, কালাম (ধর্মতত্ত্ব), দর্শন ও যুক্তিবিদ্যায় পূর্ণ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১০৮৫ খ্রিষ্টাব্দে উস্তাদ ইমামুল হারামাইনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর সাথেই ছিলেন।
৪. কর্মজীবন: রাজকীয় গৌরব ও আধ্যাত্মিক রূপান্তর
উস্তাদের মৃত্যুর পর ইমাম গাযযালী সেলজুক সাম্রাজ্যের বিখ্যাত উজির নিজামুল মুলক-এর দরবারে গমন করেন। নিজামুল মুলক জ্ঞানীদের কদর করতেন। ইমাম গাযযালীর অগাধ পাণ্ডিত্য দেখে তিনি ১০৯১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁকে বাগদাদের বিখ্যাত নিজামিয়া মাদ্রাসার প্রধান অধ্যাপক (রেক্টর) হিসেবে নিযুক্ত করেন।
বাগদাদে তাঁর কর্মজীবন ছিল অভাবনীয় সাফল্যের। তাঁর পাঠদানে শত শত আলেম, রাজপুত্র ও বুদ্ধিজীবী সমবেত হতেন। তিনি একই সাথে রাজদরবারের উপদেষ্টা এবং মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবীতে পরিণত হন।
জীবনের মোড় পরিবর্তন ও নির্জনতা অবলম্বন
সাফল্যের চরম শিখরে থাকা অবস্থায়, ১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দে ইমাম গাযযালীর মনে এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক সংকট তৈরি হয়। তিনি উপলব্ধি করেন যে, তাঁর এই শিক্ষকতা ও খ্যাতির পেছনে আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে জাগতিক অহংকার ও যশের আকাঙ্ক্ষা মিশে আছে। এই আত্মিক সংকটে তাঁর কণ্ঠ রোধ হয়ে যায়, তিনি খাবার ও কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন।
অবশেষে ১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে তিনি বাগদাদের রাজকীয় জীবন, পরিবার ও সমস্ত ধন-সম্পদ ত্যাগ করে একজন সাধারণ মুসাফিরের বেশে গোপনে দামেস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি দীর্ঘ ১১ বছর সিরিয়া, জেরুজালেম, মক্কা ও মদিনায় নির্জন সাধনায় (খলওয়াত) কাটান। এ সময় তিনি দামেস্কের জামে মসজিদের মিনারে নির্জনে আল্লাহর ইবাদত ও নিজের নফসের সংশোধনে মগ্ন থাকতেন। এই আধ্যাত্মিক সাধনাই তাঁকে পরবর্তীকালে ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন জীবন দান করে।
৫. ইসলামে কৃতিত্ব ও অবদান
ইমাম গাযযালী (রহ.) এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন যখন মুসলিম সমাজ গ্রীক দর্শনের অন্ধ অনুকরণ, বাতেনী (গুপ্ত চরমপন্থী) সম্প্রদায়ের বিভ্রান্তি এবং ফিকহবিদদের শুধু বাহ্যিক আচারসর্বস্বতার কারণে ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছিল। ইসলামে তাঁর মূল অবদানগুলোকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
- গ্রীক দর্শনের অসারতা প্রমাণ: তিনি অত্যন্ত নিখুঁত যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে, আধ্যাত্মিক ও ঐশ্বরিক সত্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি বা দর্শন সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তিনি দার্শনিকদের ইসলাম বিরোধী কুফর ও বিভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করে দেন, যা মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজকে এক মহাসংকট থেকে রক্ষা করে।
- শরিয়ত ও তাসাউফের সমন্বয়: তাঁর অন্যতম বড় কৃতিত্ব হলো তিনি তাসাউফ বা সূফীবাদকে ইসলামের মূলধারা বা শরিয়তের কাঠামোর মধ্যে ফিরিয়ে আনেন। তিনি দেখান যে, বাহ্যিক শরিয়তের আমল ছাড়া আধ্যাত্মিকতা অর্থহীন, আবার অন্তরের নিষ্ঠা (ইখলাস) ও আধ্যাত্মিকতা ছাড়া শুধু বাহ্যিক আমল প্রাণহীন দেহের মতো।
- ধর্মীয় চেতনার পুনরুজ্জীবন (তাজদীদ): তিনি মুসলিম উম্মাহর নৈতিক অবক্ষয় দূর করে ইসলামের আসল রূপ ও আখলাক (চরিত্র) পুনরুজ্জীবিত করেন। এজন্য তাঁকে ইসলামের ইতিহাসে ‘পঞ্চম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ’ বা ধর্ম সংস্কারক বলা হয়।
৬. বিখ্যাত গ্রন্থাবলী
ইমাম গাযযালী (রহ.) তাঁর জীবদ্দশায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। তাঁর লেখার শৈলী ছিল অত্যন্ত সাবলীল ও যুক্তিপূর্ণ। তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি বইয়ের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| গ্রন্থের নাম | বিষয়বস্তু |
| এহয়াউ উলুমিদ্দীন (Ihya’ Ulum al-Din) | এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ। চার খণ্ডে বিভক্ত এই বইটিতে শরিয়ত, আত্মশুদ্ধি, মনস্তত্ত্ব ও সমাজ সংস্কারের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, ইসলামের সমস্ত জ্ঞান হারিয়ে গেলেও এই একটি বই তা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম। |
| তাহাফুতুল ফালাসিফাহ (The Incoherence of the Philosophers) | এই গ্রন্থে তিনি এরিস্টটল, প্লাটো, আল-ফারাবি এবং ইবনে সিনার গ্রীক দর্শনভিত্তিক ২০টি তত্ত্বের যৌক্তিক ব্যবচ্ছেদ করেছেন এবং ইসলামের আকিদার সাথে তাদের অসামঞ্জস্যতা প্রমাণ করেছেন। |
| আল-মুঙ্কীযুমিনাদ দলাল (Deliverance from Error) | এটি ইমাম গাযযালীর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এতে তিনি বাগদাদ ত্যাগ করার পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণ এবং সত্যের সন্ধানে তাঁর বিভিন্ন মতবাদ (দার্শনিক, বাতেনী, সূফী) যাচাইয়ের অভিজ্ঞতা চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। |
| কিমিয়ায়ে সা’আদাত (The Alchemy of Happiness) | ‘এহয়াউ উলুমিদ্দীন’ গ্রন্থের সারসংক্ষেপ হিসেবে এটি তিনি সাধারণ মানুষের জন্য প্রথমে ফারসি ভাষায় রচনা করেছিলেন, যা আত্মিক সুখের এক অনন্য গাইড। |
| বিদায়েতুল হেদায়াহ (The Beginning of Guidance) | একজন মুমিনের দৈনিক জীবন কেমন হওয়া উচিত, তার তাকওয়া এবং আদব-কায়দা নিয়ে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী বই। |
৭. বর্তমান অবস্থা: তাঁর সমাধি ও প্রাসঙ্গিকতা
ইমাম গাযযালী (রহ.) জীবনের শেষভাগে নিজ জন্মভূমি তুস নগরীতে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি একটি খানকাহ এবং মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার্থীদের কুরআন ও হাদিসের পাঠ দিতেন। ১১১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর (১৪ জমাদিউস সানি, ৫০৫ হিজরি) এই মহান মনীষী ৫৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
সমাধি ক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থা
ইমাম গাযযালী (রহ.)-এর সমাধি বর্তমান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মাশহাদ শহরের কাছে তুস (Tus) নগরীর প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবস্থিত। বহু বছর ধরে তাঁর সঠিক কবরের অবস্থান নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল, কারণ প্রাচীন তুস নগরীটি চেঙ্গিস খানের আক্রমণের সময় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
তবে বর্তমান সময়ে ইরান সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের প্রচেষ্টায় তুসের ‘হারুনিয়া’ কাঠামোর কাছাকাছি তাঁর মূল কবরটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে একটি সাধারণ কিন্তু সম্মানজনক স্মারক ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিম গবেষক ও সাধারণ দর্শনার্থীরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে গমন করেন।
বর্তমান বিশ্বে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা
আজকের আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক পৃথিবীতেও ইমাম গাযযালীর চিন্তাধারা সমাদৃত। পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড) তাঁর মনস্তত্ত্ব ও দর্শন নিয়ে নিয়মিত গবেষণা হয়। বর্তমান যুগের বস্তুবাদী মানসিকতা এবং মানসিক অস্থিরতা দূরীকরণে তাঁর ‘আত্মশুদ্ধি’ ও ‘এহয়াউ উলুমিদ্দীন’-এর শিক্ষা আগের চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
তার লিখিত কিছু কিতাব হলো :
০১. এহইয়াউ উলুমিদ্দীন
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী রহ

হিলিয়াতুল আউলিয়া বা এহইয়াউ উলুমিদ্দীন (দ্বীনি এলেমের পুনরুজ্জীবন) মুসলিম সাহিত্য ও আধ্যাত্মিক জগতের এক কালজয়ী ও বিস্ময়কর মহাকাব্য। ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, ফকিহ ও সুফি সাধক হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী (রহ.)-এর অমর সৃষ্টি এটি। তৎকালীন মুসলিম সমাজে যখন গ্রিক দর্শন ও বস্তুবাদের প্রভাবে মানুষের আত্মিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছিল, তখন তিনি ইসলামের প্রকৃত আত্মাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এই মহাগ্রন্থটি রচনা করেন।
গ্রন্থটি মূলত শরিয়ত ও তরীকতের এক অপূর্ব সমন্বয়। এতে কেবল বাহ্যিক ইবাদতের নিয়ম-কানুনই আলোচনা করা হয়নি, বরং ইবাদতের ভেতরের আধ্যাত্মিক রহস্য, অন্তরের ব্যাধি ও তা থেকে মুক্তির উপায় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বাংলা অনুবাদ ও খণ্ড বিন্যাস
বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য এই অমূল্য রত্নভাণ্ডারটি ৫টি খণ্ডে অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। খণ্ডগুলোর বিন্যাস মূলত ইমাম গাযযালী (রহ.)-এর মূল পরিকল্পনার আলোকেই করা হয়েছে:
- ১ম খণ্ড (ইবাদত): জ্ঞান, আকাইদ, পবিত্রতা, নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজের মতো মৌলিক ইবাদতগুলোর ভেতরের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা।
- ২য় খণ্ড (আদাত বা অভ্যাস): খাওয়া-দাওয়া, বিবাহ, উপার্জন, হালাল-হারাম, বন্ধুত্বের পরিভাষা ও সামাজিক আচার-আচরণের ইসলামি আদব।
- ৩য় খণ্ড (মুহলিকাত বা ধ্বংসাত্মক বিষয়): অহংকার, রিয়া (লোকদেখানো ইবাদত), হিংসা, লোভ, রাগ এবং অন্তরের যাবতীয় অন্ধকার দিক ও তা দূর করার উপায়।
- ৪র্থ ও ৫ম খণ্ড (মুঞ্জিয়াত বা মুক্তিদায়ক বিষয়): তওবা, সবর (ধৈর্য), শোকর (কৃতজ্ঞতা), আল্লাহর ভয়, আশা, খোদাভীতি, আত্মশুদ্ধি এবং মৃত্যুর পরের অনন্ত জীবনের প্রস্তুতি।
“যদি পৃথিবীর সমস্ত ইসলামি বই হারিয়ে যায় এবং কেবল ‘এহইয়াউ উলুমিদ্দীন’ বাকি থাকে, তবে তা মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখাতে সক্ষম।” — ইমাম নববী (রহ.)
পাচ খণ্ডের এই বাংলা সংস্করণটি প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান এবং আত্মশুদ্ধির সেরা গাইডবুক। আত্মিক উন্নয়ন ও খাঁটি মুমিন হওয়ার ব্যাকুলতা যাদের মনে আছে, তাদের জন্য এই গ্রন্থটি পড়া আবশ্যক।
বইটি সকল খণ্ডে ডাইনলোড লিংখক :
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৫ | পঞ্চম খণ্ড | ডাউনলোড |
০২. সৌভাগ্যের পরশমণি

কিমিয়ায়ে সাআদাত (বাঙালির কাছে যা ‘সৌভাগ্যের পরশমণি’ নামে সমধিক পরিচিত) হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক দর্শনের এক অনন্য ও অমর ক্লাসিক। মূলত তাঁর বিখ্যাত চার খণ্ডের আরবি গ্রন্থ ‘এহইয়াউ উলুমিদ্দীন’-এর সারসংক্ষেপ হিসেবে তিনি নিজেই এটি সাধারণ ফার্সিভাষী পাঠকদের জন্য রচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে বাংলায় অনূদিত হয়ে এটি এ অঞ্চলের মানুষের আত্মশুদ্ধির অন্যতম প্রধান উপাদানে পরিণত হয়।
‘কিমিয়া’ শব্দের অর্থ রসায়ন বা পরশমণি, যা সস্তা ধাতুকে সোনায় রূপান্তর করে; আর ‘সাআদাত’ মানে সৌভাগ্য। ইমাম গাযযালী (রহ.) এই গ্রন্থে দেখিয়েছেন কীভাবে আধ্যাত্মিক সাধনা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষ তার কলুষিত অন্তরকে খাঁটি সোনায় রূপান্তর করে ইহকাল ও পরকালের চরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারে।
গ্রন্থটি মূলত চারটি মূল স্তম্ভ বা চাবুকের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে:
- আত্মপরিচয় (খোদশেনাসী): নিজেকে জানার মাধ্যমেই পরম সত্তাকে চেনা সম্ভব।
- আল্লাহর পরিচয় (খোদাশেনাসী): সৃষ্টিজগতের রহস্য ও নিজের অস্তিত্বের মাধ্যমে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করা।
- জগৎ-পরিচয় (দুনিয়াশেনাসী): এই পৃথিবীর অসারতা ও ক্ষণস্থায়িত্বকে চেনা।
- পরকাল-পরিচয় (আখেরাতশেনাসী): অনন্ত জীবনের সম্বল ও প্রস্তুতির গুরুত্ব।
“যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে।” — এই বিখ্যাত দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই ইমাম গাযযালী (রহ.) পুরো বইয়ের আধ্যাত্মিক ও ব্যবহারিক আলোচনা সাজিয়েছেন।
সহজ সরল ভাষা, চমৎকার সব উপমা আর বাস্তবমুখী উদাহরণের কারণে শত শত বছর ধরে এই বইটি আত্মিক ব্যাধির মহৌষধ এবং খাঁটি মানুষ হওয়ার এক অপূর্ব গাইডবুক হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে।
বইটি সকল খণ্ডে ডাইনলোড লিংখক :
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
০৩. মুকাশাফাতুল কুলুব ০২ খণ্ড
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

০৪. রিয়া : লোকদেখানো ইবাদত
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

০৫. আখিরাত
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
০৬.আজাবের ভয় ও রহমতের আশা
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

০৭. মিশকাতুল আনওয়ার
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
০৮. ইসলামী আকীদা
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
০৯. ইসলামে দারিদ্রতা
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১০. ক্রোধ হিংসা অনিষ্ট ও প্রতিকার
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১১. গীবত
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১২. জবানের ক্ষতি
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১৩.দাকায়েকুল আখবার
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১৪. ধন সম্পদের লোভ ও কৃপণতা
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১৫. ভ্রান্তির অপনোদন
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১৬. মাকতুবাত
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১৭. মাজালিসে গাযযালী
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

১৮. মিনহাজুল আবেদীন
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
১৯. মৃত্যু চিন্তা
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
২০. রূহ কি এবং কেন
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
২১. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
২২. সবর ও শোকর
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
২৩. সিয়াম সাধনা ও শান্তির পথ
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
২৪. সৃষ্টি দর্শন
লেখক : ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

















