আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর তাবারী

আল্লামা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর আত-তাবারী এর বিস্তারিত জীবনী

ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিশেষ করে তাফসীর, হাদীস, ইতিহাস এবং ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাসে যে কয়জন মণীষী তাঁদের অনন্য সাধারণ মেধা ও কালজয়ী কর্মের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে অমর হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে ‘ইমামুল মুফাসসিরীন’ (মুফাসসিরদের ইমাম) এবং ‘শায়খুল মুয়াররিখীন’ (ইতিহাসবিদদের প্রধান) আল্লামা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর আত-তাবারী অন্যতম। তিনি ছিলেন তৃতীয় হিজরী শতকের তথা ইসলামী স্বর্ণযুগের (Islamic Golden Age) এক দেদীপ্যমান নক্ষত্র। তাঁর সংকলিত ‘তাফসীরে তাবারী’ এবং ‘তারীখে তাবারী’ আজ হাজার বছর ধরে ইসলামী বিশ্বের জ্ঞান-পিপাসুদের প্রধানতম উৎস ও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য, আপসহীন সত্যবাদিতা এবং নিরলস জ্ঞান সাধনার বিবরণ মানব ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়।

১. জন্ম, বংশপরিচয় ও প্রাথমিক জীবন

ইমাম ইবন জারীর আত-তাবারী ২২৪ হিজরী মোতাবেক ৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের (বর্তমান ইরান) কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত বিখ্যাত ‘তাবারিস্তান’ প্রদেশের ‘আমুল’ শহরে এক সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম হলো মুহাম্মদ ইবন জারীর ইবন ইয়াযীদ ইবন কাসীর ইবন গালিব আবু জাফর আত-তাবারী। তাবারিস্তান অঞ্চলে জন্মগ্রহণের কারণে তিনি তাঁর নামের শেষে ‘আত-তাবারী’ উপাধিতে বিশ্বখ্যাত হন।

তাঁর পিতা জারীর ইবন ইয়াযীদ ছিলেন একজন অত্যন্ত ধার্মিক, দূরদর্শী এবং সচ্ছল ব্যক্তি। শৈশবেই তিনি পুত্রের মধ্যে এক অলৌকিক মেধার আভাস পেয়েছিলেন। ইতিহাসগ্রন্থে বর্ণিত আছে, তাঁর পিতা স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, তাঁর পুত্র মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর ঝুলিতে পাথর বা মুক্তো রয়েছে যা তিনি চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সমকালীন স্বপ্নবিশারদগণ এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই পুত্র বড় হয়ে দ্বীনের প্রতিরক্ষা করবে এবং আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহকে বিশ্বব্যাপী সমুন্নত রাখবে। এই স্বপ্নের পর তাঁর পিতা পুত্রের শিক্ষার জন্য নিজের সমস্ত সম্পদ ও মনোযোগ উৎসর্গ করেন।

২. অলৌকিক মেধা ও বাল্যকালের শিক্ষা

ইমাম তাবারী ছিলেন প্রখর ও অবিস্মরণীয় স্মৃতিশক্তির (Photographic Memory) অধিকারী। অতি অল্প বয়সেই তিনি পড়াশোনায় বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেন। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন হিফয (মুখস্থ) করেন। ৮ বছর বয়সে তিনি জামাতে নামাযের ইমামতি করার যোগ্যতা অর্জন করেন এবং মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি হাদীস শাস্ত্রের জটিল বিষয়গুলো লিখতে শুরু করেন। তাঁর এই অসাধারণ মেধা দেখে তাঁর পিতা আমুল শহরের শ্রেষ্ঠ ওলামাদের অধীনে তাঁর উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করেন। ১২ বছর বয়স হওয়ার আগেই তিনি তাঁর নিজ শহরের সমস্ত জ্ঞান সমুদ্র মন্থন করে শেষ করে ফেলেন।

৩. রিহলাহ বা জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক দেশভ্রমণ

প্রাচীনকালের মুসলিম মণীষীদের ঐতিহ্য অনুযায়ী ইমাম তাবারীও উচ্চতর জ্ঞানার্জনের জন্য ‘রিহলাহ’ বা দেশভ্রমণে বের হন। মাত্র ১২ বছর বয়সে (২৩৬ হিজরী) তিনি তাঁর জন্মভূমি তাবারিস্তান ত্যাগ করে তৎকালীন ইসলামের অন্যতম প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র ইরাকের ‘রে’ (বর্তমান তেহরানের নিকটবর্তী প্রাচীন শহর) শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

‘রে’ শহরে অবস্থানকালে তিনি বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনু হুমাইদ আর-রাযী এবং আহমাদ ইবন হাম্মাদ দুলনজীর কাছ থেকে হাজার হাজার হাদীস এবং ইমাম ইবনুল মুবারকের কিতাবসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। ইমাম তাবারী নিজেই বলেছেন, তিনি ইবনু হুমাইদের কাছ থেকে এক লক্ষেরও বেশি হাদীস লিখেছিলেন।

এরপর তাঁর তীব্র ইচ্ছা ছিল বাগদাদে গিয়ে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের ছাত্রত্ব বরণ করার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ইমাম তাবারী যখন বাগদাদের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান, ঠিক তার কিছুদিন আগেই (২৪১ হিজরী) সুন্নাহর অতন্দ্র প্রহরী ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল ইন্তেকাল করেন। এতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হলেও বাগদাদে অবস্থান করে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের অন্যান্য প্রবীণ ছাত্রদের কাছ থেকে হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।

বাগদাদ থেকে তিনি বসরা, কুফা এবং ওয়াসিত শহরে গমন করেন। কুফায় তিনি সুলাইমান ইবন খাল্লাদ এবং আবু কুরাইব আল-হামদানীর মতো জগৎবিখ্যাত মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্য লাভ করেন। আবু কুরাইবের কঠোর পরীক্ষা ও তত্ত্বাবধানে তিনি হাজার হাজার হাদীস আত্মস্থ করেন।

এরপর তিনি জ্ঞানের সন্ধানে সিরিয়া, বৈরুত এবং ফিলিস্তিন সফর করেন। সর্বশেষে তিনি মিশরের রাজধানী কায়রোতে পৌঁছান। মিশরে তখন ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর ছাত্রদের ইলমী মজলিস বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। ইমাম তাবারী সেখানে গিয়ে শাফেয়ী ফিকহ, মালেকী ফিকহ এবং কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন ক্বিরাত বা পঠনশৈলীর ওপর গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। মিশর ও সিরিয়ার জ্ঞান সফর শেষ করে তিনি পুনরায় বাগদাদে ফিরে আসেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

৪. কর্মজীবন, অধ্যাপনা ও স্বতন্ত্র মাযহাব গঠন

বাগদাদে ফেরার পর ইমাম তাবারীর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে ছাত্ররা তাঁর জ্ঞানসমুদ্রে অবগাহন করার জন্য বাগদাদে ভিড় জমাতে থাকে। তিনি অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করতেন। প্রতিদিন আসরের নামায পর্যন্ত তিনি লেখালেখি ও গবেষণার কাজ করতেন, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ছাত্রদের দরস (ক্লাস) দিতেন এবং মাগরিবের পর থেকে এশা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে দ্বীনী শিক্ষা ও ফাতওয়া প্রদান করতেন।

শুরুতে ইমাম তাবারী ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর ফিকহী মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু ফিকহ ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা এতটাই উচ্চতায় পৌঁছেছিল যে, পরবর্তীতে তিনি নিজেই একজন ‘মুজتাহিদ মুতলাক’ (স্বাধীন গবেষক) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি তাঁর নামানুসারে ‘জারীরী মাযহাব’ নামে একটি স্বতন্ত্র ফিকহী মাযহাব প্রতিষ্ঠা করেন, যা বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে ইরাক ও পারস্য অঞ্চলে জনপ্রিয় ছিল। যদিও পরবর্তীকালে অন্যান্য বড় মাযহাবের (হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী) ভিড়ে এই মাযহাবটির অনুসারী সংখ্যা কমে যায় এবং এটি কালের গর্ভে বিলুপ্ত হয়।

৫. ইমাম তাবারীর অনন্য ও কালজয়ী সাহিত্যকর্ম

ইমাম ইবন জারীর আত-তাবারী ছিলেন অত্যন্ত কর্মঠ এবং উর্বর মস্তিষ্কের লেখক। সমকালীন ঐতিহাসিক খতীব আল-বাগদাদী উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম তাবারী দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে ৪০ পৃষ্ঠা করে লিখতেন। তাঁর লেখার পরিমাণ এবং গভীরতা দেখে আধুনিক গবেষকরাও বিস্মিত হন। তাঁর প্রধান দুটি অমর সৃষ্টি হলো:

ক) জামিউল বায়ান আন তাউইলি আয়িল কুরআন (جامع البيان عن تأويل آي القرآن) – যা ‘তাফসীরে তাবারী’ নামে সমধিক পরিচিত:

এটি ইসলামী ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং প্রথম পূর্ণাঙ্গ সুবিন্যস্ত তাফসীর গ্রন্থ। ইমাম তাবারী এই গ্রন্থে প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যায় সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীগণের সুদীর্ঘ সনদসহ বর্ণনা বা আছার উল্লেখ করেছেন। আরবী ভাষার ব্যাকরণ, শব্দতত্ত্ব এবং ক্বিরাতের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি তাফসীরে বিল-মাছুর (বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর) এর ইতিহাসে এক অবিসংবাদিত চূড়া। ইমাম সুয়ূতী (রহ.) এই কিতাব সম্পর্কে বলেছেন:

“যদি কেউ বলে যে তাফসীরে তাবারীর মতো কোনো কিতাব আজ পর্যন্ত লেখা হয়নি, তবে তা মোটেও অতিরঞ্জিত হবে না।”

খ) তারীখুল উমাম ওয়াল মুলূক (تاريخ الأمم والملوك) – যা ‘তারীখে তাবারী’ নামে পরিচিত:

এটি পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু করে তাঁর সমসাময়িক কাল (৩০২ হিজরী) পর্যন্ত মানব ইতিহাসের এক মহাকোষ। ইসলামের ইতিহাস, বিশেষ করে খুলাফায়ে রাশেদীন, উমাইয়া এবং আব্বাসীয় খেলাফতের ইতিহাস জানার জন্য এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং প্রাচীনতম প্রাথমিক উৎস (Primary Source)। পশ্চিমা গবেষক ও প্রাচ্যবিদরাও এই গ্রন্থের ঐতিহাসিক নির্ভুলতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:

  • কিতাবুত তাহযীবুল আছার: হাদীসের বিশাল সংকলন, যা সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
  • কিতাবুল ইখতিলাফুল ফুকাহা: বিভিন্ন ইমামদের ফিকহী মতভেদের ওপর তুলনামূলক গবেষণা।
  • সারীহুস সুন্নাহ: আকীদা বিষয়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
  • কিতাবুল আহকাম: ইসলামী আইন শাস্ত্রের নিয়মাবলী।

৬. সততা, তাকওয়া ও নিরপেক্ষতা

ইমাম তাবারী ছিলেন অত্যন্ত দুনিয়াবিমুখ ও আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি। তাঁর পিতা তাঁর জন্য তাবারিস্তানে কিছু জমি রেখে গিয়েছিলেন, যা থেকে সামান্য কিছু আয় হতো। তিনি সেই সামান্য আয়েই অত্যন্ত জাহিদ (বিবাগী) ও সচ্ছল জীবন পার করতেন। তৎকালীন আব্বাসীয় খলীফা এবং আমীর-উমরারা তাঁকে রাষ্ট্রীয় উচ্চ পদ, যেমন প্রধান বিচারপতির (কাযীউল কুযাত) পদ এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ উপহার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি স্বাধীনভাবে দ্বীনের খিদমত করার লক্ষ্যে এবং রাজদরবারের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে রাজকীয় সমস্ত প্রস্তাব ও উপাধি সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন।

৭. জীবনের শেষ দিনগুলো ও ইন্তেকাল

জ্ঞানের এই বিশাল সমুদ্র এবং ইসলামের মহান খাদেম তাঁর জীবনের শেষভাগে এসে কিছুটা সংকটের মুখোমুখি হন। তৎকালীন বাগদাদে কট্টর ও অতিউৎসুক কিছু লোক ইমাম তাবারীর কিছু ফিকহী ও ঐতিহাসিক মতামতের ভুল ব্যাখ্যা করে তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা করে। তবে এই সংকটের মাঝেও ইমাম তাবারী তাঁর স্বভাবসুলভ ধৈর্যের পরিচয় দেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঘরের ভেতরে বসেই কিতাব রচনার কাজ চালিয়ে যান।

অবশেষে, ৩১০ হিজরীর ২৬ শাওয়াল (মোতাবেক ৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) রবিবার রাতে, আনুমানিক ৮৬ বছর বয়সে এই মহান ইমাম, মুফাসসিরে আযম বাগদাদে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন সোমবার তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর লাখো ভক্ত-অনুরক্তদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তাঁর জানাযার নামায তাঁর নিজের বাসভবনেই অত্যন্ত সম্মানের সাথে আদায় করা হয় এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর কবরটি বাগদাদের একটি বিখ্যাত জিয়ারতগাহে পরিণত হয়েছিল।

উপসংহার

আল্লামা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর আত-তাবারী ইসলামী ঐতিহ্যের এক অক্ষয় স্তম্ভ। তিনি শুধু একটি যুগের লেখক ছিলেন না, বরং তিনি নিজেই ছিলেন একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। আজ হাজার বছর পরেও পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে কুরআন, হাদীস বা ইসলামের ইতিহাস নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে গেলে ইমাম তাবারীর কাছে ঋণ স্বীকার করতেই হবে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই অতুলনীয় খিদমতকে কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।তাফসীরে তাবারীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য

১. এটি সম্পূর্ণ সনদভিত্তিক (Chain of Narrators) তাফসীর।

২. এতে আরবী কবিতার মাধ্যমে শব্দের সঠিক অর্থ নির্ণয় করা হয়েছে।

৩. ফিকহী মাসআলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইমামদের মতামতের চুলচেরা বিশ্লেষণ রয়েছে।

*** জারীরী মাযহাব বিলুপ্তির কারণ

ইমাম তাবারীর নিজস্ব একটি শক্তিশালী ফিকহী মাযহাব ছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর যোগ্য ছাত্ররা এই মাযহাবের মূলনীতিগুলো হানাফী বা শাফেয়ী মাযহাবের মতো রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টিকিয়ে রাখার জোরালো আন্দোলন না করায় এটি একসময় মূলধারার ৪ মাযহাবের সাথে একীভূত হয়ে যায়।

তার লিখিত বিশ্ববিখ্যাত তাফসিল : তাফসীরে তাবারী শরীফ

তাফসির কারক : আল্লামা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর তাবারী (রহ.)

ইসলামি তাফসির শাস্ত্রের ইতিহাসে তাফসীরে তাবারী এক কিংবদন্তিতুল্য নাম। একে বলা হয় ‘উম্মুত তাফসির’ বা সকল তাফসিরের জননী। নিচে এই মহান গ্রন্থ এবং এর সংকলক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভূমিকা তুলে ধরা হলো:

শ্রেষ্ঠত্বের আধার

এই কিতাবটির প্রকৃত নাম হলো ‘জামিঊল বায়ান আন তাবীলি আইয়িল কুরআন’। তাফসিরের জগতে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ এবং পদ্ধতিগত সংকলন হিসেবে স্বীকৃত। এর প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

  • তাফসীরে বিল-মা’ছুর: এই কিতাবটি মূলত ‘তাফসীরে বিল-মা’ছুর’ বা বর্ণনাভিত্তিক তাফসিরের প্রধান উৎস। এতে প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ (সা.), সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবিঈগণের বর্ণনা ও সনদ (সূত্র) বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: ইমাম তাবারী (রহ.) আয়াতের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য প্রাচীন আরবি কবিতা, ব্যাকরণ এবং ভাষাতাত্ত্বিক যুক্তি ব্যবহার করেছেন।
  • ফিকহি ও ঐতিহাসিক তথ্য: কুরআনের বিধানগত আয়াতের ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন ইমামদের মতামত তুলে ধরেছেন এবং প্রয়োজনে ঐতিহাসিক ঘটনার গভীর বিশ্লেষণ করেছেন।
  • পরবর্তী তাফসিরের উৎস: ইমাম ইবনে কাসির, কুরতুবি এবং জালালুদ্দিন সুয়ূতীসহ পরবর্তী যুগের প্রায় সকল শ্রেষ্ঠ মুফাসসিরই তাফসীরে তাবারীকে তাঁদের প্রধান রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

ইসলামি জ্ঞানের বিশালত্ব এবং পবিত্র কুরআনের সঠিক মর্ম অনুধাবনের জন্য তাফসীরে তাবারী একটি অপরিহার্য বিশ্বকোষ। গবেষকগণের মতে, যদি এই কিতাবটি না থাকত, তবে তাফসির শাস্ত্রের অনেক মূল্যবান তথ্য আজ আমাদের কাছে পৌঁছাত না। ডাউনলোড:

ক্র: নংখণ্ড নম্বরডাউনলোড
০১প্রথম খণ্ড ডাউনলোড
০২দ্বিতীয় খণ্ডডাউনলোড
০৩তৃতীয় খণ্ডডাউনলোড
০৪চতুর্থ খণ্ডডাউনলোড
০৫পঞ্চম খণ্ডডাউনলোড
০৬ষষ্ঠ খণ্ডডাউনলোড
০৭সপ্তম খণ্ডডাউনলোড
০৮অষ্টম খণ্ডডাউনলোড
০৯নবম খণ্ডডাউনলোড 

"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"