সমকালীন বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষা এবং উচ্চতর ইসলামি গবেষণা বা ‘তাখাসসুস’ (Specialization) অঙ্গনে যে কজন তরুণ আলেম নিজের মেধা, অনবদ্য লেখনী এবং প্রাতিষ্ঠানিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন, মুফতী তারেকুজ্জামান তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একাধারে একজন ক্ষুরধার চিন্তাবিদ, গবেষক, শিক্ষক, লেখক এবং অনুবাদক। বিশেষ করে উলুমুল হাদিস (হাদিস শাস্ত্র), ফিকহ (ইসলামি আইন) এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট আর্কাইভিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁর বৈপ্লবিক কাজ তাঁকে উম্মাহর এক আলোকবর্তিকায় পরিণত করেছে। ঐতিহ্যবাহী ধারার শিক্ষার সাথে আধুনিক যুগের চাহিদার সমন্বয় ঘটিয়ে ইলমে দ্বীনের খিদমতকে কীভাবে আরও গতিশীল করা যায়, তাঁর জীবন ও কর্ম তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জন্ম, শৈশব ও মেধার স্ফুরণ
মুফতী তারেকুজ্জামান ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে উত্তরবঙ্গের পাবনা জেলার একটি সম্ভ্রান্ত ও ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন প্রখর মেধা ও প্রগাঢ় ধীসম্পন্ন। পারিবারিক পরিমণ্ডলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। তাঁর পিতা ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং মাতা ছিলেন এক বিদূষী নারী। মায়ের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও পিতার গভীর সচেতনতায় মাত্র চার বছর বয়সেই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু হয় এবং মেধার চরম স্বাক্ষর রেখে মাত্র নয় বছর বয়সেই তিনি পঞ্চম শ্রেণির (ক্লাস ফাইভ) পাঠ চুকিয়ে ফেলেন। স্কুল জীবনের প্রতিটি শ্রেণিতেই তিনি প্রথম স্থান অধিকার করে নিজের ক্ষুরধার মেধার জানান দেন।
সাধারণ শিক্ষা থেকে দ্বীনি শিক্ষার আলোর পথে যাত্রা
সাধারণ শিক্ষায় যার ভবিষ্যৎ ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল, মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর জীবনে এক বিশাল মোড় আসে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার কিছুদিন পরই তাঁর মনে দ্বীনি ইলম বা কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। সে সময় স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠী এবং আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে প্রবল বাধা ও অনুরোধ আসে স্কুল না ছাড়ার জন্য। কিন্তু সব বাধা ও বৈষয়িক ভবিষ্যতের হাতছানি উপেক্ষা করে তিনি মাদরাসা শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি পাবনার তৎকালীন অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাশিনাথপুর নয়াবাড়ী মাদরাসায় মকতব বিভাগে ভর্তি হন। মাদরাসা শিক্ষায় পা রাখিয়াই তিনি তাঁর মেধার দ্যুতি ছড়াতে শুরু করেন। প্রথম বছরেই কওমি মাদরাসা সমূহের আঞ্চলিক তানযীম বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় সমগ্র দেশের মধ্যে ২য় স্থান অর্জন করার গৌরব লাভ করেন।
যশোর ও চট্টগ্রামে ইলমের উচ্চতর সফর
পাবনায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করে তিনি ইলমের সন্ধানে সুদূর যশোরে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি ছাত্র গড়ার এক নীরব কারিগর, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতী আব্দুর রাযযাক সাহেবের সান্নিধ্য লাভ করেন। এই মহান উস্তাদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে ও স্নেহে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে চার বছর অবস্থান করেন। এখানে অবস্থানকালে তিনি ফারসি ও আরবি ভাষার ওপর গভীর দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কওমি মাদরাসার ব্যাকরণ ও যুক্তিবিদ্যার মূল ভিত্তি— সরফ, নাহু ও মানতিক শাস্ত্রের ওপর অসামান্য বুৎপত্তি লাভ করেন। বিশেষ করে আরবি ব্যাকরণ বা ‘নাহু-সরফ’ শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ও সূক্ষ্ম জ্ঞান সমসাময়িক ছাত্র ও উস্তাদদের মহলে সুবিদিত হয়ে ওঠে।
যশোরের শিক্ষা শেষে তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রথমে তিনি চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেখল মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে সফলভাবে পাঠ শেষ করে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হন। হাটহাজারী মাদরাসায় কওমি শিক্ষাক্রমের উচ্চতর ক্লাসগুলো অত্যন্ত সুনামের সাথে সম্পন্ন করেন।
ঢাকায় আগমন: দাওরায়ে হাদিস ও ইফতায় শীর্ষস্থান
চট্টগ্রামের পাঠ চুকিয়ে মুফতী তারেকুজ্জামান রাজধানী ঢাকায় আগমন করেন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরায় ভর্তি হন। ২০১১ সালে তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’ (মাস্টার্স) অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন। বসুন্ধরা মাদরাসার অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় বোর্ড পরীক্ষায় তিনি মিশকাত ও দাওরায়ে হাদিস উভয় জামাতে ১ম স্থান অধিকার করার এক বিরল ও গৌরবময় রেকর্ড গড়েন।
এমন অভূতপূর্ব ফলাফলের কারণে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাঁকে সেখানেই উচ্চতর পড়াশোনা বা তাখাসসুস পরবর্তী স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ইলমি পিপাসা যার অন্তরে, তিনি পদের মোহে আবদ্ধ না হয়ে ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রে আরও গভীর বুৎপত্তি অর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি ঢাকার অন্যতম প্রসিদ্ধ উচ্চতর ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মারকাযুশ শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে ভর্তি হন। এখানে তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে টানা তিন বছর ‘তাখাসসুস ফিল ফিকহ’ (ইফতা বা উচ্চতর ইসলামি আইন গবেষণা) এবং একই সাথে ‘উলুমুল হাদিস’ (হাদিস বিজ্ঞান) বিভাগ সফলভাবে সম্পন্ন করে ‘মুফতী’ ও ‘মুহাদ্দিস’ উপাধিতে ভূষিত হন। স্কুল জীবনের মতো মাদরাসা জীবনেরও মকতব থেকে শুরু করে ইফতা পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসেই তিনি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ১ম স্থান অধিকার করার এক অনন্য ও ধারাবাহিক নজির স্থাপন করেন।
শিক্ষকতা পেশা ও ইলমি খিদমত
২০১৫ সালে পড়াশোনা শেষ করার পরপরই মুফতী তারেকুজ্জামানকে তাঁর মেধা ও যোগ্যতার কারণে তাঁর নিজের পড়াশোনা করার প্রতিষ্ঠান মারকাযুশ শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে উস্তাদ (অধ্যাপক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সেখানে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা, সুনামের ও দায়িত্বশীলতার সাথে ইলমে দ্বীনের খেদমত শুরু করেন। তিনি মাদরাসার উচ্চতর স্তর যেমন— মিশকাত ও দাওরায়ে হাদিসের কিতাবাদি পড়ানোর পাশাপাশি উচ্চতর গবেষণা বিভাগ— ইফতা, উলুমুল হাদিস, তাফসির এবং আরবি আদব (সাহিত্য) বিভাগে অত্যন্ত জটিল ও তাত্ত্বিক কিতাবসমূহের দরস (লেকচার) প্রদান করেন। তাঁর পড়ানোর সাবলীল শৈলী এবং বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতার কারণে উস্তাদ ও ছাত্র মহলে তিনি অত্যন্ত সমাদৃত হন।
লেখনী ও গবেষণায় অসামান্য অবদান
মুফতী তারেকুজ্জামান কেবল ক্লাসরুমের শিক্ষকতার মাঝেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ছাত্রজীবন থেকেই লেখনী ও গবেষণার প্রতি তাঁর ছিল এক সহজাত অনুরাগ। তাঁর লিখিত, অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ও গভীরতা একজন তরুণ আলেম হিসেবে সত্যিই বিস্ময়কর।
ক. ছাত্রজীবনের মৌলিক ও গবেষণামূলক কাজ:
- বাহরে শির শারহে নাহবেমির: দাওরায়ে হাদিস পড়ার পূর্বেই তিনি আরবি ব্যাকরণের বিখ্যাত কিতাব ‘নাহবেমির’-এর একটি বিশাল ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংকলন করেন, যার কলেবর ছিল পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠা।
- ইফতা ও উলুমুল হাদিস বর্ষের রচনা: ইফতা বিভাগে পড়ার সময় তিনি তিনটি যুগোপযোগী গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেন—
- ‘ইসলামি বিবাহের স্বরূপ’
- ‘একসাথে তিন তালাক ও তার বিধান’
- ‘শারয়ি মানদণ্ডে ছবি-ভিডিওর বিধান’
- এছাড়াও মারকাযুশ শাইখ যাকারিয়ার তাসনিফ (প্রকাশনা) বিভাগ থেকে প্রকাশিত গ্রন্থে তাঁর ৪টি বৃহৎ প্রবন্ধ স্থান পায়। উলুমুল হাদিস পড়ার সময় তিনি রচনা করেন ‘হাদিস ও আসারের আলোকে কালিমায়ে তাইয়িবার প্রামাণ্যতা’ (যা দুঃখজনকভাবে প্রকাশকের হাত থেকে হারিয়ে যায়) এবং প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার বিশাল গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘সহিহ হাদিসের আলোকে হানাফিদের নামায’, যা পরবর্তীতে দারুল কুরআন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়ে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে।
খ. ফুলটাইম লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ (২০১৮–বর্তমান):
শিক্ষকতার ব্যস্ততার কারণে লেখার পেছনে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছিলেন না বিধায়, ২০১৮ সালে তিনি এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ফুলটাইম শিক্ষকতার প্রাতিষ্ঠানিক পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে গবেষণা ও লেখালেখিতে নিয়োজিত করেন। কেবল ছাত্রদের হাদিস ও উসুলের কিছু কিতাব পড়ানোর নির্দিষ্ট সময়টুকু বাদে বাকি পুরোটা সময় তিনি অনুবাদ, রচনা ও সম্পাদনায় ব্যয় করেন। গত অর্ধ যুগে তাঁর হাত ধরে বহু কালজয়ী কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য অনূদিত গ্রন্থসমূহ:
১. রিয়াযুস সালিহিন (ইমাম নববীর বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থের প্রামাণ্য অনুবাদ ও ব্যাখ্যা)
২. আদর্শ মুসলিম
৩. অশ্রুসাগর
৪. জীবনের ওপারে
৫. জিন, জাদু ও বদনজরের চিকিৎসা
৬. গুনাহময় জীবনে তাওবার পরশ
উল্লেখযোগ্য মৌলিক গ্রন্থসমূহ:
১. উসওয়াতুন হাসানাহ (সীরাত গ্রন্থ)
২. ইসলামি জীবনব্যবস্থা
৩. তাকফিরের মূলনীতি
৪. সহিহ হাদিসের আলোকে হানাফিদের নামায
সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ (সংখ্যায় ৫০টিরও বেশি):
তাঁর ক্ষুরধার সম্পাদনায় দেশের বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে অর্ধশতাধিক গুরুত্বপূর্ণ বই আলোর মুখ দেখেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— ‘যেমন ছিলেন তিনি’, ‘সবর ও শোকর’, ‘अंतরের রোগ’, ‘অন্তরের আমল’, ‘তাওহিদের কালিমা’, ‘ধেয়ে আসছে ফিতনা’, ‘আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ’, ‘ইসলামি ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ)’, ‘চল্লিশ হাদিসের ব্যাখ্যা’, ‘অবাধ্যতার ইতিহাস’, ‘জান্নাতিদের আমল’ এবং ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের আমল’। এছাড়া তাঁর ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে নিয়মিত প্রকাশিত প্রবন্ধগুলো সংকলন করলে একটি বিশাল বইয়ের আকার ধারণ করবে।
ডিজিটাল বিপ্লব: ‘আল-মাকতাবাতুল কামিলা’
মুফতী তারেকুজ্জামানের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী কীর্তি হলো ‘আল-মাকতাবাতুল কামিলা’ নামক একটি অফলাইন ডিজিটাল লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার প্রণয়ন। আধুনিক যুগে কিতাবের দুষ্প্রাপ্যতা এবং উচ্চমূল্যের কারণে অনেক আলেম ও উচ্চতর গবেষণার (তাখাসসুস) ছাত্ররা কিতাব সংগ্রহ করতে পারেন না।
এই সংকট দূর করতে তিনি নিরলস পরিশ্রম করে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে প্রায় দশ কোটি টাকা সমমূল্যের আরবি, উর্দু ও বাংলা কিতাবের বিরল ও প্রামাণ্য পিডিএফ (PDF) ফাইল সুবিন্যস্তাকারে এই সফটওয়্যার বা ড্রাইভে সন্নিবেশিত করেছেন। দুর্লভ কিতাবের এই অনন্য সমাহারটি বর্তমানে প্রসিদ্ধ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘মাকতাবাতুল আযহার’-এর মধ্যস্থতায় দেশের হাজার হাজার আলেম, মুফতি ও কওমি মাদরাসার উচ্চতর শিক্ষার্থীদের ইলমি চাহিদা পূরণ করে চলেছে। এটি বাংলাদেশের ইসলামিক ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব: ‘মারকাযুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া’
লেখালেখির পাশাপাশি উম্মাহর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ার লক্ষ্যে তিনি ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন উচ্চতর ইসলামিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মারকাযুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া’। এই মারকায প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো—পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ ইলম বা ইলমে নববির প্রচার ও প্রসার করা।
মুফতী তারেকুজ্জামানের সুদূরপ্রসারী ইচ্ছা হলো, এই প্রতিষ্ঠান থেকে এমন একদল যোগ্য আলেম, গবেষক, লেখক এবং দাঈ (ধর্ম প্রচারক) তৈরি করা, যারা আধুনিক বিশ্বের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও ফেতনার মুখে দাঁড়িয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ও তাত্ত্বিক উপায়ে ইসলামের শাশ্বত রূপ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন এবং উম্মাহর সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করবেন।
চেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাপনী
মুফতী তারেকুজ্জামান কেবল একজন গ্রন্থকীট বা নিভৃতচারী লেখক নন; বরং তিনি মুসলিম উম্মাহর বর্তমান পতন, বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যদশা এবং বিশ্বজনীন সংকট নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন। মুসলিম জাতির এই স্থবিরতা দূর করে তাদেরকে কীভাবে সঠিক ও কার্যকর কর্মপন্থার মাধ্যমে আবার জাগ্রত করা যায়, সে বিষয়ে তাঁর অন্তরে রয়েছে গভীর দরদ ও ব্যাকুলতা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত ‘নববি মানহাজ’ বা পদ্ধতির আলোকে একটি ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলার যে অদম্য স্পৃহা ও উন্নত চেতনা তিনি ধারণ করেন, তা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। মেধা, সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে দ্বীনের সর্বোচ্চ খিদমত করা যায়, মুফতী তারেকুজ্জামান তার এক জীবন্ত দলিল। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর এই মুখলিসানা কর্মতৎপরতাকে কবুল করুন এবং উম্মাহর কল্যাণে তাঁর জীবন ও ইলমে বরকত দান করুন। আমীন।
তার লিখিত বইয়ের লিংক :
০১. আদর্শ মুসলিম মুহাম্মাদ আলি আল হাশিমি
লেখক : মুফতী তারেকুজ্জামান
০২. ইসলামি জীবনব্যবস্থা
লেখক : মুফতী তারেকুজ্জামান
০৩. উসওয়াতুন হাসানাহ
লেখক : মুফতী তারেকুজ্জামান
০৪. জবাব
লেখক : মুফতী তারেকুজ্জামান
০৫. জান্নাতিদের আমল
মূল : শাইখ আলা নুমান
অনুবাদক : মুফতী তারেকুজ্জামান
০৬. তাকফীরের মূলনীতি
লেখক : মুফতী তারেকুজ্জামান
০৭. ধেয়ে আসছে ফিতনা
মূল : ইমাম আবু আমর উসমান আদ-দানি
অনুবাদক :মুফতী তারেকুজ্জামান
০৮. নববি শিষ্টাচার ও দুনিয়া বিমুখতার মূর্তপ্রতীক হাসান বসরি
লেখক : মুফতী তারেকুজ্জামান
০৯.পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ মুহাম্মাদ
মূল : সালেহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদক : মুফতী তারেকুজ্জামান
১০. ব্যস্ততার এ যুগে ইলম অন্বেষণ
মূল : মুহাম্মাদসালেহ আলমুনাজ্জিদ
অনুবাদক : মুফতী তারেকুজ্জামান
১১. মুমিনের বিনোদন
মূল : মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদক : মুফতী তারেকুজ্জামান
১২. যেমন ছিলেন তিনি ﷺ ১ম খণ্ড
মূল : মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদক : মুফতী তারেকুজ্জামান
১৩. যেমন ছিলেন তিনি ﷺ ২য় খণ্ড
মুল : মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদক :মুফতী তারেকুজ্জামান
১৪. সমস্যার সমাধান
লেখক : মুফতী তারেকুজ্জামান
১৫. সহীহ হাদীসের আলোকে হানাফীদের নামায
লেখক : মুফতী তারেকুজ্জামান













