আসিফ আদনান

পারিবারিক পটভূমি

আসিফ আদনান (যিনি শুভ বা জুলকারনাইন নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের প্রথাগত কোনো ধর্মীয় বা মাদরাসা পটভূমি থেকে আসেননি। তাঁর পারিবারিক ও শিক্ষাগত জীবন ছিল অত্যন্ত অভিজাত ও আধুনিক ধারার:

  • পারিবারিক পরিচয়: তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন প্রাক্তন বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুনের সন্তান।
  • মেধাবী শিক্ষাজীবন: তিনি ঢাকার অত্যন্ত নামকরা মূলধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সেন্ট জোসেফ হাই স্কুল, নটর ডেম কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণীতে মাস্টার্স (MSS) ডিগ্রি অর্জন করেন।
  • মিউজিক ক্যারিয়ার: চরমপন্থী ভাবধারায় দীক্ষিত হওয়ার আগে আসিফ আদনান সংস্কৃতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ২০১০ সালে গঠিত ‘জাহিলিয়াহ’ (Jahiliyyah) নামক একটি ডেথ-মেট্যাল ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট ছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি একসময় দাবি করেছিলেন যে, মেট্যাল মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা তাঁর ইসলামি বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

আদর্শিক রূপান্তর ও উগ্রপন্থায় জড়ানো (২০১৩-২০১৪)

২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন ও শাপলা চত্বরের ঘটনাপ্রবাহ এবং একই সময়ে সিরিয়া ও ইরাকের গৃহযুদ্ধ আসিফ আদনানের চিন্তাভাবনায় এক আমূল পরিবর্তন আনে। তিনি মেট্যাল মিউজিক ছেড়ে পুরোপুরি কট্টর ইসলামি মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

  • ২০১৪ সালের গ্রেপ্তার: ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (DB) আসিফ আদনান ও তাঁর বন্ধু ফজলে এলাহী তানজিলকে (আরেকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার ছেলে) গ্রেপ্তার করে। পুলিশের অভিযোগ ছিল, তাঁরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ (ABT)-এর আধ্যাত্মিক নেতা জসিমউদ্দীন রহমানীর অনুসারী এবং আল-কায়েদার তৎকালীন প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরির বার্তা দ্বারা অনুপ্রাণিত।
  • জিহাদে যোগদানের পরিকল্পনা: তদন্তে উঠে আসে, আসিফ আদনান সিরিয়ার আল-নুসরা ফ্রন্ট কিংবা মিয়ানমারে জিহাদে অংশ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সাথে যোগাযোগ করছিলেন। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আল-কায়েদা রিক্রুটার সামিউন রহমানের সাথেও তাঁর একাধিক বৈঠকের তথ্য পায় পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের মাত্র তিন মাসের মাথায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে, উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন।

লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ও ‘ডিজিটাল দাওয়াহ’ (২০১৯-বর্তমান)

কারাগার থেকে বের হওয়ার পর আসিফ আদনান সরাসরি অ্যাক্টিভিজম থেকে সরে এসে নিজেকে একজন মেধাভিত্তিক ও তাত্ত্বিক লেখক হিসেবে পুনর্গঠন করেন। তিনি মূলত উচ্চশিক্ষিত ও শহুরে তরুণদের টার্গেট করে পশ্চিমা দর্শনের কাউন্টার-ন্যারেটিভ বা বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব তৈরি করা শুরু করেন।

  • উল্লেখযোগ্য বই: ২০১৯ সালে তাঁর লেখা ‘চিন্তাপরাধ’ (Chintaporadh) বইটি দারুণ আলোচিত হয়। এছাড়া তিনি কট্টর ইসলামি ইউটিউবার ড্যানিয়েল হাকিকাতজু-এর বই অনুবাদ করেন ‘সংশয়বাদী’ নামে।
  • ডিজিটাল সাম্রাজ্য: তিনি ফেসবুক (যেখানে তাঁর ৩ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে), ইউটিউব, টিকটক এবং নিজস্ব ব্লগের মাধ্যমে অত্যন্ত পরিশীলিত ও চাতুর্যপূর্ণ ভাষায় তাঁর কট্টর ইসলামি এজেন্ডা প্রচার করতে থাকেন। ‘সিয়ান পাবলিকেশন’ (SEAN Publication)-এর মতো প্ল্যাটফর্ম তাঁর বক্তব্য ও ভিডিওগুলো প্রচার করে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক জিহাদ ভাবনা

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসিফ আদনানের জনসম্মুখে উপস্থিতি এবং প্রভাব নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। জেমসটাউনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিনি সাধারণ ইসলামি প্রচারকদের মতো শুধু দেশীয় প্রেক্ষাপটে সীমাবদ্ধ নন, বরং তাঁর লক্ষ্য বৈশ্বিক:

  • সশস্ত্র বিপ্লবের ডাক: ২০২৪ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন বা ব্যালট বক্সের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে “সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী বৈপ্লবিক জিহাদ”-এর মাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংস ও আল-কুদস (জেরুজালেম) মুক্ত করার ডাক দেন। ক্ষমতার প্রশ্নে তিনি মাও সেতুং-এর বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে বলেন, “বন্দুকের নলই সকল ক্ষমতার উৎস।”

২০২৫ সালের মার্কিন দূতাবাস চক্রান্ত ও বর্তমান অবস্থান

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে সন্ত্রাসী হামলার একটি গোপন পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়, যেখানে আসিফ আদনানের নাম অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে জড়িয়ে পড়ে।

  • মামলা ও অভিযোগ: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (ATU) নিষিদ্ধ সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা শামিন মাহফুজ এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মো. ফয়সাল নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে। ফয়সালের জবানবন্দিতে আসিফ আদনানের নাম উঠে আসে।
  • আদনানের ডিফেন্স: এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসিফ আদনান ঢাকা প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন এবং একে “ইসলামপন্থীদের দমন করার জন্য রাষ্ট্রীয় নাটক ও চক্রান্ত” বলে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে জসিম উদ্দিন রহমানী ও অন্যান্য ইসলামি নেতাদের সাথে নিয়ে দেশজুড়ে এর প্রতিবাদ সমাবেশও করা হয়।
  • বর্তমান একাডেমিক অবস্থান: আসিফ আদনান বর্তমানে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (IIUM) থেকে পিএইচডি (PhD) করছেন। জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের মতে, তাঁর এই আন্তর্জাতিক যাতায়াত, চমৎকার ইংরেজি ও অর্থনৈতিক জ্ঞান এবং উচ্চশিক্ষিত শহুরে তরুণদের ওপর তাঁর ডিজিটাল প্রভাব তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামি চরমপন্থার এক নতুন ও অত্যন্ত প্রভাবশালী তাত্ত্বিক মুখ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

তার লিখিত বইয়ের লিংক :

০১. অবক্ষয়কাল (শর্ট পিডিএফ)

লেখক : আসিফ আদনান



০২. অভিশপ্ত রঙধনু

লেখক : আসিফ আদনান



০৩. আকাশের ওপারে আকাশ

লেখক : আসিফ আদনান



০৪. আয়নাঘর

ড. ইয়াদ কুনাইবী

লেখক : আসিফ আদনান


০৫. কাশগড় কত না অশ্রুজল

লেখক : আসিফ আদনান



০৬. চিন্তাপরাধ

লেখক : আসিফ আদনান



০৭. ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ

লেখক : আসিফ আদনান



০৮. মুক্ত বাতাসের খোঁজে

লেখক : আসিফ আদনান



০৯. মুসলিমবঙ্গ (শর্ট পিডিএফ)

লেখক : আসিফ আদনান



১০. সত্যকথন

লেখক : আসিফ আদনান



১১.

লেখক : আসিফ আদনান



১২. সংশয়বাদী

ড্যানিয়েল হাকিকাতযুর

লেখক : আসিফ আদনান


"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"