নাইমা বি. রবার্ট

সমসাময়িক মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমা সমাজে যে কয়জন নারী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নিজেদের মেধা, লেখালেখি এবং চিন্তাশীল কাজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছেন, তাঁদের মধ্যে নাইমা বি. রবার্ট (Na’ima B. Robert) অন্যতম। তিনি একাধারে একজন প্রখ্যাত ব্রিটিশ লেখিকা, বহুসংস্কৃতি ও ইসলামিক সাহিত্যের অগ্রদূত, সফল উদ্যোক্তা, প্রেরণাদায়ী বক্তা এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ‘সিস্টার্স’ (SISTERS) ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

তাঁর জীবন এক বৈচিত্র্যময় পথচলা—আফ্রিকান ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে ইসলামের আলোয় নিজেকে সমর্পণ করা এবং পরবর্তীতে পশ্চিমা সমাজে মুসলিম নারীদের অধিকার ও আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার এক জীবন্ত অনুপ্রেরণায় পরিণত হওয়া। নিচে বিস্তারিতভাবে নাইমা বি. রবার্টের জীবন, ইসলাম গ্রহণ, সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর অবদান তুলে ধরা হলো।

জন্ম, বংশপরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি

নাইমা বি. রবার্ট ১৯৭৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের লিডস (Leeds) শহরে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মসূত্রে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ‘থান্ডো নমহলে ম্যাকলারেন’ (Thando Nomhle McLaren)। তাঁর পারিবারিক পটভূমি ছিল ভীষণ বৈচিত্র্যময় এবং বহুসংস্কৃতির ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ। তাঁর বাবা রবার্ট ম্যাকলারেন (Robert McLaren) ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত একজন শ্বেতাঙ্গ শিক্ষাবিদ, যিনি জিম্বাবুয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর মা থেম্বি ম্যাকলারেন (Thembi McLaren) ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ ‘জুলু’ (Zulu) সম্প্রদায়ের একজন সফল নারী উদ্যোক্তা।

পিতার স্কটিশ ঐতিহ্য এবং মাতার দক্ষিণ আফ্রিকান জুলু সংস্কৃতির মেলবন্ধনে নাইমা ছোটবেলা থেকেই একটি উন্মুক্ত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন মনস্তত্ত্ব নিয়ে বড় হতে থাকেন। মা-বাবার কাছ থেকে তিনি বর্ণবাদবিরোধী চেতনা এবং নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে গর্ব করতে শেখেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

নাইমার বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তাঁর পরিবার ইংল্যান্ড থেকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। সেখানে চার বছর কাটানোর পর তাঁরা জিম্বাবুয়েতে চলে যান। জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারের (Harare) একটি সুন্দর ও শান্ত শহরতলিতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে। তাঁর সাথে ছিল তাঁর এক ছোট ভাই ও এক ছোট বোন।

জিম্বাবুয়ের স্থানীয় সংস্কৃতিতে মিশে যাওয়ার পাশাপাশি নাইমার মা-বাবা তাঁর মনে দক্ষিণ আফ্রিকার শেকড় এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি গভীর ভালোবাসা বুনে দিয়েছিলেন। হাই স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর নাইমা উচ্চশিক্ষার জন্য পুনরায় ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বিখ্যাত ‘স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ’ (SOAS) থেকে ‘আরবি ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শিক্ষা’ (Arabic and Middle Eastern Studies) নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। জিম্বাবুয়ের হাই স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি মঞ্চনাটক বা পারফর্মিং আর্টস, বিতর্ক ও গল্প লেখার প্রতি দারুণ অনুরাগী ছিলেন। তাঁর লেখা গল্পগুলো প্রায়শই শিক্ষকমহলকে চমকে দিত।

ইসলামের সন্ধান ও জীবন পরিবর্তন (১৯৯৮)

নাইমা বি. রবার্টের জীবনের সবচেয়ে বড় এবং বৈপ্লবিক মোড় আসে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। তরুণ বয়সে তিনি একজন আধুনিক, মুক্তমনা ও সংস্কৃতিমনা তরুণী হিসেবে জীবন উপভোগ করছিলেন। কিন্তু তাঁর ভেতরে সবসময় এক ধরনের আধ্যাত্মিক শূন্যতা এবং নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে জিজ্ঞাসা কাজ করত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তিনি উত্তর আফ্রিকার দেশ মিশরে একটি শিক্ষা সফরে যান। সেখানে স্থানীয় মুসলিমদের জীবনযাত্রা, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের শালীনতা এবং হিজাব পরিহিত নারীদের মধ্যকার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তিনি প্রথমবার অনুভব করেন যে, পশ্চিমা সমাজ যেভাবে নারীদের বাহ্যিক অবয়ব ও শরীরকে পণ্যায়ন করে, ইসলাম তার সম্পূর্ণ বিপরীত—এখানে একজন নারীকে বিচার করা হয় তাঁর চরিত্র ও গুণ দিয়ে, শরীরের মাপকাঠিতে নয়।

মিশর থেকে লন্ডনে ফিরে এসে নাইমা মারমাডিউক পিকথলের করা পবিত্র কুরআনের ইংরেজি অনুবাদ পড়তে শুরু করেন। তিনি ইসলামের আইন ও জীবনবিধান নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে শালীন পোশাক পরা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি আফ্রিকার দেশ গিনিতে (Guinea) যান। সেখানে তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা শুরু করেন। অবশেষে, ১৯৯৮ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘নাঈমা বি. রবার্ট’।

নিকাব পরিধান এবং এর স্বপক্ষে অবস্থান

ইসলাম গ্রহণের মাত্র এক বছর পর, অর্থাৎ ১৯৯৯ সাল থেকে নাইমা সম্পূর্ণভাবে ‘নিকাব’ (মুখমণ্ডল ঢাকা হিজাব) পরা শুরু করেন। পশ্চিমা দেশে একজন তরুণীর জন্য নিকাব পরা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু তিনি একে নারী স্বাধীনতার সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর বিখ্যাত আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন:

“একজন আবৃত নারীকে তাঁর বাহ্যিক রূপ দেখে বিচার করা যায় না, কারণ তাঁর ব্যক্তিগত কোনো অংশ পরপুরুষের সামনে দৃশ্যমান নয়। ফলে সমাজের তৈরি করা নারীদের শারীরিক সৌন্দর্যের কৃত্রিম মাপকাঠিতে তাঁকে বাঁচতে হয় না। যে কেউ তাঁর সাথে যোগাযোগ করবে, সে তাঁর রূপ নয়, বরং তাঁর বুদ্ধি ও ব্যক্তিত্বের সাথে যোগাযোগ করবে।”

তিনি বিবিসি নিউজ, দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য টাইমস এবং চ্যানেল ফোর-সহ যুক্তরাজ্যের মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মুসলিম নারীদের পর্দা ও নিকাব পরার অধিকারের পক্ষে জোরালো বক্তব্য ও যুক্তি তুলে ধরেন।

বৈবাহিক ও ব্যক্তিগত জীবন

ইসলাম গ্রহণের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে পড়ার সময় নাইমা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর স্বামীর নাম ছিল হেনরি আমানকোয়া (Henry Amankwah)। বিয়ের পর ২০০০ সালের দিকে তাঁরা দক্ষিণ লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। নাইমা ও হেনরি দম্পতির ঘরে ৩টি পুত্র এবং ২টি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে। সন্তানদের লালন-পালনের সুবিধার্থে এবং তাঁদের সুন্দর ইসলামিক নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্য নাইমা একটি ঘরোয়া স্কুল (Home School) পরিচালনা শুরু করেছিলেন।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে নাইমার স্বামী হেনরি আমানকোয়া আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর এই অকাল মৃত্যু নাইমার জীবনে এক বিশাল ধাক্কা ছিল। একজন একক মা (Single Mother) হিসেবে পাঁচ সন্তানকে আগলে রাখার এই কঠিন সংগ্রাম ও শোকের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও বেশি পরিপক্ব ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। বর্তমানে তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে কায়রো এবং লন্ডনের মধ্যে যাতায়াত করে জীবন অতিবাহিত করছেন।

সাহিত্য জীবন ও সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ

নাইমা বি. রবার্টের লেখক হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর মাতৃত্বের একটি বড় ভূমিকা ছিল। ঘরোয়া স্কুল চালানোর সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোতে শিশুদের জন্য যেসব সুন্দর সুন্দর সচিত্র বই (Picture Books) পাওয়া যায়, সেগুলোতে মুসলিম চরিত্র বা মুসলিম সংস্কৃতির কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন নেই। এই অভাব পূরণ করতেই তিনি কলম ধরেন।

১. শিশুদের জন্য বহুসংস্কৃতির সচিত্র বই

তাঁর প্রথম সচিত্র শিশুতোষ বই ‘The Swirling Hijab’ (আবর্তিত হিজাব) দারুণ প্রশংসিত হয় এবং এটি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘বুকট্রাস্ট’ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। শিশুদের জন্য তিনি এ পর্যন্ত ১৩টিরও বেশি চমৎকার বই লিখেছেন, যা বিশ্বজুড়ে ৩১টিরও বেশি ভাষায় (যেমন: আরবি, ফারসি, উর্দু, রুশ, জাপানি, চীনা, ফরাসি ইত্যাদি) অনূদিত হয়েছে। তাঁর লেখা ‘Journey Through Islamic Arts’ বইটি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল লিটারেসি ট্রাস্ট অ্যাসোসিয়েশন থেকে শ্রেষ্ঠ শিশুতোষ বইয়ের ‘WOW! Award’ লাভ করে। এছাড়া তাঁর লেখা ‘Ramadan Moon’ এবং ‘Going to Mecca’ বইগুলো মুসলিম শিশুদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়।

২. আত্মজীবনী: ‘From My Sisters’ Lips’ (২০০৫)

২০০৫ সালে প্রকাশিত নাইমা বি. রবার্টের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বই ‘From My Sisters’ Lips’ (বাংলা অনুবাদ: ফ্রম মাই সিস্টার্স লিপস্) তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়। এটি মূলত তাঁর নিজের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার গল্প এবং তাঁর মতো আরও বেশ কয়েকজন পশ্চিমা নারীর ইসলাম গ্রহণ ও মুসলিম হিসেবে জীবনযাপনের সত্য অভিজ্ঞতার এক অনন্য দলিল। বইটি পশ্চিমা বিশ্বে হিজাব ও মুসলিম নারীদের নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল ধারণাগুলো ভাঙতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।

৩. কিশোর-কিশোরীদের জন্য উপন্যাস (Young Adult Fiction)

মুসলিম তরুণ প্রজন্মের জন্য সৃজনশীল ইসলামিক ফিকশনের অভাব দূর করতে তিনি বেশ কয়েকটি কিশোর উপন্যাস রচনা করেন:

  • From Somalia, with Love (২০০৯): সোমালিয়ার এক মুসলিম কিশোরীর পরিবার ও অভিবাসী জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে লেখা এই উপন্যাসটি দারুণ সাড়া ফেলে।
  • Boy vs. Girl (২০১০): পশ্চিমা সমাজে বেড়ে ওঠা মুসলিম ভাই-বোনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং পারিবারিক বন্ধনের গল্প।
  • Far from Home (২০১১): জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক পটভূমিতে বর্ণবাদ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা এই বইটি ‘মুসলিম রাইটার্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে।
  • She Wore Red Trainers (২০১৪): এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং আধুনিক মুসলিম ঘরানার হালাল রোমান্টিক উপন্যাস (Halal Romance Novel), যা মুসলিম তরুণ-তরুণীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।
  • Black Sheep: তাঁর আরেকটি প্রশংসিত কিশোর উপন্যাস।

৪. আত্মউন্নয়ন ও অনুপ্রেরণামূলক বই

স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের জীবনের কঠিন পরিস্থিতি এবং মুসলিম নারীদের জীবনের নানা মনস্তাত্ত্বিক লড়াইকে কেন্দ্র করে তিনি সমাদৃত কিছু আত্মউন্নয়নমূলক বই লিখেন:

  • Show Up: A Motivational Message for Muslim Women (২০২১): (বাংলা অনুবাদ: শো আপ) এই বইটি আধুনিক মুসলিম নারীদের জীবনে হতাশা কাটিয়ে উঠে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যাওয়ার এক অনন্য দিকনির্দেশনা।
  • Show Up for Love: দাম্পত্য ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে লেখা।

‘সিস্টার্স’ ম্যাগাজিন ও অন্যান্য উদ্যোগ

২০০৭ সালের দিকে নাইমা বি. রবার্ট অনুধাবন করেন যে, বিশ্বজুড়ে ইংরেজিভাষী মুসলিম নারীদের নিজস্ব কোনো ভালো মানের লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন নেই, যেখানে তারা নিজেদের সুখ-দুঃখ, দ্বীনি আলোচনা ও সমসাময়িক সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারে। এই চিন্তা থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সিস্টার্স ম্যাগাজিন’ (SISTERS Magazine)

তিনি এই ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক (Editor-in-Chief) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ম্যাগাজিনটি দ্রুতই যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মুসলিম নারীর প্রিয় মুখপত্রে পরিণত হয়। এটি নারীদের আত্মিক উন্নয়ন, পরিবার গঠন, ক্যারিয়ার এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। পরবর্তীতে তিনি পুরুষদের জন্য ‘MEN’S PASSION’ নামে আরেকটি সাময়িকী প্রকাশ করেন।

এছাড়াও তিনি একজন সফল ‘বুক কোচ’ বা রাইটিং মেন্টর। ‘সিস্টার্স অ্যাওয়েকেনিং প্রেস’ (Sisters Awakening Press) এবং বিভিন্ন অনলাইন রাইটিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি নতুন ও সম্ভাবনাময় মুসলিম লেখিকাদের বই লিখতে এবং তা প্রকাশ করতে প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রচারণা

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নাইমা বি. রবার্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় এবং প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে দাওয়াহ এবং মুসলিম নারীদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

  • ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম: তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে (Naima B. Robert) লক্ষাধিক অনুসারী রয়েছে। সেখানে তিনি নিয়মিত লাইভ সেশন, অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট, কর্মশালা এবং নিজের বইয়ের বার্তা শেয়ার করেন।
  • ইউটিউব (NaimaBRobertTV): তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে তিনি মুসলিম নারীদের আত্মউন্নয়ন, কীভাবে একজন সফল লেখক হওয়া যায়, পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়—এইসব বিষয়ে চমৎকার সব ভ্লগ, পডকাস্ট এবং সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

সমাজ ও সাহিত্যে অবদান এবং মূল্যায়ন

নাইমা বি. রবার্ট আধুনিক মুসলিম সমাজের এক অনন্য সম্পদ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সম্পূর্ণ পর্দা বা নিকাব বজায় রেখেও একজন নারী আধুনিক বিশ্বে সাহিত্য, গণমাধ্যম এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে পারেন।

পশ্চিমা বিশ্বে যেখানে প্রায়শই ইসলাম ও মুসলিম নারীদের অবদমিত বা নির্যাতিত হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়, সেখানে নাইমা বি. রবার্ট তাঁর লেখনী এবং ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সেই নেতিবাচক ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। তিনি বহুমাত্রিক সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে এমন এক সাহিত্য ধারা তৈরি করেছেন, যা একাধারে পশ্চিমা মূলধারার পাঠক এবং সাধারণ মুসলিম সমাজ—উভয়ের কাছেই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গের রক্তে গড়া এবং ইসলামে সমর্পিত এই মহীয়সী নারী আজ বিশ্বজুড়ে কোটি মুসলিম নারীর হৃদয়ে এক অনুপ্রেরণার নাম।

তার লিখিত কিছু কিতাব :

০১. ফ্রম মাই সিস্টার্স লিপস

লেখক :  নাইমা বি. রবার্ট



০২. বয় vs গার্ল

লেখক :  নাইমা বি. রবার্ট



০৩. শোআপ মুসলিম নারীদের প্রেরণার বার্তা

লেখক :  নাইমা বি. রবার্ট



"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"