ইতিহাস ও ঐতিহ্য: গৌরবোজ্জ্বল অতীতের দর্পণ
ইসলামের ইতিহাস কেবল রাজ্য জয় বা ক্ষমতার পালাবদলের গল্প নয়, বরং এটি হলো ন্যায়বিচার, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং মানব সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছানোর এক জীবন্ত উপাখ্যান। মরু সাহারা থেকে শুরু করে আন্দালুসিয়ার সবুজ প্রান্তর পর্যন্ত ইসলামের যে বিজয় নিশান উড়েছে, তার মূল শক্তি ছিল ঈমানি জজবা এবং ইনসাফ কায়েমের দৃঢ় অঙ্গীকার। আমাদের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আমাদের শেখায় কীভাবে শূন্য থেকে উঠে এসে বিশ্বকে শাসন করতে হয় এবং অন্ধকার যুগে জ্ঞানের আলো ছড়াতে হয়।
সাহাবায়ে কেরামদের ত্যাগ, খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ শাসন, উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমলের জ্ঞানতাত্ত্বিক বিপ্লব এবং পরবর্তী মুসলিম সালতানাতগুলোর বীরত্বগাথা আমাদের শিকড়কে চিনতে সাহায্য করে। ইতিহাসের এই বাঁকগুলো জানা থাকলে বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা সহজ হয়।
আমাদের এই বিভাগে আমরা প্রামাণ্য ইতিহাস গ্রন্থ, মুসলিম মনীষীদের জীবনী এবং ইসলামি সভ্যতার অবদান সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য বইসমূহ সংকলন করেছি। এসকল গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে আপনি ইসলামের সোনালী দিনগুলোর বাস্তব চিত্র খুঁজে পাবেন এবং নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করার প্রেরণা পাবেন।
ইতিহাসের পাতা থেকে শিক্ষা নিন, গৌরবময় ঐতিহ্যকে জানুন এবং নতুন এক সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখুন।
০১. ইসলামী বিশ্বকোষ
প্রকাশক : ইসলামি ফাউন্ডেশন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’ (Encyclopedia of Islam) বাংলা ভাষায় রচিত ও সংকলিত ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং তথ্যবহুল আকর গ্রন্থ। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের বিখ্যাত ইসলামি বিশ্বকোষগুলোর আদলে এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
১. প্রকল্পের পটভূমি ও সংকলন
এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৮ সালে তৎকালীন ‘বাংলা একাডেমি’র অধীনে। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর কাজ পূর্ণোদ্যমে শুরু হয়। এটি মূলত নেদারল্যান্ডসের লাইডেন থেকে প্রকাশিত ‘The Encyclopaedia of Islam’ (EI) এর ওপর ভিত্তি করে শুরু হলেও, এতে মুসলিম বিশ্বের বরেণ্য আলেম ও গবেষকদের প্রচুর মৌলিক নিবন্ধ সংযোজিত হয়েছে।
২. খণ্ড ও বিন্যাস
- মোট খণ্ড: সাধারণত এটি ২৮ টি মূল খণ্ডে সমাপ্ত (পরবর্তীতে আরও পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে)।
- সংক্ষিপ্ত সংস্করণ: বিশাল এই সংগ্রহের পাশাপাশি সাধারণ পাঠকদের জন্য দুই খণ্ডে একটি ‘সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ’-ও প্রকাশ করা হয়েছে।
- বর্ণনাক্রম: বাংলা বর্ণমালা (অ, আ, ক, খ…) অনুযায়ী এন্ট্রিগুলো সাজানো হয়েছে।
৩. আলোচিত বিষয়সমূহ
এই বিশ্বকোষে ইসলামের প্রায় প্রতিটি শাখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে:
- আল-কুরআন ও হাদিস: বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা, শানে নুযুল এবং হাদিসের পরিভাষা।
- ফিকহ (ইসলামি আইন): চার মাযহাবের বিশ্লেষণ, ইবাদত এবং মুয়ামালাত (লেনদেন) সংক্রান্ত বিধিবিধান।
- জীবনী: নবী-রাসূল (আ.), সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, ইমাম, মুহাদ্দিস, সুফি-সাধক এবং মুসলিম মনীষীদের বিস্তারিত জীবনী।
- ইতিহাস ও ভূগোল: ইসলামের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন রাজবংশ, যুদ্ধ, এবং মুসলিম শাসিত দেশ ও শহরের ইতিহাস।
- সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান: ইসলামি স্থাপত্য, শিল্পকলা, দর্শন এবং বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান।
৪. কেন এই বইটি গুরুত্বপূর্ণ?
- নির্ভরযোগ্যতা: এটি কোনো একক ব্যক্তির মত নয়, বরং শত শত আলেম ও গবেষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।
- রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার: গবেষণাপত্র বা উচ্চতর ইসলামি শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি বাংলা ভাষার প্রধান রেফারেন্স হিসেবে স্বীকৃত।
- পার্থিব ও পারলৌকিক জ্ঞানের সমন্বয়: এখানে ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
৫. সংগ্রহ ও মুদ্রণ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে এর পুনর্মুদ্রণ করে থাকে। আপনি যদি পুরো সেটটি সংগ্রহ করতে চান, তবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান বিক্রয়কেন্দ্র বা বায়তুল মোকাররম সংলগ্ন লাইব্রেরিগুলোতে এটি সহজেই পাবেন।

ইসলামী বিশ্বকোষ ডাউনলোড লিংক:
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৫ | পঞ্চম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৬ | ষষ্ঠ খণ্ড | ডাউনলোড |
| দ্বাদশ খণ্ড | ডাউনলোড |
০২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.)-এর অমর সৃষ্টি ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ বা ‘ইতিহাসের শুরু ও শেষ’ মুসলিম উম্মাহর জ্ঞানভাণ্ডারে এক অমূল্য রত্ন।

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: সৃষ্টির আদি-অন্তের প্রামাণ্য ইতিহাস
ইসলামি ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ও সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ অন্যতম। প্রখ্যাত মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবেত্তা আল্লামা হাফিজ ইবনে কাসীর (রহ.) কর্তৃক প্রণীত এই গ্রন্থটি কেবল একটি সাধারণ ইতিহাস বই নয়, বরং এটি সৃষ্টিজগতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মহাকাব্যিক পথরেখা। লেখক এতে কুরআন, সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বর্ণনার আলোকে মহাবিশ্বের জন্ম থেকে শুরু করে কিয়ামত পরবর্তী পরকাল পর্যন্ত সবটুকু চিত্র তুলে ধরেছেন।
গ্রন্থের কাঠামো ও বিন্যাস
বিশাল এই গ্রন্থটি সাধারণত ১০ টি খণ্ডে বিন্যস্ত (প্রকাশনা ভেদে ভিন্ন হতে পারে)। লেখক তাঁর এই বিশাল গবেষণাকর্মকে প্রধানত তিনটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত করেছেন:
- প্রথম ভাগ (সৃষ্টির আদি কথা ও নবুওয়াত): এতে আরশ, কুরসী, লওহে মাহফুজ, আসমান-জমিন এবং এদের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে—যেমন ফেরেশতা, জিন ও শয়তানের সৃষ্টিতত্ত্ব আলোচনা করা হয়েছে। এরপর মানবজাতির পিতা আদম (আ.) থেকে শুরু করে যুগে যুগে প্রেরিত নবী-রাসূলগণের দাওয়াতি জীবন ও তাঁদের উম্মতদের কাহিনী বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই ভাগের সমাপ্তি ঘটেছে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র সীরাত বা জীবন-চরিত আলোচনার মাধ্যমে।
- দ্বিতীয় ভাগ (ইসলামের স্বর্ণযুগ ও সমকাল): রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে লেখকের নিজ সময় (৭৬৮ হিজরী) পর্যন্ত সুদীর্ঘ কালের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ইতিহাস এখানে স্থান পেয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং পরবর্তী যুগের প্রখ্যাত মনিষীদের জীবনী ও কর্ম এখানে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে চিত্রায়িত হয়েছে।
- তৃতীয় ভাগ (ভবিষ্যৎ ও পরকাল): এই অংশটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌতূহলোদ্দীপক। এতে কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ের বিভিন্ন ফিতনা-ফাসাদ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দাজ্জালের আবির্ভাব, ঈসা (আ.)-এর অবতরণসহ কিয়ামতের আলামতসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সবশেষে হাশর-নশর, বিচার দিবস এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বিশদ বিবরণের মাধ্যমে গ্রন্থটি সমাপ্ত হয়েছে।
গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও গ্রহণযোগ্যতা
আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) তাঁর এই গ্রন্থে প্রতিটি বর্ণনা কুরআন, হাদীস, সাহাবাগণের আসার এবং নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন। তথ্যের বিশুদ্ধতা যাঁচাইয়ে তিনি তাঁর মুহাদ্দিসসুলভ প্রজ্ঞা ব্যবহার করেছেন, যা একে অন্যান্য সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থ থেকে আলাদা করে তুলেছে।
বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.), ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী (রহ.) প্রমুখ মনিষী এই গ্রন্থের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে বদরুদ্দীন আইনী হানাফী (রহ.) এবং ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) গ্রন্থটির সার-সংক্ষেপও রচনা করেছেন।
‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ কেবল মুসলিম পাঠকদের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের যেকোনো গবেষকের জন্য এক অপরিহার্য উৎস। এটি আমাদের যেমন শেকড়ের সন্ধান দেয়, তেমনি ভবিষ্যতের পরকালীন জীবনের পাথেয় সংগ্রহে সতর্ক করে।
বিখ্যাত এই গ্রন্থটির ১-১৪ খন্ড অনুবাদ প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ। নিচে এ গ্রন্থগুলোর ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলো :
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৫ | পঞ্চম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৬ | ষষ্ঠ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৭ | সপ্তম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৮ | অষ্টম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৯ | নবম খণ্ড | ডাউনলোড| |
| ১০ | দশম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ১১ | একদশ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ১২ | দ্বাদশ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ১৩ | ত্রয়োদশ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ১৪ | চতুর্দশ খণ্ড | ডাউনলোড |
০৩. ইসলামের ইতিহাস
লেখক: মাওলানা আকবর শাহ খান নজীবাবাদী

মাওলানা আকবর শাহ খান নজীবাবাদী রচিত ‘ইসলামের ইতিহাস’ (তারিখে ইসলাম) একটি কালজয়ী এবং অত্যন্ত তথ্যবহুল ঐতিহাসিক সংকলন। ভারতীয় উপমহাদেশে উর্দু ভাষায় রচিত ইতিহাসের বইগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থ।
ইতিহাসের আয়নায় জাতি তার আত্মপরিচয় খুঁজে পায়। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে এর বিজয় অভিযান এবং খেলাফতের উত্থান-পতনের এক বিশাল ক্যানভাস নিয়ে রচিত হয়েছে মাওলানা আকবর শাহ খান নজীবাবাদীর এই অনন্য শাহকার—‘ইসলামের ইতিহাস’। যারা ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনকে একই সুতোয় গেঁথে পড়তে চান, তাদের জন্য এই গ্রন্থটি একটি অবশ্যপাঠ্য দলিল। স্বচ্ছ লেখনী এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এই বইটি পাঠক ও গবেষক মহলে সমানভাবে সমাদৃত।
বইটির প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তু:
- পদ্ধতিগত ধারাবাহিকতা: লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সীরাত থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদীন, উমাইয়া, আব্বাসীয় এবং স্পেনের মুসলিম শাসনের ইতিহাসকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছেন।
- সহজ ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা: বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর বর্ণনাভঙ্গি। জটিল ঐতিহাসিক তথ্যগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা সাধারণ পাঠকদের কাছে গল্পের মতো আকর্ষণীয় মনে হয়।
- নিরপেক্ষ ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: লেখক ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণে আবেগ এবং তথ্যের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা করেছেন। বিশেষ করে খেলাফতের মধ্যকার অন্তর্কোন্দল ও রাজনৈতিক সংকটগুলোকে তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে ও ইনসাফের সাথে বিশ্লেষণ করেছেন।
- ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: কেবল যুদ্ধের বর্ণনা নয়, বরং তৎকালীন বিশ্বের ভূ-রাজনীতি এবং মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কেও এতে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
কেন এই বইটি আপনার সংগ্রহে থাকা উচিত?
১. নির্ভরযোগ্য সূত্র: এই গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে ধ্রুপদী ঐতিহাসিক উৎসগুলোর (যেমন: তাবারী, ইবনে আসীর, ইবনে খালদুন) যথাযথ প্রয়োগ করা হয়েছে।
২. শিক্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি: এটি কেবল সাল-তারিখের সংকলন নয়, বরং জাতির পতন ও উত্থানের কারণগুলো চিহ্নিত করে বর্তমান প্রজন্মের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
৩. অনুবাদ ও সহজলভ্যতা: মূল উর্দু থেকে বাংলা ভাষায় এর অত্যন্ত মানসম্মত অনুবাদ পাওয়া যায়, যা আমাদের অঞ্চলের পাঠকদের জন্য আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব গাঁথা এবং ইতিহাসের অলিগলি জানতে মাওলানা নজীবাবাদীর এই বইটি একটি পূর্ণাঙ্গ পথপ্রদর্শক। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে নিজের শেকড় এবং ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হতে এই জ্ঞানগর্ভ সিরিজটি আপনার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে শ্রেষ্ঠ সংযোজন হতে পারে।
৪. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস
লেখক : ইসমাইল রেহান

মাওলানা ইসমাইল রেহান রচিত ‘মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস’ বর্তমানে বাংলা ভাষায় অনূদিত ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রামাণিক একটি গ্রন্থ। যারা ইসলামের দীর্ঘ দেড় হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে চান, তাদের জন্য এই বইটি একটি আকর গ্রন্থ।
ইতিহাস কেবল অতীত দিনের গল্প নয়, বরং উত্তরসূরিদের জন্য এগিয়ে যাওয়ার পাথেয়। আর সেই ইতিহাস যদি হয় মুসলিম উম্মাহর উত্থান-পতন, বিজয়-বিপর্যয় আর বীরত্বগাথার—তবে তা পাঠ করা প্রতিটি সচেতন মুমিনের জন্য অপরিহার্য। সমকালীন বিশ্বের প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা ও গবেষক মাওলানা ইসমাইল রেহান রচিত ‘মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস’ (তারিখে উম্মতে মুসলিমা) গ্রন্থটি সেই তামাদ্দুনিক ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে।
বইটি কেন অনন্য?
সাধারণত ইতিহাসের বইগুলোতে কেবল রাজবংশ বা যুদ্ধের বর্ণনা থাকে, কিন্তু ইসমাইল রেহান এখানে ইতিহাসের পাশাপাশি সমকালীন প্রেক্ষাপট, ভূ-রাজনীতি, মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই এবং আধ্যাত্মিক বিপ্লবকেও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য হলো—এটি একদিকে যেমন গবেষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে এর সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি সাধারণ পাঠককেও ইতিহাসের অলিগলি ভ্রমণে উৎসাহিত করে।
বইটির মূল আকর্ষণসমূহ:
- বিশাল ব্যাপ্তি: প্রাক-ইসলামী যুগ থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদিন, উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানীয় খেলাফত হয়ে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের প্রেক্ষাপট পর্যন্ত বিস্তৃত এক মহাকাব্যিক ভ্রমণ।
- নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ: লেখক এখানে অন্ধ আবেগ নয়, বরং তথ্য-প্রমাণ ও দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে মুসলিম ইতিহাসের বাঁকগুলো তুলে ধরেছেন।
- সহজপাঠ্য ভাষা: অত্যন্ত চমৎকার ও প্রাঞ্জল ভাষায় অনূদিত হওয়ায় জটিল সব ঐতিহাসিক ঘটনাবলীও পাঠকের কাছে সহজবোধ্য হয়ে ওঠে।
- ভ্রান্তি নিরসন: প্রাচ্যবিদ বা ইসলামবিদ্বেষী ঐতিহাসিকরা মুসলিম ইতিহাস নিয়ে যে সব বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, লেখক কলমের নিপুণ ছোঁয়ায় সেসবের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন।
আপনি যদি ইসলামের স্বর্ণালী দিনগুলোর হারানো ঐতিহ্য এবং বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সংকটের শেকড় খুঁজতে চান, তবে মাওলানা ইসমাইল রেহানের এই সংকলনটি আপনার সংগ্রহে রাখা জরুরি। এটি কেবল একটি বই নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর আয়না—যা আমাদের আমাদের গৌরবকে চিনতে এবং ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করে।
বইটির ডাউনলোড লিংক নিচে :
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৫ | পঞ্চম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৬ | ষষ্ঠ খণ্ড | ডাউনলোড |
ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও কিছু বই :
০৫. ইতিহাস পাঠের পূর্বকথা
লেখক : মাওলানা ইসমাইল রেহান
০৩. খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যের ইতিহাস ১ম খন্ড
লেখক : মাওলানা ইসমাইল রেহান
০৬. খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যের ইতিহাস ২য় খন্ড
লেখক : মাওলানা ইসমাইল রেহান
০৭. বিশ্বাস ঘাতকদের ইতিহাস
লেখক : মাওলানা ইসমাইল রেহান
০৮. বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত
লেখক : মাওলানা ইসমাইল রেহান
০৯. মুসলিম ইতিহাসে সোনালী বিচার
লেখক : আব্দুল মালেক মুজাহিদ

আরব জাতি ইসলামের পূর্বে ও পরে
লেখক : সাইয়েদ আবুল হাসান আন-নাদভী

১০. মামলুক সালতানাতের ইতিহাস
লেখক : মাহমুদ শাকের

১১. মুঘল আমলে বাংলায় মুসলিম শাসনের ইতিহাস
লেখক : মোহাম্মদ সিরাজ মান্নান.

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :

৪
লেখক :





