সমকালীন বাংলাদেশের ইসলামি সাহিত্য, আরবি ভাষা শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ (যিনি দেশজুড়ে সর্বসাধারণ ও শিষ্যদের কাছে ‘আদিব হুজুর’ নামে সমধিক পরিচিত) এক প্রাতঃস্মরণীয় ও প্রবাদপ্রতিম নাম। তিনি প্রচারবিমুখ এক নিভৃতচারী শব্দসৈনিক এবং নীরব সাধক। গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে তিনি প্রচারের আলো থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ আড়ালে রেখে কওমি মাদ্রাসা অঙ্গনের সাহিত্য ও লেখালেখিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন এবং কওমি মাদ্রাসার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন ও সংস্কারধর্মী সিলেবাস প্রণয়ন করেছেন। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্যের আলোকে এই প্রাজ্ঞ আলেম, লেখক, শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদের বিস্তারিত জীবনী নিচে উপস্থাপন করা হলো:
১. জন্ম, বংশ ও পারিবারিক পরিচিতি
মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ ১৯৫৬ সালের ৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা জেলায় হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা মূলত রাজধানী ঢাকায়।
- পিতা: মাওলানা মিছবাহুল হক। তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার ও খোদাভীরু আলেম।
- মাতা: একজন অত্যন্ত নেককার ও সম্ভ্রান্ত নারী। মায়ের কোলেই মূলত আবু তাহের মিসবাহর প্রাথমিক পড়াশোনা ও আদর্শিক জীবনের সূচনা হয়।
- ব্যক্তিগত জীবন: পারিবারিক জীবনে তিনি বিশ্বখ্যাত বুজুর্গ হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর বড় ছেলে শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফের কন্যাকে বিয়ে করেন। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
২. শিক্ষাজীবন ও ইলম অর্জন
পারিবারিক দ্বীনি পরিবেশে মায়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ‘জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ’ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে অত্যন্ত সুনামের সাথে পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন।
এরপর তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ‘নূরিয়া মাদ্রাসা’-য় দর্সে নিজামির প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরগুলো পড়েন। এক পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি পুনরায় লালবাগ মাদ্রাসায় ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে হেদায়া জামাত সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর ইলমে হাদিস অর্জনের লক্ষ্যে তিনি চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবস্থিত আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া পটিয়া (পটিয়া মাদ্রাসা)-য় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৭৭ সালে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) সম্পন্ন করেন।
৩. শিক্ষকতা জীবন ও প্রাতিষ্ঠানিক খিদমত
শিক্ষা সমাপনীর পরপরই তিনি নিজেকে ইলম বিতরণের মহান ব্রতে নিয়োজিত করেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবনের পথপরিক্রমা ছিল নিম্নরূপ:
- যাত্রাবাড়ী ও মালিবাগ মাদ্রাসা: কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে কিছুদিন মালিবাগ জামিয়া শারইয়্যাহ মাদ্রাসাতেও অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষাদান করেন।
- নূরিয়া মাদ্রাসা (কামরাঙ্গীরচর): তাঁর অনন্য যোগ্যতা ও নিষ্ঠা দেখে তাঁর আধ্যাত্মিক মুরব্বি হযরত মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর নির্দেশে তিনি কামরাঙ্গীরচর নূরিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করেন।
- মাদরাসাতুল মদিনা প্রতিষ্ঠা (১৯৯২): ১৯৯২ সালে তিনি নিজেই ঢাকা শহরে ‘মাদরাসাতুল মদিনা’ নামে একটি স্বতন্ত্র ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই মাদ্রাসাতেই তিনি নিজের স্বপ্নের কওমি পাঠ্যক্রমের আমূল সংস্কার ও নতুন নেসাব বা সিলেবাসের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেন। পরবর্তীতে এই মাদ্রাসাটি কেরানীগঞ্জের এক মনোরম পরিবেশে স্থানান্তরিত হয় এবং বর্তমানে এটি সুখ্যাতির সাথে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি এখানেই স্থায়ীভাবে পাঠদান, গবেষণা ও সাহিত্য সাধনায় লিপ্ত আছেন।
৪. ‘মাদানি নেসাব’ ও শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহাসিক সংস্কার
মাওলানা আবু তাহের মিসবাহর জীবনের সবচেয়ে যুগান্তকারী ও অবিস্মরণীয় কীর্তি হলো কওমি মাদ্রাসার জন্য ‘মাদানি নেসাব’ নামে একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, আধুনিক ও কার্যকর সিলেবাস প্রণয়ন করা।
- স্বতন্ত্র সিলেবাস ও একক কৃতিত্ব: প্রচলিত কওমি মাদ্রাসার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ভাষা শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদী জটিল পাঠ্যক্রমকে সহজ ও প্রায়োগিক রূপ দিতে তিনি এই নেসাব তৈরি করেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গোটা সিলেবাসের সব কয়টি মৌলিক বই তাঁর নিজের একক হাতে লেখা।
- জনপ্রিয়তা ও দেশব্যাপী বিস্তার: তাঁর রচিত ‘এসো আরবি শিখি’ বইটি আজ বাংলাদেশের কৌমী মাদ্রাসাগুলোর প্রায় প্রতিটিতে বাধ্যতামূলক পাঠ্যবই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। আরবি ভাষাকে ছাত্রদের কাছে সহজ, সাবলীল ও প্রায়োগিক উপায়ে বোঝানোর ক্ষেত্রে এই বইটির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে বাংলাদেশের হাজারো মাদ্রাসা তাঁর এই ‘মাদানি নেসাব’ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে।
৫. সাহিত্য সাধনা, সম্পাদনা ও অনন্য গ্রন্থাবলী
লেখক হিসেবে আবু তাহের মিসবাহ বাংলা ইসলামি সাহিত্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারা, নতুন ভাষা শৈলী ও রুচি তৈরি করেছেন। আলিম সমাজের মধ্যে তাঁর মতো এত প্রাঞ্জল, ঝরঝরে ও সাহিত্যগুণসম্পন্ন কলম খুব কম দেখা যায়। তিনি যুগপৎ মৌলিক রচনা, ধ্রুপদী অনুবাদ এবং অভিধান সংকলনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।
ক) মৌলিক ও পাঠ্যপুস্তকসমূহ:
- ভাষা শিক্ষা সিরিজ: ‘এসো আরবি শিখি’ (আরবি শিক্ষার প্রাথমিক ও কালজয়ী গ্রন্থ), ‘এসো সরফ শিখি’, ‘এসো নাহব শিখি’, ‘এসো বালাগাত শিখি’ এবং ‘আত তামরিন’।
- ফিকহ ও তাফসির: ‘এসো ফিকাহ শিখি’, ‘এসো উসুল শিখি’, ‘এসো তাফসির শিখি’।
- কুরআন শিক্ষা: ‘এসো কুরআন শিখি’ (এটি উপমহাদেশের মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য কুরআন বিষয়ক প্রথম মৌলিক প্রাথমিক পাঠ্যবই)।
- অভিধান সংকলন: ‘আল মানার’ এবং ‘আল মুজামুল ওয়াসিত’ (আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান)।
খ) কালজয়ী অনুবাদ সাহিত্য:
বিশ্বখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও লেখকদের বহু জটিল ও গভীর গ্রন্থকে তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও সাবলীল বাংলায় অনুবাদ করেছেন, যা সাধারণ পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে:
- মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর অনুবাদ: ‘মুসলমানদের পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো’, ‘সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস’, ‘আরকানে আরবাআ’, ‘প্রাচ্যের উপহার’, ‘জীবনপথের পাথেয়’, ‘আল মুরতাজা’ এবং ‘কাসাসুন নাবিয়্যীন’।
- জাস্টিস আল্লামা তাকী উসমানী (দা.বা.)-এর বিখ্যাত গ্রন্থ: ‘মাযহাব কী ও কেন?’ এবং ‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুয়াবিয়া (রা.)’।
- ওস্তাদ সুলাইমান নদভীর বিশ্বখ্যাত সীরাত গ্রন্থ: ‘খুতুবাতুল মাদ্রাজ’ যা বাংলায় ‘তোমাকে ভালোবেসি হে নবী’ নামে অনূদিত হয়ে সাহিত্য অঙ্গনে এক তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- ভ্রমণকাহিনী ও বিবিধ অনুবাদ: হাফেজ্জী হুজুরের সঙ্গে মক্কা-মদিনা সফরের স্মৃতিকথা নিয়ে লিখেছেন ‘বাইতুল্লাহর ছায়ায়’, ‘এসো কলম মেরামত করি’, এবং মধ্য এশিয়ার মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে ‘তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে’। এছাড়াও শিশুদের জন্য তাঁর বিখ্যাত ‘আকিদা সিরিজ’ ও ‘শিশু সীরাত সিরিজ’ অত্যন্ত জনপ্রিয়।
গ) সাময়িকী ও পত্রিকা সম্পাদনা:
নূরিয়া মাদ্রাসায় থাকাকালীন তিনি ছাত্রদের ভাষা ও সাহিত্য চর্চার জন্য ‘ইকরা’ নামে একটি আরবি পত্রিকা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সাল থেকে তাঁর হাত ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হতে শুরু করে ইসলামি শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা ‘আল-কলম’ (যা পরবর্তীতে ‘আপন পাতা’ নামে পরিচিতি পায়)। এই পত্রিকাটি নতুন প্রজন্মের হাজারো তরুণ আলেমকে লেখক ও সাহিত্যিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধান অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে।
৬. ব্যক্তিত্ব: এক নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ সাধক
বর্তমান মিডিয়া ও প্রচারসর্বস্ব যুগে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ এক পরম বিস্ময়। বিগত তিন দশক ধরে দেশের আলেম-উলামাদের কোনো বড় সভা-সমাবেশ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (অনলাইন) প্রচারণায় তাঁকে কখনো দেখা যায়নি। মিডিয়া কভারেজ বা সস্তা জনপ্রিয়তার বিন্দুমাত্র মোহ তাঁর নেই।
তিনি অত্যন্ত সচেতন ও দেশ-দুনিয়ার খবর রাখা একজন গভীর আলেম হওয়া সত্ত্বেও, নিজেকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে রেখেছেন। দিন-রাতের বেশিরভাগ সময় তিনি মগ্ন থাকেন গভীর পড়াশোনা, লেখালেখি, গবেষণা এবং নিভৃতে মানুষ গড়ার কারখানায়। মুখে বড় বড় কথা না বলে, নীরবে নিজের কাজ করে যাওয়াই তাঁর জীবনের মূল দর্শন।
৭. আধ্যাত্মিক সাধনা ও মনীষীদের সান্নিধ্য
মাওলানা আবু তাহের মিসবাহর জীবনের এই সুউচ্চ মাকাম এবং সফলতার পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ আত্মত্যাগ এবং উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ মণীষীদের প্রত্যক্ষ নেক নজর। তিনি শৈশব থেকে মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.), মাওলানা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী (রহ.) এবং মাওলানা সুলতান যওক নদভী (দা.বা.)-এর মতো যুগশ্রেষ্ঠ আল্লাহওয়ালা ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করেন। বিশেষ করে হাফেজ্জী হুজুরের যোগ্য তত্ত্বাবধান ও স্নেহে তিনি নিজেকে তিল তিল করে একজন সফল আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহীরুহ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
৮. উপসংহার
মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ বা ‘আদিব হুজুর’ সমকালীন বাংলাদেশের ইসলামি পুনর্জাগরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের এক নীরব বাতিঘর। উম্মাহর দরদে কাঁদা এক বিশাল হৃদয়ের অধিকারী এই মানুষটি নিজের মেধা, শ্রম ও লেখনী দিয়ে এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর তৈরি করা ছাত্ররা আজ দেশের আনাচে-কানাচে দ্বীনের খিদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা এই মহান সাধকের আলো ছড়িয়ে পড়ুক যুগ-যুগান্তরে, দেশের আলেম-উলামা ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তাঁর এই দীপান্বিত বোধ জাগ্রত থাকুক—এটাই হোক পরম প্রার্থনা।
তার লিখিত কিছু বই :
০১. এসো কুরআন শিখি
লেখক : আব্দুল্লাহ আল মাসউদ

০২. আল মানার (বাংলা-আরবী) অভিধান
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
০৩. এসো আরবি শিখি
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
০৪. এসো কলম মেরামত করি
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
০৫. এসো ছারফ শিখি
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
০৬. এসো নাহু শিখি
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
০৭. এসো ফিকাহ শিখি
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
০৮. এসো বালাগাত শিখি
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
০৯. বাইতুল্লাহর মুসাফির
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
১০. আল তামরীন আল কিতাবী
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
১১. ইতিহাসের কাঠগড়ায় মুয়াবিয়া
মুফতি তকি উসমানি
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
১২. ইসলামকে জানতে হলে –
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
১৩. এসো উর্দূ শিখি
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
১৪. জীবন পথের পাথেয়
হাসান আলী নদভী (রহ.)
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
১৫. সিয়াম –গুরুত্ব ও তাৎপর্য
লেখক : আবু তাহের মিসবাহ
১৬. বাইতুল্লাহর ছায়ায়
লেখক : আব্দুল্লাহ আল মাসউদ














