ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা: ইসলামী সাহিত্যের বরপুত্র ও কালজয়ী জীবনীকার
ইসলামী সাহিত্য, জীবনীগ্রন্থ এবং আরবী ভাষা ও গবেষণার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা। বিংশ শতাব্দীর এই মহান মণীষী সিরিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং সাহিত্য সাধনার আলোকবর্তিকা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাহাবী, সাহাবীয়াত এবং তাবেয়ীগণের পুণ্যময় জীবনকে অত্যন্ত প্রাঞ্জল, হৃদয়গ্রাহী এবং অনুপম সাহিত্যশৈলীতে উপস্থাপন করে তিনি বিশ্ব মুসলিমের অন্তরে অমর আসন লাভ করেছেন। তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ—‘সুয়ারুম মিন হায়াতিস সাহাবা’ (সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন), ‘সুয়ারুম মিন হায়াতিস সাহাবিয়াত’ এবং ‘সুয়ারুম মিন হায়াতিত তাবেয়িন’ আজ আরবী সাহিত্যের অনন্য কালজয়ী সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত।
১. জন্ম ও শৈশবকাল: এক এতিম শিশুর সংগ্রামী সূচনা
ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ৪ এপ্রিল (মোতাবেক ১৭ রমজান ১৩৩৮ হিজরী) উত্তর সিরিয়ার ইদলিব provinces বা প্রদেশের অন্তর্গত ঐতিহাসিক ও প্রাচীন শহর ‘আরিহা’-তে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং প্রতিকূলতায় ঘেরা। জন্মের মাত্র চার মাস বয়সে তিনি তাঁর পিতাকে হারান। পিতৃস্নেহ বঞ্চিত এই শিশুর দুঃখের এখানেই শেষ ছিল না; তাঁর বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তাঁর মা অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফলে শৈশবের শুরুতেই তিনি সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েন।
তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে তাঁর দাদা তাঁর লালন-পালনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দাদার আদর-স্নেহ এবং কঠোর তত্ত্বাবধানেই তিনি বেড়ে উঠতে থাকেন। তাঁর দাদা ছিলেন একজন অত্যন্ত দ্বীনদার ও জ্ঞানানুরাগী ব্যক্তি। দাদার বিশাল ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ছিল, যা রাফাত পাশার মনে শৈশবেই বই পড়ার ও জ্ঞান অর্জনের এক গভীর তৃষ্ণা তৈরি করে দেয়। তিনি দাদার সংগ্রহে থাকা পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা, তাফসীর, হাদীস শাস্ত্র এবং প্রাচীন ফিকহের জটিল কিতাবগুলোর সাথে খুব অল্প বয়সেই পরিচিত হন।
২. শিক্ষাজীবন: সিরিয়া থেকে আল-আজহার এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়
ড. রাফাত পাশার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় তাঁর জন্মভূমি আরিহা শহরে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি তাঁর মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং সমগ্র প্রদেশে প্রথম স্থান অধিকার করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এরপর তাঁর দাদার ইচ্ছা ও পরামর্শ অনুযায়ী তিনি সিরিয়ার প্রাচীনতম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী শরয়ী শিক্ষাকেন্দ্র হালাব (আলেপ্পো) শহরের ‘মাদরাসা খুরভিয়া’ (আল-মাদরাসা আল-খুসরোভিয়া)-তে ভর্তি হন। ১৯৪১ সালে তিনি সেখান থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (শরীয়া ডিপ্লোমা) সম্পন্ন করেন।
এরপর উচ্চশিক্ষার প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি মিশরের রাজধানী কায়রোতে গমন করেন। সেখানে তিনি ইসলামের সর্বপ্রধান বিদ্যাপীঠ ‘আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়’-এর উসূলে দ্বীন (Theology) অনুষদে ভর্তি হন। ১৯৪৩ সালে তিনি সেখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৪৭ সালে শিক্ষাদানের ওপর বিশেষ লাইসেন্স বা ইজাজাহ অর্জন করেন।
আরবী ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল সীমাহীন। এই অনুরাগের টানেই তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন ফুয়াদ প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়) আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৪৮ সালে লিসেন্স বা স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। জ্ঞানার্জনের এই ধারা এখানেই থেমে থাকেনি। ১৯৬৫ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবী সাহিত্য ও সমালোচনার ওপর স্নাতকোত্তর (এম.এ) ডিগ্রি লাভ করেন। সর্বশেষে, ১৯৬৭ সালে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবী সাহিত্য ও সমালোচনা (Literature and Criticism) বিষয়ে পিএইচডি (ডক্টরেট) ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার গভীরতা ও মান তৎকালীন পণ্ডিত মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।
৩. কর্মজীবন: শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও আরবী ভাষার সেবা
ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা তাঁর কর্মজীবনের সিংহভাগ ব্যয় করেছেন শিক্ষকতা, সাহিত্য চর্চা এবং গবেষণামূলক কাজে। ডক্টরেট লাভের পূর্বে ও পরে তিনি সিরিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানে আরবী ভাষার শিক্ষক ও পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মেধা ও যোগ্যতার কারণে তিনি দ্রুতই সিরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরবী ভাষা বিভাগের প্রধান পরিদর্শক (Chief Inspector) পদে উন্নীত হন।
এরপর তিনি দামেস্কের ঐতিহ্যবাহী ‘دار الكتب الظاهرية’ (দারুল কুতুব আদ-জাহিরিয়াহ বা জাহিরিয়া লাইব্রেরি)-এর পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। এই লাইব্রেরিটি ছিল আরবী পাণ্ডুলিপি ও প্রাচীন গ্রন্থের এক বিশাল ভাণ্ডার। এখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রাচীন আরবী সাহিত্যকে খুব কাছ থেকে দেখার এবং গবেষণার এক অনন্য সুযোগ লাভ করেন। একই সাথে তিনি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে লেকচার দিতে শুরু করেন।
১৯৬৪ সালে ড. রাফাত পাশা একটি রাষ্ট্রীয় ও একাডেমিক সফরে সৌদি আরব গমন করেন। সেখানে তাঁর জ্ঞান এবং আরবী সাহিত্যের ওপর প্রগাঢ় পণ্ডিত্য দেখে রিয়াদের বিখ্যাত ‘ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্তৃপক্ষ তাঁকে স্থায়ীভাবে অধ্যাপনার প্রস্তাব দেয়। তিনি এই প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করেন এবং রিয়াদে স্থায়ী হন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ২২ বছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা অনুষদের ‘বালাগাত ও সমালোচনা’ (Rhetoric and Criticism) বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘ইসলামী সাহিত্য’ (Islamic Literature) বিভাগের প্রধান এবং গবেষণা ও প্রকাশনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নে অসংখ্য নতুন কোর্স চালু করেন। তাঁর অধীনে বহু শিক্ষার্থী এম.এ এবং পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন, যারা পরবর্তীতে বিশ্ববিখ্যাত স্কলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
৪. ইসলামী সাহিত্যে অবদান ও অনন্য রচনাশৈলী
ইসলামী সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে এবং এর আধুনিক রূপায়ণে ড. রাফাত পাশার অবদান যুগান্তকারী। তিনি মনে করতেন, সাহিত্য কেবল আমোদ-প্রমোদের মাধ্যম নয়, বরং এটি ঈমান জাগ্রত করার এবং ইসলামের মহান আদর্শকে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। তিনি তাঁর সাহিত্যিক কাজকে প্রধানত দুটি ধারায় বিভক্ত করেছিলেন:
- ক) দাওয়াতী কবিতার সাহিত্যিক সমালোচনা: ইসলামের স্বর্ণযুগে, বিশেষ করে আব্বাসীয় আমলে রচিত বিপুল পরিমাণ দাওয়াতী ও আধ্যাত্মিক কবিতা সম্ভারকে তিনি আধুনিক সাহিত্যের নিক্তিতে মেপে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘শেলু আদ-দাওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ ইনাল আব্বাসিয়্যিন’ এর এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- খ) জীবনী সাহিত্যের আধুনিক রূপায়ণ: ইসলামের ইতিহাসকে শুষ্ক তথ্যের আড়াল থেকে বের করে জীবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী করে তোলার জন্য তিনি এক নতুন ঘরানার জন্ম দেন। তিনি ইসলামের ইতিহাস থেকে খ্যাত এবং সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা বিস্মৃত মনীষীদের জীবনকে উপন্যাসের মতো আকর্ষণীয় অথচ শতভাগ সত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেন।
তাঁর অমর গ্রন্থত্রয়ী:
১. সুয়ারুম মিন হায়াতিস সাহাবা (صور من حياة الصحابة – সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন): এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও যুগান্তকারী কাজ। এই গ্রন্থে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুমহান সাহাবীদের জীবনের বীরত্ব, ত্যাগ, ঈমানী দৃঢ়তা এবং সুন্দর চরিত্রকে অত্যন্ত জাদুকরী ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন। বইটি পড়ার সময় পাঠক নিজেকে মদীনার সেই সোনালী যুগে আবিষ্কার করেন।
২. সুয়ারুম মিন হায়াতিস সাহাবিয়াত (صور من حياة الصحابيات – নারী সাহাবিদের ঈমানদীপ্ত জীবন): ইসলামের প্রসারে এবং ঈমান রক্ষায় নারী সাহাবীদের যে অপরিসীম কোরবানি ও অবদান ছিল, তা তিনি এই গ্রন্থে অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।
৩. সুয়ারুম মিন হায়াতিত তাবেয়িন (صور من حياة التابعين – তাবেয়ীদের আলোকোজ্জ্বল জীবন): সাহাবীদের পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ তাবেয়ীগণের জ্ঞান সাধনা, তাকওয়া এবং সমাজ সংস্কারের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তিনি এই গ্রন্থে সুনিপুণভাবে অঙ্কন করেছেন।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আদ-দ্বীন আল-কাইয়িম (الدين القيم)
- লুগাতুল মুস্তাকবিল (لغة المستقبل)
- ইলমুল উসূল (علم الأصول)
- খাসায়িসুল কাসাসিল ইসলামিয়্যাহ (خصائص القصص الإسلامية)
৫. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভূমিকা ও ইসলামী সাহিত্য আন্দোলন
ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা কেবল একজন গৃহকোণের লেখক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন আন্তর্জাতিক সংগঠক। ১৯৮০ সালে ভারতের লখনৌতে অবস্থিত বিখ্যাত নদওয়াতুল উলামায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী সাহিত্য সেমিনার’-এ তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে যখন ‘বিশ্ব ইসলামী সাহিত্য সংস্থা’ (রابطة الأدب الإسلامي العالمية – League of Islamic Literature) গঠিত হয়, তখন ড. রাফাত পাশাকে সর্বসম্মতিক্রমে এই আন্তর্জাতিক সংস্থার সহ-সভাপতি (Vice President) এবং আরব বিশ্বের regional বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইসলামী সাহিত্যের জোয়ার তৈরিতে কাজ করে গেছেন।
৬. ব্যক্তিগত জীবন ও উম্মাহর প্রতি দরদ
ব্যক্তিগত জীবনে ড. রাফাত পাশা ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র, মুত্তাকী এবং উম্মাহর ব্যথায় ব্যথিত একজন মানুষ। তাঁর ছাত্র ও সমসাময়িক পণ্ডিতদের মতে, তিনি যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলতেন, তখন তাঁর বাগ্মিতা এবং আরবী ভাষার শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল উচ্চারণ শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত। তিনি কোনো প্রকার কৃত্রিম বিলাসিতা পছন্দ করতেন না। তাঁর সমস্ত মনোযোগ ছিল দ্বীনের খিদমত এবং মুসলিম তরুণ সমাজকে তাদের গৌরবময় সোনালী ইতিহাসের সাথে সুনিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দিকে।
৭. অসুস্থতা, ইন্তেকাল ও দাফন
জীবনের শেষভাগে এসে এই মহান মণীষী কঠোর পরিশ্রম ও নিরলস সাহিত্য সাধনার কারণে মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হন। ৬৬ বছর বয়সে আচমকা প্যারালাইসিসের (ক্ষাঘাত) কারণে তাঁর শরীরের একাংশ সম্পূর্ণ অবশ বা বিকল হয়ে যায়। এর ফলেও তাঁর জ্ঞান চর্চায় কিন্তু কোনো ভাটা পড়েনি; তিনি শয্যাশায়ী অবস্থাতেও ডিক্টেশনের মাধ্যমে লেখালেখি সচল রাখার চেষ্টা করেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শে এবং একটু আবহাওয়া পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে তিনি তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর ইস্তাম্বুলে গমন করেন।
ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালেই তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। অবশেষে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুলাই (মোতাবেক ১১ জিলকদ ১৪০৬ হিজরী) শুক্রবার রাতে, ইসলামের এই মহান সেবক, আরবী সাহিত্যের বরপুত্র ইহধাম ত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ‘ফাতেহ মসজিদ’-এ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে তাঁকে ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত ‘ফাতেহা গোরস্তান’ (বা এয়ুব সুলতান গোরস্তানের অংশবিশেষ)-এ সমাহিত করা হয়। এটি সেই বরকতময় স্থান যেখানে ইসলামের ইতিহাসের বহু বীর, উসমানীয় খলীফা এবং বিখ্যাত ওলামা শুয়ে আছেন।
উপসংহার
ড. আব্দুর রহমান রাফাত পাশা আজ আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া সাহিত্য ও জ্ঞান এবং বিশেষ করে সাহাবীদের জীবনের ওপর লেখা গ্রন্থসমূহ কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ে ঈমানের মশাল জ্বালিয়ে রাখছে। বাংলাভাষী পাঠকদের কাছেও তাঁর অনূদিত বইগুলো (যেমন: সাহাবীদের আলোকিত জীবন, ঈমানদীপ্ত জীবন) অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সর্বাধিক পঠিত বইয়ের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ইসলামী সাহিত্যকে আধুনিক যুগের উপযোগী এবং আকর্ষণীয় করে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি যে অনন্য দৃষ্টান্ত ও মানদণ্ড স্থাপন করে গেছেন, তা অনাগত প্রজন্মের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই মহান দ্বীনি খিদমতকে কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।
তার কিছু বইয়ের লিংক
০১. আলোর মিছিল
লেখক : ড. আবদুর রহমান রাফাত পাশা

০২. আলোর কাফেলা
লেখক : ড. আবদুর রহমান রাফাত পাশা

০৩. সাহাবীদের জীবন চিত্র
লেখক : ড. আবদুর রহমান রাফাত পাশা

০৪.নারী সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবন
লেখক : ড. আবদুর রহমান রাফাত পাশা
০৫. সাহাবীদের বিপ্লবী জীবন
লেখক : ড. আবদুর রহমান রাফাত পাশা

