সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.)

সংকলনেঃ মোহাম্মাদ ইস্রাফিল হোসাইন।

শাইখ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল সাইয়েদ আহমদ হাসান মোওদূদী। তিনি ভারতের আওরঙ্গাবাদ, (বর্তমানে মহারাষ্ট্রের  মধ্যে), হায়দ্রাবাদের এক মুসলিম পরিবারে জম্ম গ্রহন করেন। তিনি একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বিংশ্ব শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম স্কলারদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। আবুল  আ’লা  মওদুদী ইতিহাসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ব্যক্তি যার গায়েবানা জানাজার নামাজ পবিত্র কাবা শরীফে পড়া হয়। (তথ্য সূত্র: মাওলানা মওদূদী একটি জীবন একটি ইতিহাস, লেখক আব্বাস আলী খান)।

শিক্ষা জীবনঃ

তার পিতার একান্ত ইচ্ছ্ ছিল পুত্রকে একজন আলেমে দ্বীন বানাবেন। সে ভাবেই তাঁর শিক্ষা দীক্ষার ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গেই আরবী, ফারসী ও উর্দূর মাধ্যমে কোরআন, হাদীস, ফেকাহ প্রভৃতি বিষয়ে তাঁকে শিক্ষা দেয়া হলো। ইংরেজী শিক্ষা ও পাশ্চাত্য চিন্ধাধারার স্পর্শ থেকে তাকে সতর্কতার সাথে দূরে রাখা হলো। অন্য লোকের সঙ্গে সাধারন মেলামেশা ও গল্পগুজবে নৈতিকতা ও ভদ্রতা রক্ষা করে চলার ব্যাপারে পিতার তিক্ষ্ন দৃষ্টি ছিল। মাতৃভাষা উর্দূর প্রতিও তার ছিল বিশেষ লক্ষ্য। ন’বছর বয়স পর্যন্ত বাড়ীতেই বালক মওদূদীর বিদ্যাচর্চা চলতে থাকে। এ সময়ের মধ্যে তিনি আরবী ব্যাকরণ, সাহিত্য এবং ফেকাহ শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রাথমিক পুস্তকাদি শেষ করেন। তাপর তাঁর ওস্তাদ মরহুম মৌলভী নাদীমুল্লাহ হুসাইনীর পরামর্শে তাঁকে আওরংগাবাদের ফওকানিয়া মাদ্রাসায় রিশদিয়া মানের শেষ বর্ষ (৮ম শ্রেণী) শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয়।

 ভর্তি হওয়ার ছ’মাস পরেই তিনি রুশদিয়া পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হন। অবশ্য একমাত্র অংক ব্যতীত অন্যান্য সকল বিষয়েই তিনি ভালভাবে পাস করেন। অংকে পাস না করার কারণ এই যে, মাত্র ছ’মাস পূর্বে সর্ব প্রথম তাঁর অংকে হাতে খড়ি দেয়া হয়। মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মোল্লা দাউদ সাহেব তাঁকে উপরের মৌলভী শ্রেণীতে ভর্তি করে নেন।

ঊনিশত চৌদ্দ খ্রিষ্টাব্দে বালক মওদূদী মৌলভী পরীক্ষা দেন এবং অংকে কাঁচা থাকার কারণে উত্তীর্ণ ছাত্রদের মধ্যে ষষ্ঠ স্থান লাভ করেন। এই সময় পিতার স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙ্গে পড়ে। তিনি ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে আওরংগাবাদ থেকে হায়দারাবাদ গমন করেন এবং সেখানে দারুল উলুমে উচ্চ শিক্ষার জন্যে পুত্র মওদূদীকে ভর্তি করে দেন। তখন দারুল উলুমের অধ্যক্ষ ছিলেন মরহুম মাওলানা হামীদুদ্দীন। ১৯২১ সালে দিল্লী গমন এবং হাদীস-তাফসীর-ফিকাহসহ অন্যান্য ইসলামী বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং ইংরেজী ভাষা শিক্ষা। ১৯২১ সালে দিল্লিতে মাওলানা আব্দুস সালাম নিয়াজির কাছে আরবি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯২৬ সালে  দিল্লির ‘দারুল উলুম ফতেহপুরি  থেকে ‘উলুম আকালিয়া ওয়া এ নাকালিয়া সনদ লাভ করেন। ১৯২৮ সালে দারুল উলুম ফতেহপুরি থেকে ‘জামে তিরমিযি’ এবং ‘মুয়াত্তা ইমাম মালিক সনদ লাভ করেন।

ডঃ শায়খ আব্দুস সালাম আজাদি মওদূদীর শিক্ষা গত যোগ্যতা নিয়ে আরো লিখেছেন উস্তাদ নাদীমুল্লাহ হাসনাইন শায়খ নিয়ায ফাতেহপুরির আছ থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। মুহাম্মাদ ফাদিল এর কাছে শুধু ইংরেজি ভাষা না, ইতিহাস, দর্শন, সমাজ বিজ্ঞান ও বিভিন্ন ধর্মের তুলনা মূলক আলোচনা পড়েছেন। তিনি মাওলানা ইশফাকুর রহমান কান্ধেল্ভীর কাছ থেকে হাদীস ফিকহ ও আরবী সাহিত্য পাঠদানের ইজাযাহ নেন ১৯২৭ সালে।  এবং তিরমিযি ও মুওয়াত্তা ইমাম মালিক শিক্ষা দানের ইজাযাত গ্রহন করেন ১৯২৮ সনে। এই দু বছর তিনি সম্পূর্ণ সময় ব্যয় করেছেন লেখা পড়ার পেছনে। দেওবন্দে তিনি তাদের পত্রিকা আল জামইয়্যাতের সম্পাদক তখনই হতে পেরেছেন যখন সেখানকার আলিমরা তাঁকে সার্টিফাই করেছেন।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট ফকীহ এবং সালাফী আলিম ডঃ সায়্যিদ আব্দুল হালিম মুহাম্মদ হুসাইন [হাফিজাহুল্লাহ] এর লিখা “নাযারাত ফী ফিকরি আবীল-আলা আল-মওদূদী – نظارات في فكر أبي الأعلى المودودي” কিতাবে মাওলানা মওদূদীর শিক্ষাগত যোগ্যতার যে বিবরণ তিনি দিয়েছেন তা থেকে আমি পাঠকদের জন্য উল্লেখ করছি।


১। আরবী ভাষা, নাহু, সরফ, আল-মা’ক্বুলাত ওয়াল-বালাগাহ ওয়াল মা’আনীঃ এগুলোতে তিনি ইজাজাহ লাভ করেছেন দিল্লীর দারুল উলুমে ভারতের প্রখ্যাত আলিম মাওলানা শায়খ আব্দুস-সালাম নিয়াজীর [রহিমাহুল্লাহ] কাছ থেকে।


২। হাদীস ও উলুম আল-হাদীসঃ শায়খ ইশফাক্বুদ্দীন কান্দাহলাবীর [রহিমাহুল্লাহ] কাছ থেকে এ বিষয়ে ইজাযাহ লাভ করেন তিনি।


৩। ফিক্বহ, তাফসীর বায়দাওয়ী এবং আল-মাতূল ফী ‘ইলম আল-মা’আনী ওয়াল-বালাগাহঃ এ বিষয়গুলোতে তিনি ইজাযাহ লাভ করেন শায়খ শরীফুল্লাহর [রহিমাহুল্লাহ] কাছ থেকে।


৪। ইংরেজী ভাষাঃ মৌলভী মুহাম্মদ ফাদিল এর হাতে মাত্র চার মাসে তিনি ইংরেজী ভাষা শিক্ষায় বুৎপত্তি লাভ করেন।

পিতার মৃত্যুঃ

পুত্রকে হায়দারাবাদ রেখে অসুস্থ পিতার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিবর্তনের জন্যে ভূপাল চলে যান। বালক মওদূদী হায়দারাবাদ দারুল উলুমে পাঠাভ্যাস করতে থাকেন। কিন্তু ছ’মাস অতিক্রান্ত না হতেই ১৯১৭ সালে ভূপাল থেকে দুঃসংবাদ এলো যে, পিতা মৃত্যু শয্যায় শায়িত। সংবাদ পাওয়া মাত্র বালক মওদূদী মাতাকে নিয়ে ভূপাল চলে যান এবং মুমুর্ষূ পিতার শুশ্রুষায় আত্মনিয়োগ করেন। পিতা দারিদ্র্য ও পীড়ার সঙ্গে ক্রমাগত কয়েক বছর সংগ্রাম করে ১৯২০ সালে দুনিয়ার কর্মক্ষেত্র থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেন।

কর্ম জীবনঃ

পিতার মৃত্যুর পর থেকেই বালক মওদূদীকে জীবিকা অন্বেষণের উপায় অবলম্বন করতে হয়। ঊনিশ শ’ আঠারো সালে মওদূদীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সাইয়েদ আবুল খায়ের মওদূদী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। বিজনৌর থেকে প্রকাশিত ‘মদীনা’ পত্রিকার সম্পাদনার ভার তিনি নিজ হস্তে গ্রহণ করেন। সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদীও বড় ভাইয়ের সঙ্গে মিলে ‘মদীনা’ পরিচালনা করতে থাকেন। ১৯২০ পিতার ইন্তিকালের পর জব্বলপুরে দৈনিক ‘তাজ পত্রিকার সম্পাদনা ভার গ্রহণ। ১৯২১ সালের প্রথম দিকে মাওলানা মুফতী কেফায়েতুল্লাহ ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আহমদ সাঈদের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁরা জমিয়তের পক্ষ থেকে ‘মুসলিম’ নাম দিয়ে একটা পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং মাওলানা মওদূদীর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে, ১৯২২ সালে তাঁকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মুখপত্র ‘মুসলিম’-এর সম্পাদক নিযুক্ত করেন। ১৯২৩ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি সুচারুরূপে চলতে থাকে এবং মাওলানা শেষ পর্যন্ত তার সম্পাদনা করেন। (তথ্য সূত্র: মাওলানা মওদূদী একটি জীবন একটি ইতিহাস, লেখক আব্বাস আলী খান)।

ঊনিশ শ’ তেইশ সালে ‘মুসলিম’ ব্ন্ধ হওয়ার পর মাওলানা মওদূদী হায়দারাবাদ রওয়ানা হন। কিন্তু পথিমধ্যে ভূপালে যাত্রা ভঙ্গ করে সেখানে দেড় বছরকাল নিবিষ্টচিত্তে অধ্যয়নে রত হন। ১৯২৪ সালে তিনি পুনরায় দিল্লী গমন করেন। ওই সময়ে পাকভারতের সিংহ পুরুষ মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহরের সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। মাওলানা মুহাম্মদ আলী তখন ‘হামদর্দ’ পত্রিকা পরিচালনা করছিলেন। তিনি তরুণ উদীয়মান সাংবাদিক মাওলানা মওদূদীকে উক্ত পত্রিকার কার্যভার গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান। ঠিক এই সময়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে ‘আল জমিয়ত’ পত্রিকা প্রকাশ করার অভিপ্রায়ে মাওলানা আহমদ সাঈদ মাওলানা মওদূদীকে আহবান জানান। মাওলানা মুহাম্মদ আলীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও মওদূদীর স্বাধীন মন অন্যের অদীনতা স্বীকার বাধা দান করলো। অতএব তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ‘আল জমিয়ত’ পত্রিকার সম্পাদনা ভার গ্রহণ করাই সমীচীন মনে করলেন। ১৯২৪ সাল থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুষ্ঠূভাবে তিনি অর্ধ সাপ্তাহিক ‘আল জমিয়ত’ পরিচালনা করেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন বিষয়ের মূল্যবান গ্রন্থও রচনা করেন। তাঁর প্রথম প্রকাশনা ‘আল জিহাদু ফিল ইসলাম’ এবং ‘দওলতে আসফিয়া ও হুকুমতে বরতানিয়া’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ( তথ্য সূত্র: মাওলানা মওদূদী একটি জীবন একটি ইতিহাস, লেখক আব্বাস আলী খান)।

ইংরেজী ১৯৩২ সাল থেকে মাওলানা মওদূদীর জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এই সময় তিনি দাক্ষিণাত্যের হায়দারাবাদ থেকে “তর্জুমানুল কোরআন” নামে একটি মাসিক পত্রিকা বের করেন। তখন থেকেই তিনি পৃথকভাবে বসবাস শুরু করেন। মুয়ায্যামশাহী মার্কেটের সন্নিকটে একটি দোতলা বাড়িতে একজন কর্মচারী নিয়ে সেখান থেকে উক্ত পত্রিকা প্রকাশ করতে থাকেন। তিনি তখনও ছিলেন অবিবাহিত। একটি পত্রিকা প্রকাশ করা যেমন কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন আর্থিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু বলতে কি, তাঁর কোন আর্থিক সঙ্গতিই ছিল না। না ছিল সহায়-সম্পদ, না পৈত্রিক বাড়ী-ঘর, আর না কোন নিয়মিত মাসিক আয়-উপায়। এ নিয়ে তাঁর বড় ভাইয়ের সঙ্গে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়। এমন আর্থিক দৈন্যের ভেতর দিয়ে একটা মাসিক পত্রিকা প্রকাশের সংকল্পের কথা শুনে বড় ভাই বিচলিত হন। তিনি অবশেষে উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ গ্রেডের একটি প্রফেসারীর পদ মাওলানার জন্যে সংগ্রহ করে তাঁকে পত্রিকা প্রকাশের দুঃসাহস ও ঝুঁকি থেকে বিরত থাকতে বলেন। বড় ভাই ছোট ভাইকে এ বিষয়ে সম্মত করার জন্য ছ’ঘন্টা ধরে বুঝাতে থাকেন। এরপরও মাওলানা ধীর গম্ভীর স্বরে বড় ভাইয়ের নিকট আবেদন জানান। “আর সময় নষ্ট করা যেতে পারে না। আমার দৃঢ় প্রত্যয় আছে যে, যদি আমার কথায় আন্তরিকতা থাকে, তা হলে আমার অনুপ্রেরণা বিফলে যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “অবস্থা বড়ই সঙ্গিন হয়ে পড়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি যে, প্লাবন আসতে আর বিলম্ব নেই। এ প্লাবন ১৮৫৭ সালের ইংরেজ শাসনের প্লাবন থেকে বেশী মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক হবে। এ বিপদ থেকে মুসলমানদেরকে সাবধান করে দেয়া আমি আমার কর্তব্য মনে করি। আমার সাধ্যমত তাদের কোন না কোন খেদমত করার চেষ্টা আমি করব।” ছোট ভাইয়ের অকাট্য যুক্তি ও অটুট মনোবল দেখে বড় ভাই নিরস্ত হলেন। উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোভনীয় মোটা বেতনের চাকরির লোভ সংবরণ করে মাওলানা মওদূদী পত্রিকার মাধ্যমে জাতির খেদমতে আত্মনিয়োগ করলেন। লেখনীর মাধ্যমে একটা বিপ্লবী আন্দোলনের সূচনা করলেন।  (তথ্য সূত্র: মাওলানা মওদূদী একটি জীবন একটি ইতিহাস, লেখক আব্বাস আলী খান)।

ইসলামী দাওয়াত জনসমক্ষে তুলে ধরার সূচনা: ১৯৩৬ আল্লামা ইকবালের সাথে পত্র বিনিময়ের সূচনা। পরের বছর ৩৪ বছর বয়সে লাহোরে, দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তিতুল্য মুসলিম কবি ও দার্শনিক আল্লামা মুহাম্মাদ ইকবালের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয় করিয়ে দেন চৌধুরী নিয়াজ আলী খান। এই সময় আল্লামা ইকবাল তাকে হায়দারাবাদ থেকে পাঞ্জাবে কার্যক্রম স্থানান্তরের জন্যে আহ্বান। এবং এর পরের বছর ১৯৩৮ সালের ১৬ই মার্চ তারিখ ৩৫ বছর বয়সে, হায়দারাবাদ থেকে পাঠানকোটে গমন করেন। সেখানে তিনি দারুল ইসলাম ট্রাস্ট ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন, যেটি ১৯৩৬ সালে আল্লামা ইকবালের পরামর্শে চৌধুরী নিয়াজ আলী খান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পাঠানকোটের ৫ কিমি পশ্চিমে, জামালপুরে, চৌধুরী নিয়াজ আলী খানের ১০০০ একর এস্টেট ছিল। চৌধুরী নিয়াজ আলী খান সেখান থেকে ৬৬ একর জমি দান করেন।


রাজনৈতিক কার্যক্রমঃ

১৯৪০ ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার খসড়া প্রণয়নের জন্যে মুসলিম লীগ কর্তৃক কমিটি গঠন করে এবং মাওলানাকে সেই কমিটির সদস্য মনোনয়ন করেন। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইসলামী হুকুমত কিস তরাহ কায়েম হুতি হ্যায়’- বিষয়ের উপর এক জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দান যা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং যা ইংরেজী ও বাংলা ভাষায় যথাক্রমে ‘The Process of Islamic Revolution’ এবং ‘ইসলামী বিপ্লবের পথ’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন, ইসলামী বিপ্লবের পথ ও এক আহম এস্তফতা গ্রন্থ প্রকাশ। পরের বছর, ১৯৪১ সালের ২৬শে আগস্ট তারিখে পঁচাত্তর জন লোক নিয়ে ‘জামায়াতে ইসলামী’র প্রতিষ্ঠা এবং তিনি উক্ত দলের আমীর নির্বাচিত। লাহোরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিস প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরের বছর জুন মাসে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিস লাহোর থেকে দারুল ইসলাম পাঠানকোট এ স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালে চতুর্দিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরি হয় এবং পাঠানকোট হিন্দুদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়। যার ফলে পাঠানকোটের মুষ্টিমেয় মুসলমান অধিবাসী লাহোর হিজরত করতে বাধ্য হয় এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিস পুনরায় লাহোরে স্থানান্তরিত

কারাগারে প্রেরণঃ

 ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পাঁচ মাস পর থেকে পাকিস্তানে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু। ৬ই জানুয়ারী লাহোরে আইন কলেজে ভাষণ দিতে গিয়ে ইসলামী আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের দাবি পেশ। ৬ই মার্চ করাচী জাহাঙ্গীর পার্কে অনুষ্ঠিত জনসভায় ইসলামী শাসন ব্যবস্থার জন্যে ৪ দফা দাবি পেশ। (এপ্রিল–সেপ্টম্বর) দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার দাবিতে জনমত গঠনের জন্য অভিযান চালান। সরকারের পক্ষ থেকে মাওলানা প্রতি মিথ্যা আরোফ করা হয়। ‘মাওলানা কাশ্মীরের জিহাদ হারাম বলেছেন’। ১২ই অক্টোবর মাওলানাকে কয়েকজন সহকর্মীসহ গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ। ইসলামের জীবন পদ্ধতি, ইসলামী আইন, ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার, আযাদী কে ইসলামী তাকাযে ও মোতালেবায়ে নেযামে ইসলামী গ্রন্থ প্রকাশ। ১৯৫০ ২৮ শে মে মাওলানা কারামুক্তি।

১৯৫২ সালে শাসনতন্ত্র প্রণয়নকারী গণপরিষদের কাছে তিনি ও তার দল ৮ দফা দাবি পেশ। ইসলামী শাসনতন্ত্রের জন্যে দেশব্যাপী আন্দোলন। কাদিয়ানীদেরকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ঘোষণা করার দাবিতে করাচীতে সর্বদলীয় সম্মেলনে মাওলানার অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে ‘কাদিয়ানী সমস্যা’ নামে একটি বই লিখে কাদিয়ানী বা আহমদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম প্রমাণ করেন। ফলে ইতিহাস খ্যাত বড় রকমের কাদিয়ানী বিরোধী হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়।  এ সময় অনেকগুলো সংগঠন একযোগে কাদিয়ানীদেরকে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষনার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তারা সর্বদলীয় কনভেনশনে ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে ‘ডাইরেক্ট একশন কমিটি’ গঠন করে। জামায়াত এই কমিটির বিরোধিতা করে অহিংস আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু তথাপি মার্চ মাসের শুরুতে আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে এবং পুলিশের গুলিতে কিছু লোক নিহত হয়। পরে একটি সামরিক আদালত আবুল আ’লাকে এই গোলযোগের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়, তবে কাদিয়ানী সমস্যা নামক বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।  অবশ্য সেই মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়নি। মুসলিম প্রধান দেশগুলোর চাপ এবং দেশী বিদেশী মুসলিম নেতৃবৃন্দের অনুরোধে মৃত্যুদন্ডাদেশ পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড করা হয়, কিন্তু পরে তাও  প্রত্যাহার করা হয়।

১৯৫৫ নিছক আইনগত কারণে ২৯ মে এপ্রিল মাওলানার মুক্তি। কিন্তু ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আই্‌উব খান জামায়াতে ইসলামী’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

       ১৯৬৩ লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী সম্মেলনে উদ্বোধনী ভাষণ দানকালে মাওলানাকে লক্ষ্য করে গুলীবর্ষণ। জনৈক জামায়াত কর্মীর শাহাদাত বরণ। সম্মেলন পণ্ড করার সকল সরকারী প্রচেষ্টা ব্যর্থ। ১৯৬৪ ৪ঠা জানুয়ারী। জামায়াত বেআইনী ঘোষিত। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যগণসহ মাওলানা গ্রেফতার। ১৯শে জানুয়ারী। জামায়াতের সকল রেকর্ডপত্র বাজেয়াপ্ত করে। জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকারী প্রচারণা তীব্রতর হয়। ২৫ শে সেপ্টেম্বর ১৯৬৪ সালে তাকে আবারো সুপ্রীম কোর্টের বায়ে আটক করা হয়।

 পরবর্তীতে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। (তথ্য সূত্র: মাওলানা মওদূদী একটি জীবন একটি ইতিহাস, লেখক আব্বাস আলী খান)।

সফরঃ

  ১৯৫৬ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্রের জন্যে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করেন এবং দু’মাসব্যাপী তিনি পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) সফল। পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যাবলীর প্রতি আলোকপাত করেন। ১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাদশা সউদের আমন্ত্রণে সউদী আরব গমন এবং মদীনা  শ্ববিদ্যালয়ের খসড়া পরিকল্পনা পেশ করেন। ১৯৬২ মক্কা মুয়াযযমায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইসলামী সম্মেলনে যোগদান করেন। রাবেতায়ে আলমে ইসলামী সংস্থার প্রতিষ্ঠা হলে তাকে প্রতিষ্ঠা কমিটির আজীবন সদস্য নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৮ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডন ভ্রমণ। ইংল্যান্ডে বসবাসকারী মুসলমানদের পক্ষ থেকে হিল্টন হোটেল লন্ডনে আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় মাওলানার ভাষণ প্রদান করেন। ১৯৬৯ সালে মরক্কো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্থা আলাদা হবে কিনা এ প্রশ্ন পাকিস্থানের তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের উপর ন্যাস্ত করেন। এবং  সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের উপর ন্যাস্ত করেন। পূর্ব পাকিস্তান, জামায়াত ইসলামির নেতারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর সাথে হাত মেলায় এবং তাদের সহযোগী শক্তি হিসেবে বিভিন্ন নামে বাহিনী গঠন করে। বাংলাদেশে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। যা আজ ঐতিহাসিকভাবে সত্য ও আদালত কর্তৃক প্রমানি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করে। এই ট্রাইবুনাল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর সহযোগিদের বিচার শুরু করে, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন প্রধান নেতাও ছিলেন। ট্রাইবুনাল জামায়েত নেতাদের অপরাধী সাব্যস্ত করে রায় দেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বর্ষীয়ান নেতা গোলাম আযম ও জামাতের নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসেন সাইদীকে তাঁদের বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হলেও জামাতের আমির মতিউর রহমান নিজামিসহ বেশ কয়েক জন নেতার ফাসির রায় কার্যকর করা হয়।


গ্রন্থ সমুহঃ

শেষ জীবন: ১৯৭৯ সালের ২১শে মে তারিখে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আমেরিকা গমন। ৪ঠা সেপ্টেম্বর মূত্রাশয় অপারেশন হয়। এবং ২২শে সেপ্টেম্বর তারিখে, পাকিস্তান সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় ইন্তিকাল। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজউন)। শাইখ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী তার জীবদ্দশায় কুরআন মজীদ এর তাফসীর তাফহীমুল কুরআন সহকারে ইসলামী জীবন দর্শন, ইসলামী রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন, অর্থনীতি ও ব্যাংক ব্যবস্থা, দাম্পত্য জীবন এবং আরও অন্যান্য বিষয়ের বহু বই লিখেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইসলামের এই মহান খাদেমকে বেহেস্তের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুক, আমীন।

 প্রভাব ও প্রতিপত্তিঃ

মাওলানা মওদুদীর প্রভাব ছিল ব্যাপক। ইতিহাসবেত্তা ফিলিপ জেনকিন্সের মতে মিসরের আল বান্না এবং সাইয়েত কুতুর তার বই পড়ে অনুপ্রাণিত হন। সাইয়িদ কুতব তার কাছ থেকে আদর্শ গ্রহণ করেন এবং এটি আরো সম্প্রসারিত করেন। তিনি একটি অগ্রগামী ইসলামী বিপ্লবী দল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী জুরিস্ট আবদুল্লাহ আযযামও তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। দক্ষিণ-এশীয় জনগন (বিরাট সংখ্যক ব্রিটেন প্রবাসী সহ) মাওলানা মওদুদীর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। এমনকি শিয়া অধ্যুষিত ইরানেও মওদুদীর বড় ধরণের প্রভাব আছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী ১৯৬৩ সালে মাওলানা মওদুদীর সাথে সাক্ষাত করেন, পরবর্তীতে ইমাম খোমেনী মওদুদীর বইগুলো ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেন। এখনো পর্যন্ত প্রায়ই ইরানের ইসলামী সরকার মাওলানা মওদুদীর কর্মপন্থা অনুসরন করে থাকে। ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পর, তিনি (মওদুদী) দ্বিতীয় চিন্তাবিদ যিনি আধুনিক বিশ্বে ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তাধারা কে প্রভাবিত করেছেন। ( তথ্য: উইকিপিডিয়া)।

শেষ জীবনঃ ১৯৭৯ সালের ২১শে মে তারিখে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আমেরিকা গমন। ৪ঠা সেপ্টেম্বর মূত্রাশয় অপারেশন হয়। এবং ২২শে সেপ্টেম্বর তারিখে, পাকিস্তান সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় ইন্তিকাল। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজউন)। শাইখ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী তার জীবদ্দশায় কুরআন মজীদ এর তাফসীর তাফহীমুল কুরআন সহকারে ইসলামী জীবন দর্শন, ইসলামী রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন, অর্থনীতি ও ব্যাংক ব্যবস্থা, দাম্পত্য জীবন এবং আরও অন্যান্য বিষয়ের বহু বই লিখেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইসলামের এই মহান খাদেমকে বেহেস্তের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুক, আমীন।

 

তাল লিখিত কিতাবসমূহ :

তাফসির কারক : সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.)

তাফহিমুল কুরআন আধুনিক যুগে রচিত পবিত্র কুরআনের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বহুল পঠিত তাফসির গ্রন্থ।


সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.) বিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, দার্শনিক এবং সংস্কারক। ১৯০৩ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে তুখোড় সাংবাদিক এবং গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী লেখক। আধুনিক প্রেক্ষাপটে ইসলামি জীবনব্যবস্থাকে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপনের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ১৯৭৯ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর লিখনী বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আধুনিক ইসলামি রেনেসাঁয় তাঁর চিন্তা গভীর প্রভাব ফেলেছে।


১৯৪২ সালে তিনি এই তাফসিরের কাজ শুরু করেন এবং প্রায় ৩০ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে এটি সম্পন্ন করেন। এটি কেবল প্রচলিত কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়, বরং সমকালীন সমস্যার আলোকে কুরআনের একটি প্রায়োগিক দিকনির্দেশনা।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা: আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতি এবং সমাজতত্ত্বের প্রেক্ষাপটে কুরআনের বিধানগুলোকে তিনি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
  • উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য (তাফহিম): ‘তাফহিম’ শব্দের অর্থ হলো ‘বুঝিয়ে দেওয়া’। কুরআনের মূল বার্তা বা এর প্রাণসত্তাকে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়াই ছিল এই তাফসিরের মূল লক্ষ্য।
  • ভূমিকা ও শানে নুযুল: প্রতিটি সূরার শুরুতে এর নামকরণের কারণ, নাজিলের সময়কাল এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা পাঠককে সেই সময়ের পরিবেশে নিয়ে যায়।
  • আন্দোলনমুখী দৃষ্টিভঙ্গি: তিনি কুরআনকে কেবল তিলাওয়াতের গ্রন্থ হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবের ইশতেহার হিসেবে তুলে ধরেছেন। দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টা এবং ইকামতে দ্বীনের গুরুত্ব এতে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
  • সরল ভাষা: জটিল পারিভাষিক শব্দের পরিবর্তে তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও গতিশীল ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণ শিক্ষিত মানুষের কাছেও খুব সহজে বোধগম্য।

সারসংক্ষেপ: তাফহিমুল কুরআন বর্তমান বিশ্বের বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যারা কুরআনকে একটি জীবন বিধান হিসেবে বুঝতে চান এবং বর্তমান বিশ্বের জটিল পরিস্থিতির সমাধান কুরআনের আলোকে খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি অনন্য পাঠ্য।

নিচে তাফসিরটি ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলো :

তাফহিমূলের সচনাপত্রের লিংক

বিষয় নির্দেশকা ডাইনলোড

১ম খণ্ড। ২য় খণ্ড। ৩য় খণ্ড। ৪র্থ খণ্ড। ৫ম খণ্ড। ৬ষ্ঠ খণ্ড। ৭ম খণ্ড। ৮ম খণ্ড। ৯ম খণ্ড। ১০ম খণ্ড। ১১তম খণ্ড। ১২তম খণ্ড। ১৩তম খণ্ড। ১৪তম খণ্ড। ১৫তম খণ্ড। ১৬তম খণ্ড। ১৭তম খণ্ড। ১৮তম খণ্ড। ১৯তম খণ্ড।

সম্পূর্ন তাফসিরটি একসাথে ক্লিক করুন



মুহাদ্দিস : সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী

সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (রহ.)-এর ‘রাসায়েল ও মাসায়েল’ ইসলামি সাহিত্য জগতের এক অনন্য সংকলন। এটি মূলত তাঁর কাছে পাঠানো বিভিন্ন জটিল প্রশ্নের উত্তর এবং সমসাময়িক নানা সমস্যার শরয়ি সমাধানের একটি দালিলিক সংকলন। ১৯৪৩ সাল থেকে মাসিক ‘তরজুমানুল কুরআন‘ পত্রিকায় তিনি পাঠকদের জীবনঘনিষ্ঠ ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্নের জবাব দেওয়া শুরু করেন, যা পরবর্তীকালে খণ্ড আকারে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে ইবাদত, লেনদেন, রাজনীতি এবং সমাজব্যবস্থা সম্পর্কিত জটিল বিষয়গুলোকে অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য ও আধুনিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মওদুদী সাহেবের লেখনীর বিশেষত্ব হলো—তিনি কেবল প্রথাগত ফতোয়া দেননি, বরং ইসলামের মৌলিক দর্শনের আলোকে সেগুলোর যৌক্তিক বিশ্লেষণ করেছেন।


উপমহাদেশে এর প্রভাব

উপমহাদেশের ইসলামি চিন্তাধারায় এবং শিক্ষিত মুসলিম সমাজের মানসিক পুনর্গঠনে ‘রাসায়েল ও মাসায়েল’-এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • যৌক্তিক উপস্থাপনা: বিংশ শতাব্দীতে যখন শিক্ষিত মুসলিম সমাজ পাশ্চাত্য দর্শনের প্রভাবে ইসলামি বিধান নিয়ে সন্দিহান ছিল, তখন এই গ্রন্থটি ইসলামের বিধানগুলোকে অত্যন্ত আধুনিক ও যৌক্তিক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করে তাদের সংশয় দূর করেছে।
  • আধুনিক সমস্যার সমাধান: বিবর্তনবাদ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং নারীবাদ—এসব আধুনিক বিষয়ের সঙ্গে ইসলামের অবস্থান কী হবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা এই বইয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ খুঁজে পেয়েছে।
  • ফিকহী সংকীর্ণতা দূরীকরণ: এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবের অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং কুরআন ও সুন্নাহর মূল চেতনা থেকে দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে মুসলিমদের চিন্তাচেতনাকে প্রশস্ত করেছে।
  • আন্দোলনের ভিত্তি: জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের জন্য এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কোষাগার হিসেবে কাজ করে, যা তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের শরয়ি ভিত্তি শক্তিশালী করেছে।

সংক্ষেপে, উপমহাদেশে ইসলামের সঠিক পুনর্জাগরণ এবং ইসলামি জীবনবিধানকে একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপ দেওয়ার পেছনে এই গ্রন্থের অবদান অনস্বীকার্য।

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড নিজের লিংক দেখুন :

ক্র: নংখণ্ড নম্বরডাউনলোড
০১প্রথম খণ্ড ডাউনলোড
০২দ্বিতীয় খণ্ড ডাউনলোড
০৩তৃতীয় খণ্ড ডাউনলোড
০৪চতুর্থ খণ্ড ডাউনলোড
০৫পঞ্চম খণ্ডডাউনলোড
০৬ষষ্ঠ খণ্ড ডাউনলোড
০৭সপ্তম খণ্ড ডাউনলোড


ক্র: নংখণ্ড নম্বরডাউনলোড
০১প্রথম খণ্ড ডাউনলোড
০২দ্বিতীয় খণ্ড ডাউনলোড
০৩তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ড ডাউনলোড
০৫পঞ্চম খণ্ড ডাউনলোড










book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



০৮. আজকের দুনিয়ায় ইসলাম



০৯. আসমাউল হুসনা



১০. ইসলাম ও ধর্মহীন গণতন্ত্র



১১. ইসলাম ও সামজিক সুবিচার



১২. ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য



১৩. ইসলামী আইন



১৪. ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচী



১৫. ইসলামী আন্দোলনের সঠিক কর্মপন্থা



১৬. ইসলামী জীবন ব্যবস্থার মৌলিক রূপরেখা



১৭. ইসলামী দাওয়াতের পথ



১৮. ইসলামী বিপ্লবের পথ



১৯. ইসলামে মৌলিক মানবাধিকার




২০. ইসলামের নৈতিক দৃষ্টিক্ষণ



২১. কুরবানীর তাৎপর্য



২২. খতমে নবুয়্যাত



২৩. জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের ভিত্তি



২৪. নবী জীবনের বৈশিষ্ট্য



২৫. নবীর কুরআনী পরিচয়



২৬. পত্রাবলী



২৭. ভূমির মালিকানা বিধান



২৮. মুমিনের করনীয়



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন




বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



৫৮. সীরাতে রাসূলের পয়গাম



৫৯. ইসলামের জীবন পদ্ধতি



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



৮৬. ইসলাম ও জাহেলিয়াত

অনুবাদঃ মওলানা আব্দুর রহিম

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন


বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



book

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন



৯২. আদর্শ মানব



৯৩. মুরতাদের শাস্তি



৯৪. মোগল সাম্রাজ্য পতনের ইতিহাস



৯৫. রাহমাতুল্লিল আলামীন



৯৬. শান্তির পথ




"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"