মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়শী

বিশ শতকের প্রথমার্ধে মুসলিম বাংলার ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং আকিদাগত পুনর্জাগরণের ইতিহাসে যে ক’জন কালজয়ী মনীষী আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনন্য সাধারণ ও পুরোধা ব্যক্তিত্ব হলেন আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কোরায়শী (রহ.)। তিনি ছিলেন একাধারে ক্ষুরধার প্রাবন্ধিক, কালজয়ী গবেষক, আপসহীন রাজনীতিবিদ, দূরদর্শী সমাজ-সংস্কারক এবং নির্ভীক সাংবাদিক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলের ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন— প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর মেধা, বাগ্মিতা ও লেখনী শক্তি সমকালীন সমাজকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। তীব্র শারীরিক অসুস্থতা এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মিল্লাতের আকিদা ও রাজনৈতিক সুরক্ষায় তাঁর আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

১. জন্ম, বংশ পরিচয় ও পারিবারিক আবহ

আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কোরায়শী ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে অবিভক্ত ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত বর্ধমান জেলার ‘টুবগ্রাম’ নামক গ্রামে তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মূলত বর্তমান বাংলাদেশের উত্তর জনপদের রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটি রেল স্টেশনের নিকটবর্তী ‘বস্তীআড়া’ গ্রামে। পরবর্তী সময়ে তাঁর পৈতৃক এই গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘নূরুল হুদা’ রাখা হয়।

বংশীয় গৌরব ও ঐতিহ্য

তাঁর পারিবারিক ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং দ্বীনি ঐতিহ্যে ভাস্বর। আল্লামা কাফীর বংশলতিকা ইসলামের প্রথম খলিফা, আমীরুল মুমিনীন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর পবিত্র বংশধারার সাথে মিলিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক ও সম্মানিত বংশীয় সম্পর্কের কারণে তাঁদের পরিবার সমাজ ও সুধীসমাজে ‘আল-কোরায়শী’ বা ‘সিদ্দিকী’ হিসেবে সুপরিচিত ছিল।

পিতার প্রভাব ও আদর্শিক ভিত্তি

তাঁর পিতা ছিলেন তৎকালীন অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম এবং আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হাদী মিয়াঁ। মাওলানা আব্দুল হাদী ছিলেন দিল্লির বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিস, ‘শায়খুল কুল ফিল الكل’ হযরত মিয়াঁ নাযীর হুসাইন দেহলভী (১৮০৫-১৯০২ খৃ.)-এর অন্যতম সুযোগ্য এবং ঘনিষ্ঠ ছাত্র। দিল্লির সেই বিখ্যাত ইলমি মারকায থেকে শিক্ষালাভের কারণে মাওলানা আব্দুল হাদী মিয়াঁ বিশুদ্ধ তাওহীদ এবং সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। পৈতৃক সূত্রেই আল্লামা কাফীর পরিবার ‘আহলেহাদীছ’ (সহীহ আকিদা ও আমল) আদর্শে উজ্জীবিত ছিল এবং এই পারিবারিক পরিবেশই তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের মজবুত ইসলামি ভিত্তিমূল নির্মাণ করে দিয়েছিল।

২. শিক্ষাজীবন, অসাধারণ মেধা ও ভাষাজ্ঞান

আল্লামা কাফীর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর নিজস্ব পারিবারিক দ্বীনি ও রূহানি পরিবেশে। পিতার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তিনি অত্যন্ত অল্প বয়সেই পবিত্র কুরআনুল কারীম হিফয ও তিলাওয়াত শিক্ষা করেন। একই সাথে তিনি আরবী ভাষা, ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) এবং ইসলামি শরীয়াহর প্রাথমিক ও মৌলিক কিতাবসমূহ পৈতৃক মাদ্রাসায় সম্পন্ন করেন।

উচ্চশিক্ষা: কলকাতা মাদ্রাসা থেকে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা শেষে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে তিনি কলকাতার বিখ্যাত ‘কলকাতা মাদ্রাসা’ (বর্তমান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)-এ ভর্তি হন। সেখানে তিনি তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্যে থেকে হাদীস, তাফসীর, ফিকহ ও আসমাউর রিজাল শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি সমকালীন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ও নামী ‘সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ’-এ ভর্তি হন। এখানে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান গভীর মনোযোগের সাথে অধ্যায়ন করেন।

বহুভাষাবিদ ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা

আল্লামা কাফী ছিলেন একজন অসাধারণ প্রতিভাবান বহুভাষাবিদ। তিনি একাধারে:

  • আরবী ও ফারসী: ধর্মীয় মূল উৎস ও ধ্রুপদী সাহিত্য অনুধাবনের জন্য।
  • উর্দু: তৎকালীন উপমহাদেশের ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যম হিসেবে।
  • ইংরেজি ও বাংলা: আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং মাতৃভাষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য।

এই সবকটি ভাষায় তাঁর সমান ও অনবদ্য দক্ষতা ছিল। ছাত্র অবস্থাতেই তাঁর প্রখর মেধা, গভীর চিন্তাবোধ এবং যেকোনো জটিল তাত্ত্বিক বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা শিক্ষকদের বিস্মিত করত। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে অধ্যয়নকালেই তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উপমহাদেশের মুসলিম মিল্লাতের চরম সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দুর্দশা তাঁর তরুণ মনকে গভীরভাবে ব্যথিত ও আলোড়িত করেছিল।

৩. ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সমগ্র ভারতবর্ষ যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে উত্তাল, তখন তরুণ আব্দুল্লাহেল কাফী সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের আরামদায়ক ও নিশ্চিত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ত্যাগ করে রাজপথে নেমে আসেন। তিনি মহাত্মা গান্ধী এবং মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও শওকত আলী ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক ‘অসহযোগ আন্দোলন’ এবং ‘খিলাফত আন্দোলন’-এ সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি ছাত্রজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানতেও দ্বিধাবোধ করেননি।

বাগ্মীতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা

তিনি ছিলেন এক অপূর্ব বাগ্মী। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল বজ্রগম্ভীর এবং যুক্তি ছিল অকাট্য। তাঁর জ্বালাময়ী বক্তব্য সাধারণ ও শোষিত মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৎকালীন ভারতের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। তিনি মুসলিমদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্ত্বা বিকাশের লক্ষ্যে গঠিত ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি’ এবং ‘মুসলিম ন্যাশনাল পার্টি’র সাথে যুক্ত থেকে দীর্ঘদিন সক্রিয় ও প্রথম সারির রাজনীতি পরিচালনা করেন।

রাজনীতি থেকে আংশিক অবসর ও আদর্শিক মোড় পরিবর্তন

দেশভাগের পূর্বে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন ক্ষমতার কাড়াকাড়ি এবং বিভিন্ন আদর্শিক ভাঙা-গড়ার খেলা চলছিল, তখন আল্লামা কাফী লক্ষ্য করলেন যে, মুসলিম সমাজ তাঁদের মূল আকিদাগত অবস্থান ও নৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে। কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে মুসলিম মিল্লাতের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়, যদি না তাদের আকিদা ও আমল সংশোধন করা যায়— এই সত্য তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।

ফলশ্রুতিতে, ১৯৪২ সালে পবিত্র হজ্জব্রত পালন শেষে মক্কা-মদীনা থেকে ফিরে এসে তিনি প্রচলিত সক্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা বা অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দ্বীনি সংস্কার, সমাজসেবা, সমাজ থেকে শিরক-বিদআত উচ্ছেদ এবং ইসলামী লেখনীর কাজে নিয়োজিত করেন।

৪. আহলেহাদীছ আন্দোলন ও প্রাতিষ্ঠানিক সাংগঠনিক নেতৃত্ব

প্রচলিত রাজনীতি থেকে সরে এলেও মিল্লাতের ঈমানী, আমলী ও সামাজিক সংস্কারের জন্য একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তিনি তীব্রভাবে অনুভব করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বিক্ষিপ্ত শক্তি দিয়ে বাতিল শক্তির মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।

১৯৪৬ সালের ঐতিহাসিক হারাগাছ সম্মেলন

১৯৪৬ সালে বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর জেলার হারাগাছে তাঁর একক দূরদর্শী পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমে একটি ঐতিহাসিক ও বিশাল ‘আহলেহাদীছ সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে নিখিল ভারত থেকে সমবেত হওয়া হাজার হাজার আলেম, গবেষক ও সুধীজনদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কোরায়শীকে সভাপতি নির্বাচিত করে ‘নিখিল বঙ্গ ও আসাম জমঈয়তে আহ্লেহাদিছ’ গঠিত হয়। এটি ছিল বাংলার মাটিতে সহীহ আকিদা আন্দোলনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা।

[১৯৪৬: নিখিল বঙ্গ ও আসাম জমঈয়তে আহ্লেহাদিছ] 
                │
                ▼ (১৯৪৭ দেশভাগ)
[পূর্ব পাক জমঈয়তে আহলে হাদীস]
                │
                ▼ (১৯৭১ স্বাধীন বাংলাদেশ)
[বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস]

দেশভাগ ও পরবর্তী সাংগঠনিক তৎপরতা

১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর যখন পাকিস্তান ও ভারত দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়, তখন এই সংগঠনটি ‘পূর্ব পাক জমঈয়তে আহলে হাদীস’ নামে পুনর্গঠিত হয়। আমৃত্যু তিনি এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও যোগ্যতার সাথে নেতৃত্ব দেন। (উল্লেখ্য, এই সংগঠনটিই আজ স্বাধীন বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস’ নামে পরিচিত)।

১৯৪৯ সালে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠে নওদাপাড়ার মাটিতে তিনি এক বিশাল ও ঐতিহাসিক সমাবেশের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সেই দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলেই আজ নওদাপাড়া ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল উত্তরবঙ্গে সহীহ আকিদা, বিশুদ্ধ ইসলামি শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের প্রধান মারকায বা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

৫. সাংবাদিকতা, সাহিত্য সাধনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ

আল্লামা আব্দুল্লাহেল কাফী কেবল একজন মাঠপর্যায়ের নেতা বা বক্তা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন উঁচুদরের দূরদর্শী সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, সমাজ-তাত্ত্বিক ও গবেষক। মুসলিম সমাজকে শত বছরের পুঞ্জীভূত কুসংস্কার, পীরপূজা, মাজারপূজা, শিরক ও বিদআত মুক্ত করার জন্য তিনি গণমাধ্যমকে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন।

গণমাধ্যমের বিকাশ: সাপ্তাহিক আরাফাত ও তর্জুমানুল হাদীস

তাঁরই সুনিপুণ সম্পাদনায় আত্মপ্রকাশ করে:

১. সাপ্তাহিক ‘আরাফাত’: যা সাধারণ মানুষের মাঝে সমসাময়িক সচেতনতা ও সামাজিক সংস্কারের বার্তা ছড়াত।

২. মাসিক ‘তর্জুমানুল হাদীস’: এটি ছিল উচ্চতর গবেষণাধর্মী পত্রিকা, যেখানে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে বিভিন্ন তাত্ত্বিক বিষয়ের সমাধান দেওয়া হতো।

এই পত্রিকা দুটির মাধ্যমে তিনি বিশুদ্ধ ইসলামি আকিদা, সমাজনীতি, অর্থনীতি এবং তৎকালীন আন্তর্জাতিক ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ, তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধ ও সম্পাদকীয় লিখতেন। তাঁর লেখনী ছিল যেমন ধারালো, তেমনি যুক্তিপূর্ণ ও রেফারেন্সে সমৃদ্ধ।

কালজয়ী গ্রন্থসমূহ

ইসলামের বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও সমসাময়িক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিষয়ের ওপর তিনি বেশ কিছু অমর গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

গ্রন্থের নামমূল প্রতিপাদ্য বিষয়
ইসলামী শাসনতন্তের সূত্রইসলামী রাষ্ট্রের রূপরেখা, সংবিধান ও খেলাফতের মূলনীতি।
নবুওতে মোহাম্মদীরাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর নবুওতের সত্যতা এবং এর যৌক্তিক ও ঐতিহাসিক প্রমাণ।
আহলে হাদীস পরিচিতিসালাফে সালেহীনের আকিদা ও আহলেহাদীছ আন্দোলনের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও লক্ষ্য।
ধন বণ্টনের রকমারি ফর্মুলাসমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার বিপরীতে ইসলামের সুষম অর্থনৈতিক বণ্টন ব্যবস্থা।
আল-ইসলাম ও কমিউনিজমসাম্যবাদের অসারতা এবং ইসলামের শাশ্বত জীবনব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব।

কমিউনিজমের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের তীব্র জোয়ার চলছিল এবং এর প্রভাবে বহু মুসলিম তরুণ ও বুদ্ধিজীবী নাস্তিক্যবাদী মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছিল, তখন তিনি তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘আল-ইসলাম ও কমিউনিজম’-এর মাধ্যমে সুচারুভাবে সমাজতন্ত্রের অসারতা, এর অভ্যন্তরীণ বৈপরীত্য এবং মানব প্রকৃতির সাথে এর সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি ইসলামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার মানবিক ও ঐশ্বরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।

প্রবন্ধ, সাহিত্য ও ইসলামি গবেষণায় তাঁর এই অনন্য ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মাননা ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়। তিনি ছিলেন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত প্রথম দিকের ইসলামি চিন্তাবিদ ও ওলামাদের মধ্যে অন্যতম।

৬. সেক্যুলারিজমের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ও ইসলামি রাজনীতি

আল্লামা কাফীর নিকট রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি কোনো দুনিয়াবি স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যম ছিল না, বরং তা ছিল দ্বীনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি তাঁর সম্পাদিত ‘তর্জুমানুল হাদীস’ পত্রিকায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে লিখেছিলেন:

“কবরে প্রবেশ না করা পর্যন্ত রাজনীতির প্রভাব এড়াইয়া চলার উপায় নাই, অধিকন্তু ইছলামী রাজনীতি ঈমান ও আমলে ছালেহেরই অপরিহার্য অংশ।”

তবে তিনি পশ্চিমা ধারার কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রীক বা সুবিধাবাদী পার্লামেন্টারী তৎপরতাকে প্রকৃত ইসলামি রাজনীতি মনে করতেন না। তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল কুরআন ও সুন্নাহর অমোঘ বিধানের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর যখন দেশের শাসনতন্ত্র বা সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়া চলছিল, তখন পশ্চিমা ঘরানার একদল বুদ্ধিজীবী ও শাসক পাকিস্তানকে একটি সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত শুরু করে। আল্লামা কাফী এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামদের ঐক্যবদ্ধ করে পাকিস্তানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইসলামি শাসনতন্ত্রের রূপরেখা’ প্রণয়নে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেন।

৭. জীবনের অন্তিম মুহূর্ত এবং ঐতিহাসিক সেই রাত

মাওলানা আব্দুল্লাহেল কাফীর জীবনের শেষ দিনগুলো ছিল শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও যন্ত্রণাপূর্ণ, কিন্তু ঈমানী দীপ্তিতে তা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পিত্তশূল (Gallstone) এবং পিত্তপ্রদাহের (Cholecystitis) দুঃসহ বেদনায় ভুগছিলেন। কলকাতার বিখ্যাত চিকিৎসক ও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ড. বি. সি. রায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাঁর পেটে একবার জটিল অপারেশন করা হলেও তিনি পূর্ণ সুস্থ হতে পারেননি; বরং পিত্তকোষের জটিলতা রয়েই গিয়েছিল। শেষ বয়সে তাঁর এই কষ্টের সাথে যোগ হয়েছিল হৃদরোগের দুর্বলতা, উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension), বহুমূত্র (Diabetes) এবং সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীনতার মতো মারাত্মক ব্যাধি। এত শারীরিক যাতনা ও অন্ধত্ব সত্ত্বেও মিল্লাতের যেকোনো বৈচারিক বা আদর্শিক সংকটে তিনি ছিলেন সিংহপুরুষের মতো অটল ও আপসহীন।

১৯৬০ সালের শাসনতন্ত্র কমিশনের প্রশ্নমালা

১৯৬০ সালের মে মাসে পাকিস্তান শাসনতন্ত্র কমিশন দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, আইনবিদ ও আলেমদের নিকট সংবিধানের রূপরেখা নির্ধারণের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল প্রশ্নমালা প্রেরণ করে। রোগশয্যায় শায়িত, দৃষ্টিহীন আল্লামা কাফী বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই প্রশ্নমালার সঠিক ইসলামি ও যৌক্তিক উত্তর দেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ আকিদাগত চরিত্র।

চিকিৎসকদের কঠোর বারণ এবং তীব্র শারীরিক বেদনা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তিনি দিন-রাত এই প্রশ্নমালার উত্তর তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর মনে সার্বক্ষণিক এই ভয় তাড়া করে ফিরছিল যে— যদি ওলামাদের পক্ষ থেকে সঠিক উত্তর ও ইসলামি দলিল উপস্থাপন না করা হয়, তবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা এই সুযোগে পাকিস্তানকে একটি সম্পূর্ণ সেক্যুলার রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলবে।

২৫শে মে-র সেই আবেগঘন সাক্ষাৎ

১৯৬০ সালের ২৪শে মে আল্লামা কাফীর বিশ্বস্ত প্রতিনিধিরা (বংশালের বিশিষ্ট রঈস হাজী মোহাম্মাদ আকীল এবং দৈনিক নাজাতের প্রাক্তন সম্পাদক কাজী আবদুশ শহীদ) তৎকালীন প্রখ্যাত আলেম মাওলানা রাগেব আহসানের ঢাকাস্থ বাসভবনে যান এবং আল্লামা কাফীর মারাত্মক অসুস্থতার কথা জানিয়ে শাসনতন্ত্র কমিশনের কাজে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন।

পরদিন ২৫শে মে মাওলানা রাগেব আহসান স্বয়ং ‘আরাফাত’ দফতরে গিয়ে আল্লামা কাফীকে বিছানায় অত্যন্ত দুর্বল ও জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থায় দেখতে পান। সেদিন আল্লামা কাফী অত্যন্ত আবেগঘন ও কম্পিত কণ্ঠে মাওলানা রাগেব আহসানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:

“অপারেশন বিফল হয়েছে, পিত্তকোষে কোন পাথরের সন্ধান পাওয়া যায় নাই, বেদনা আগের চাইতেও বর্ধিত হয়েছে, দুর্বলতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু পাকিস্তানের অবস্থা আমাকে পানি থেকে তীরে নিক্ষিপ্ত অসহায় মৎসের ন্যায় বিচলিত করে তুলেছে। পাকিস্তানকে একটি সেক্যুলার স্টেটে পরিণত করার যে অপচেষ্টা শুরু হয়েছে, সে দৃশ্য অবলোকন করে আমি কিছুতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পাচ্ছিনা। এখন শাসনতন্ত্র কমিশনের প্রশ্নমালার উত্তর দেওয়া একান্ত আবশ্যক…”

মাওলানা রাগেব আহসান যখন এই কাজের পরিধি দেখে দেশের অন্যান্য বড় বড় আলেমদের নিয়ে একটি বড় বৈঠক ডাকার পরামর্শ দেন, তখন দূরদর্শী আল্লামা কাফী জানান যে, বৈঠক ডাকলে দীর্ঘসূত্রতা হবে এবং সরকারের বেঁধে দেওয়া সময় পার হয়ে যেতে পারে। তিনি আসন্ন ঈদুল আযহার (ঈদে কুরবান) ছুটি তাঁর পৈতৃক ভূমি দিনাজপুরের নূরুল হুদায় কাটানোর তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করে কাজটি দ্রুত শেষ করতে বলেন।

তখন রসিকতা করে মাওলানা রাগেব আহসান বলেছিলেন, “হযরত, এটা মিল্লাতের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নাযুক কাজ। এজন্য আপনাকে তো ঈদে-কুরবানকে বলিদান করতে হবে।” এই কথা শোনার পর মজলিশে এক গভীর ও নিথর নীরবতা নেমে আসে। এটি ছিল মূলত এক অলৌকিক ইঙ্গিত (Coincidence), কারণ আল্লামা কাফী সত্যি সত্যিই মিল্লাতের আকিদা সুরক্ষার জন্য নিজের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু ও কুরবানি দিতে যাচ্ছিলেন।

‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’

১লা জুন, ১৯৬০ সাল নাগাদ তিনি জমঈয়তের অফিস সেক্রেটারি মৌলবী মীযানুর রহমানকে সাথে নিয়ে শয্যাশায়ী ও অন্ধ অবস্থায় মুখে বলে বলে (ডিক্টেশন দিয়ে) শাসনতন্ত্র কমিশনের জওয়াব লেখা প্রায় শেষ করে আনেন। ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’— এই নীতিতে অটল থেকে তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক পাহারাদারির কাজটি সম্পাদন করে যান।

৮. ইন্তেকাল ও চিরবিদায়

১৯৬০ সালের ৪ঠা জুন (হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আযহার দিন) ঢাকার বুকে মিল্লাতে ইসলামের এই মহান মুজাহিদ, ইলমের দেদীপ্যমান সূর্য শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

যেদিন মক্কার পবিত্র আরাফাত ও মিনার ময়দানে বিশ্ব মুসলিম কুরবানির উৎসবে মগ্ন ছিলেন এবং আল্লাহর রাহে পশু কোরবানি দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই দিনই বাংলার জমিনে দ্বীনের এই মুখলিস খাদেম নিজের জীবনকেই আল্লাহর রাহে উৎসর্গ (কুরবানি) করে পরলোকে পাড়ি জমান। মৃত্যুকালে এই মহান মনিষীর বয়স হয়েছিল মাত্র ৬০ বছর।

শেষ ঠিকানা: পৈতৃক ভূমি দিনাজপুর

তাঁর ইন্তেকালের পর সমগ্র দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মরদেহ ঢাকা থেকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে ট্রেনযোগে তাঁর পৈতৃক নিবাস দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটিস্থ ‘নূরুল হুদা’ (বস্তীআড়া) গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাজার হাজার ভক্ত, আলেম ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তাঁকে পূর্ণ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

৯. মূল্যায়ন, উত্তরাধিকার ও উত্তরসূরিদের জন্য প্রেরণা

আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কোরায়শী (রহ.)-এর সমগ্র জীবন ছিল মূলত জ্ঞানচর্চা, সমাজ সংস্কার, আকিদাগত বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং ঈমানী আত্মত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য। তিনি পিত্তশূলের দুঃসহ বেদনা, অন্ধত্ব এবং নানাবিধ শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ইসলামের জন্য যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদান রেখে গেছেন, তা সমকালীন মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

[আল্লামা আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কোরায়শী (রহ.)]
                       │
                       ▼ (আদর্শিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার)
[আল্লামা ড. মুহাম্মদ আব্দুল বারী (রহ.)]
(সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস)

যোগ্য উত্তরসূরি ও মিশন এগিয়ে নেওয়া

তাঁর ইন্তেকালের পর ‘বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস’-এর এই গুরুদায়িত্ব ও সভাপতির আসন অর্পণ করা হয় তাঁরই সুযোগ্য ভ্রাতুষ্পুত্র, উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষা প্রশাসক আল্লামা ড. মুহাম্মদ আব্দুল বারী (রহ.)-এর ওপর। ড. মুহাম্মদ আব্দুল বারী (যিনি পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন) তাঁর চাচার রেখে যাওয়া এই দ্বীনি ও প্রাতিষ্ঠানিক মিশনকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যান।

উপসংহার

আল্লামা কাফী আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া সাহিত্য, আদর্শ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আজও জীবন্ত। বাংলার মুসলিম সমাজকে শিরক-বিদআতের অন্ধকার থেকে সুন্নাহর আলোয় নিয়ে আসতে, সমাজ থেকে নৈতিক অবক্ষয় দূর করতে এবং কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আল্লামা আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কোরায়শীর লেখনী, জীবনদর্শন ও আপসহীন সংগ্রাম চিরকাল মুসলিম উম্মাহর জন্য পথপ্রদর্শক ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।

আল্লাহ তাআলা দ্বীনের এই মহান সেনানী, মুখলিস দাঈ ও গবেষককে তাঁর দ্বীনি খিদমতসমূহ কবুল করে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।

তার লেখা কিছু বই :

০১.আল ইসলাম বনাম কমিউনিজম

লেখক : আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়শী



০২. আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলিবানী এর জীবনী

লেখক :  আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়শী



০৩. একটি পত্রের জবাব

লেখক : আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়শী



০৪. কালেমা ত্যাইয়েবা

লেখক : আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়শী



০৫. তিন তালাক প্রসঙ্গ

লেখক : আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়শী



০৬. নবুয়াতি মুহাম্মাদী –

লেখক : আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়শী


০৭. ফিরকাবন্দি বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি

লেখক : আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়শী

"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"