ইমাম নববী (রহ.): জীবন, জ্ঞানসাধনা ও কালজয়ী কর্ম
ভূমিকা:
ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে যে কজন মনীষী তাদের প্রজ্ঞা, তাকওয়া (আল্লাহভীতি) এবং কালজয়ী রচনাবলীর মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম নববী (রহ.)। তিনি একাধারে অনন্য হাফেজে হাদিস, ক্ষুরধার ফকিহ (আইনবিদ), বিশিষ্ট শাফেয়ী মাজহাবের সংস্কারক এবং আধ্যাত্মিক সাধক ছিলেন। মাত্র ৪৫ বছরের এক সংক্ষিপ্ত জীবন পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ করে হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, তা শত শত বছর ধরে সমভাবে সমাদৃত। তার সংকলিত ‘রিয়াদুস সালেহীন’ এবং ‘চল্লিশ হাদিস’ (আর্বাইন) বিশ্বের এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে পঠিত হয় না।
১. নাম, বংশ পরিচয় ও উপাধি
ইমাম নববীর পূর্ণ নাম হলো—আবু জাকারিয়া মহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুকরী ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুমা ইবনে হিযাম আল-হুজামী আন-নববী আশ-শাফেয়ী।
- কুনিয়াত বা উপনাম: তার উপনাম ছিল ‘আবু জাকারিয়া’। যদিও তিনি আজীবন অবিবাহিত ছিলেন এবং তার কোনো সন্তান ছিল না, তবুও আরবীয় প্রথা অনুযায়ী তাকে এই উপনামে ডাকা হতো।
- লকব বা উপাধি: তাকে ‘মহিউদ্দিন’ (দ্বীনের জীবনদানকারী) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তবে অত্যন্ত বিনয়ী ও খোদাভীরু এই ইমাম নিজে এই উপাধিটি অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, “ইসলাম নিজেই একটি জীবন্ত ও শক্তিশালী আদর্শ, একে বাঁচিয়ে তোলার জন্য অন্য কারো উপাধির প্রয়োজন নেই। যে ব্যক্তি আমাকে ‘মহিউদ্দিন’ বলবে, আমি তাকে ক্ষমা করব না।”
- ‘নববী’ নামের উৎস: তার জন্মস্থান ‘নওয়া’ (Nawa) গ্রামের দিকে সম্বন্ধ করে তাকে ‘নববী’ বা ‘আন-নববী’ বলা হয়।
২. জন্ম ও শৈশবকাল
ইমাম নববী (রহ.) হিজরি ৬৩১ সনের মুহাররম মাসে (অক্টোবর ১২৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) সিরিয়ার দামেস্কের অদূরে ‘হাওরান’ অঞ্চলের ‘নওয়া’ নামক একটি ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শরাফ ইবনে মুকরী ছিলেন একজন অত্যন্ত সৎ, পরহেজগার এবং ধার্মিক ব্যবসায়ী।
শৈশব থেকেই ইমাম নববীর মধ্যে দুনিয়াবিমুখতা এবং তীব্র জ্ঞানতৃষ্ণার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। সমবয়সী শিশুরা যখন খেলাধুলায় মত্ত থাকত, তিনি তখন খেলাধুলা এড়িয়ে চলতেন। উম্মাহর প্রখ্যাত সাধক শেখ ইয়াসিন বিন ইউসুফ আল-মারাকশী একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমি যখন নওয়া গ্রামে প্রথম ইমাম নববীকে দেখি, তখন তিনি দশ বছরের এক বালক। অন্য শিশুরা তাকে জোর করে খেলায় নিতে চাচ্ছিল, আর তিনি কান্না করছিলেন এবং খেলা থেকে বাঁচার জন্য পবিত্র কুরআন তিলওয়াত করছিলেন। তখনই আমার মনে হয়েছিল, এই শিশুটি আগামী দিনে যুগের সবচেয়ে বড় আলেম ও জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) হবেন।” শেখ ইয়াসিন ইমাম নববীর পিতাকে তার পড়াশোনার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন।
৩. দামেস্কে হিজরত ও উচ্চশিক্ষা লাভ
নওয়া গ্রামে উচ্চশিক্ষার তেমন কোনো উন্নত পরিবেশ না থাকায়, হিজরি ৬৪৯ সনে (১২৫১ খ্রিষ্টাব্দ) মাত্র ১৮-১৯ বছর বয়সে ইমাম নববীর পিতা তাকে তৎকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্রস্থল দামেস্কে নিয়ে আসেন। দামেস্কে এসে তিনি বিখ্যাত ‘মাদ্রাসা আর-রাওয়াহিয়্যাহ’-তে ভর্তি হন।
দামেস্কের ছাত্রজীবন ছিল অত্যন্ত কঠোর ও কঠোর পরিশ্রমের। ইমাম নববী নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, দামেস্কে আসার পর প্রথম দুই বছর তিনি পড়াশোনার তীব্র ব্যস্ততার কারণে রাতে কখনো বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে ঘুমাননি; যখনই খুব ক্লান্তিবোধ করতেন, পড়ার টেবিলেই সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে যেতেন। তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১২টি করে উচ্চতর ক্লাসে অংশ নিতেন এবং প্রতিটি লেকচারের ওপর গভীর নোট ও ব্যাখ্যা তৈরি করতেন। তিনি অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে শাফেয়ী ফিকহের মূল কিতাব ‘আত-তানবীহ’ মাত্র সাড়ে চার মাসে এবং ‘আল-মুহাজ্জাব’ কিতাবের এক-চতুর্থাংশ বছরের বাকি সময়ে মুখস্থ করে ফেলেন।
৪. শিক্ষকমণ্ডলী
দামেস্কে অবস্থানকালে ইমাম নববী তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে প্রখ্যাত এবং নির্ভরযোগ্য পণ্ডিতদের সান্নিধ্য লাভ করেন। তিনি হাদিস, ফিকহ, উসুল, আরবি ব্যাকরণ এবং যুক্তিবিদ্যায় গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
১. ইসহাক ইবনে আহমদ আল-মাগরিবী আল-মাকদিসী (প্রধান ফিকহ শিক্ষক)
২. আব্দুল রহমান ইবনে নূহ আল-মাকদিসী
৩. আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ঈসা আল-মুরাদী (হাদিস শাস্ত্রের উস্তাদ)
৪. কাজী আল-তাফলিসী (উসুল বা ধর্মতত্ত্বের উস্তাদ)
৫. ইবনুল মালেক (আরবি ব্যাকরণবিদ)
৫. দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ-এর প্রধান শায়খ
হিজরি ৬৬৫ সনে (১২৬৭ খ্রিষ্টাব্দ) দামেস্কের তৎকালীন সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং বিখ্যাত হাদিস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ’-এর প্রধান শায়খ (প্রধান শিক্ষক) ইন্তেকাল করলে ইমাম নববীকে সর্বসম্মতিক্রমে সেই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। এটি ছিল তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদ। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করেন। তবে দৃষ্টান্তমূলক তাকওয়ার কারণে তিনি এই পদের জন্য বরাদ্দকৃত কোনো রাষ্ট্রীয় বেতন বা সম্মানী গ্রহণ করেননি। মাদ্রাসার বরাদ্দকৃত অর্থ তিনি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং কিতাব ক্রয়ের জন্য ওয়াকফ করে দিতেন।
৬. চরম জাহিদ ও দুনিয়াবিমুখ জীবন
ইমাম নববীর জীবন ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে, কৃচ্ছ্রসাধন এবং জোহদে (দুনিয়াবিমুখতা) ভরপুর। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র একবার খাবার খেতেন, তা-ও রাতের শেষভাগে ইশার সালাতের পর। আর সেহেরির সময় সামান্য পানি পান করতেন। তিনি দামেস্কের কোনো ফলমূল খেতেন না। এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, দামেস্কের অধিকাংশ জমি ওয়াকফকৃত বা এতিমদের সম্পত্তি, যার লভ্যাংশ বা বণ্টন পদ্ধতি শরীয়তের পুরোপুরি অনুগত না-ও হতে পারে (সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকা)।
তিনি সারাজীবন বিয়ে করেননি। এর কারণ হিসেবে আল-ধাহাবী এবং অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন, ইমাম নববী জ্ঞানচর্চা, কিতাব রচনা এবং আল্লাহর ইবাদতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে, তিনি ভয় পেতেন বিয়ে করলে হয়তো স্ত্রীর হক বা পারিবারিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন না। দুনিয়ার কোনো আরাম-আয়েশ বা জাঁকজমক তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
৭. ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ (মামলুক সুলতানের মুখোমুখি)
ইমাম নববী কেবল লাইব্রেরিতে বসে থাকা আলেম ছিলেন না। তিনি ছিলেন সমাজ ও রাষ্ট্রের সচেতন অভিভাবক। তৎকালীন মামলুক সালতানাতের ক্ষমতাধর শাসক সুলতান জহির রুকনুদ্দিন বাইবার্স যখন মঙ্গোলদের (তাতারীদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধের খরচ জোগানোর জন্য সিরিয়ার জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করার ফরমান জারি করেন, তখন দামেস্কের সমস্ত আলেম সুলতানের ভয়ে সেই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু ইমাম নববী সেই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
তিনি সুলতানের রাজদরবারে গিয়ে সাহসের সাথে বলেন, “আপনি সিরিয়ার জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর চাপাতে পারেন না। আমি জানি আপনি তাতারীদের বিরুদ্ধে লড়ছেন, কিন্তু যতক্ষণ না আপনার রাজকোষের সমস্ত সোনা, রূপা এবং আপনার রাজপ্রাসাদের দাস-দাসীদের অলংকার রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা হচ্ছে, ততক্ষণ সাধারণ জনগণের ওপর কর ধার্য করা হারাম।” সুলতান বাইবার্স অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে তাকে দামেস্ক থেকে নির্বাসিত করেন এবং পরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “এই লোকটিকে দেখে আমার মনে এক অদ্ভুত ভয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, আমি তাকে হত্যা করার সাহস পাইনি।”
৮. কালজয়ী গ্রন্থাবলী ও সাহিত্যিক অবদান
ইমাম নববীর লেখার শৈলী ছিল অত্যন্ত সাবলীল, নির্ভুল এবং তথ্যসমৃদ্ধ। তিনি মাত্র বিশ বছরের লেখক জীবনে যে পরিমাণ কিতাব রচনা করেছেন, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে এক জীবনে পড়ে শেষ করাও কঠিন। তার রচিত কিতাবগুলো ইসলামি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। নিচে তার বিখ্যাত কিছু কিতাবের নাম দেওয়া হলো:
হাদিস শাস্ত্রে:
১. শরাহ সহীহ মুসলিম (Al-Minhaj bi Sharh Sahih Muslim): ইমাম মুসলিমের ‘সহীহ মুসলিম’ গ্রন্থের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
২. রিয়াদুস সালেহীন (Riyadh as-Saaliheen): মানবজীবনের প্রয়োজনীয় আয়াত ও হাদিসের এক অপূর্ব সংকলন, যা আজ বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম পরিবারে পঠিত হয়।
৩. আর্বাইন আন-নববী (Forty Hadiths): ইসলামের মৌলিক ও সামগ্রিক বিষয়ের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি হাদিসের সংক্ষিপ্ত সংকলন।
৪. আল-আযকার (Kitab al-Adhkar): দৈনন্দিন জীবনের দোয়া ও জিকিরের প্রামাণ্য কিতাব।
ফিকহ শাস্ত্রে (ইসলামি আইন):
১. মিনহাজুত তালিবীন (Minhaj al-Talibin): শাফেয়ী ফিকহের একটি মূল ভিত্তি ও রেফারেন্স কিতাব।
২. আল-মাজমু’ শরাহ আল-মুহাজ্জাব (Al-Majmu’): এটি ফিকহ শাস্ত্রের একটি বিশ্বকোষ সমতুল্য কিতাব, যদিও তিনি এটি সম্পূর্ণ শেষ করে যেতে পারেননি।
৩. রাওদাতুত তালিবীন (Rawdat al-Talibin): ফিকহী মাসআলার দীর্ঘ বিশ্লেষণ।
অন্যান্য:
- আল-তিবয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন: কুরআন মাজিদ বহনকারী ও তিলওয়াতকারীদের আদব বা নিয়মাবলী।
- তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত: হাদিসে বর্ণিত রাবী বা বর্ণনাকারীদের জীবনী ও শব্দের অভিধান।
- বুস্তানুল আরিফীন: আধ্যাত্মিকতা ও সুফিবাদের ওপর রচিত গ্রন্থ।
৯. জীবনাবসান
জীবনের শেষভাগে ইমাম নববী (রহ.) তার প্রিয় জন্মভূমি নওয়া গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জন্মভূমিতে ফেরার আগে তিনি দামেস্কে তার শিক্ষকদের কবর জিয়ারত করেন এবং তার ব্যবহা্য কিতাবপত্র মাদ্রাসায় ওয়াকফ করে দিয়ে যান। নওয়া গ্রামে পৌঁছানোর কিছুদিন পরই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অবশেষে হিজরি ৬৭৬ সনের ২৪শে রজব (২১ ডিসেম্বর ১২৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) মাত্র ৪৫ বছর বয়সে এই মহান ইমাম নওয়া গ্রামেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ইন্তেকালের সংবাদ দামেস্কসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাকে তার নিজ গ্রাম নওয়াতেই সমাহিত করা হয়। তার অসিয়ত অনুযায়ী তার কবরের ওপর কোনো গম্বুজ বা বিলাসবহুল ইমারত তৈরি করা হয়নি, বরং সাধারণ মাটির কবরের মতোই তা রাখা হয়েছে।
উপসংহার:
ইমাম নববী (রহ.) ছিলেন উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নিয়ামত। তার নিষ্ঠা, ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং দুনিয়াবিমুখতার কারণেই আল্লাহ তাআলা তার কিতাবগুলোকে মকবুলিয়াত (জনপ্রিয়তা) দান করেছেন। মৃত্যুর সাড়ে সাতশত বছর পর আজও পৃথিবীর আনাচে-কানাচে প্রতিদিন তার নাম পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় এবং তার সংকলিত হাদিস পড়ে কোটি কোটি মানুষ হেদায়েতের আলো পাচ্ছে। উম্মাহর এই মহান পথপ্রদর্শকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়া। আল্লাহ তাআলা উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।
তার লিখিত কিছু কিতাব :
০১. রিয়াদুস সালেহীন:
সংকলক : ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববী (রহ.)।

হাদিস শাস্ত্রের ইতিহাসে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘রিয়াদুস সালেহীন’ অন্যতম। ইমাম নববী (রহ.) কর্তৃক সংকলিত এমন একটি কালজয়ী গ্রন্থ, যা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মুসলিম পরিবারে সমাদৃত। এই কিতাবটি মূলত দৈনন্দিন জীবনে পালনীয় আমল, নৈতিকতা এবং আত্মশুদ্ধি বিষয়ক হাদিসের এক অপূর্ব সংকলন। এতে প্রায় ১৮৯৬টি হাদিস এবং ৩৭২টি অধ্যায় রয়েছে, যা একজন মুমিনকে আখলাক ও ইবাদতের সঠিক পথ প্রদর্শন করে।
এই মহান গ্রন্থের সংকলক হলেন ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববী (রহ.)। তিনি সপ্তম হিজরির একজন বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং ভাষাবিদ ছিলেন। ১২৩৩ খ্রিস্টাব্দে সিরিয়ার ‘নওয়া’ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৪৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি ইলমে দ্বীনের যে বিশাল খিদমত করে গেছেন, তা বিস্ময়কর। তাঁর চারিত্রিক শুভ্রতা, কঠোর সাধনা এবং ইখলাসের কারণেই তাঁর রচিত ‘রিয়াদুস সালেহীন’, ‘আরবাঈন আন-নববী’ এবং ‘শরহে মুসলিম’ বিশ্বজুড়ে কবুলিয়াত লাভ করেছে।
গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্য
১. বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস: ইমাম নববী (রহ.) হাদিসগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে, জীবনের প্রতিটি ধাপে—ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে—সুন্নাহর অনুসরণ সহজ হয়ে যায়।
২. কুরআনের সাথে সমন্বয়: প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর পবিত্র কুরআনের আয়াত উল্লেখ করেছেন, যা হাদিসের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
৩. বিশুদ্ধতা: তিনি এই গ্রন্থে মূলত সহীহ ও হাসান স্তরের হাদিসগুলোই সংকলন করার চেষ্টা করেছেন।
৪. সহজবোধ্যতা: এর ভাষা ও বর্ণনাশৈলী এতই প্রাঞ্জল যে সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে গবেষক—সবাই এর থেকে উপকৃত হতে পারেন।
ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য ‘রিয়াদুস সালেহীন’ এক অনন্য পথনির্দেশিকা। যারা কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকে নিজের জীবনে ধারণ করতে চান, তাদের জন্য এই কিতাবটি এক জীবন্ত পাঠশালা।
খাইরুন প্রকাশনি : একত্র সকল খণ্ড :
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
ইসলামি সেন্টার কর্তৃক প্রকাশিত :
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
ইসলাম হাউজ কর্তৃক প্রকাশিত :
০২. আল আযকার
লেখক : মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
০৩. ইমাম নববির চল্লিশ হাদিস
লেখক : মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
০৪. জবানের হেফাজত
লেখক : মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন


