আল্লামা শিবলী নোমানী

আল্লামা শিবলী নোমানী: জীবন, কর্ম ও চিন্তাদর্শ

ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় উপমহাদেশে যে কজন মুসলিম মনীষী জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, শিক্ষা সংস্কার এবং সমাজ বিনির্মাণে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে আল্লামা শিবলী নোমানী (১৮৫৭–১৯১৪) অন্যতম। তিনি একাধারে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক, কবি, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সুবক্তা এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন। প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি জ্ঞান এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক চিন্তাধারার মধ্যে এক অপূর্ব সমন্বয় সাধনের প্রয়াস চালিয়েছিলেন তিনি। উর্দু ঐতিহাসিক জীবনচরিত বা জীবনী সাহিত্যের (Historiography) জনক হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়। তার পাণ্ডিত্যপূর্ণ রচনা এবং শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন ভারতীয় মুসলিম সমাজকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছিল।

১. জন্ম ও বংশ পরিচয়

আল্লামা শিবলী নোমানী ১৮৫৭ সালের ৩ জুন (মতান্তরে ৪ জুন) বর্তমান ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার বিন্দওয়াল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম রাজপুত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম মুকিমা খাতুন। তার পিতা ছিলেন আজমগড়ের একজন অত্যন্ত সফল আইনজীবী, ব্যবসায়ী এবং ভূস্বামী। শিবলী নোমানীর পূর্বপুরুষ ‘শেওরাজ সিং’ বহু প্রজন্ম আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। মহান সুফি সাধক আবু বকর আল-শিবলীর নামানুসারে তার নাম রাখা হয়েছিল ‘শিবলী’। পরবর্তীতে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফিকহী চিন্তাধারার প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে তিনি নিজের নামের শেষে ‘নোমানী’ (ইমাম আবু হানিফার প্রকৃত নাম নুমান ইবনে সাবিত) যুক্ত করেন।

২. শিক্ষাজীবন ও জ্ঞান অন্বেষণ

তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী শিবলী নোমানী ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন। তিনি গৃহেই পবিত্র কুরআন মাজিদ হিফজ করেন এবং প্রাথমিক ফারসি ও আরবি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক চিরাইয়াকোটির অধীনে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন, যিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত যুক্তিবাদী এবং প্রগতিশীল আলেম। মাওলানা চিরাইয়াকোটির শিক্ষাদর্শন শিবলীর মনে গভীর রেখাপাত করেছিল এবং তাকে অন্ধ অনুকরণ বাদ দিয়ে যুক্তি ও গবেষণার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

শিবলী নোমানী রামপুর, গাজিপুর এবং লাহোরের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাদিস, ফিকহ, আকাইদ, দর্শন এবং যুক্তিবিদ্যার ওপর উচ্চতর পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ১৮৭৬ সালে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি পিতার সাথে পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য মক্কা মোয়াজ্জমায় গমন করেন। এই সফরটি তার জ্ঞানতৃষ্ণাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি মক্কা ও মদিনার সমৃদ্ধ লাইব্রেরিগুলোতে অবস্থান করে বহু দুর্লভ ইসলামি পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক দলিলপত্র অধ্যয়ন করেন।

শিক্ষা সমাপনের পর পিতার ইচ্ছায় তিনি আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ওকালতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আজমগড় ও বস্তি জেলায় আইন চর্চা শুরু করেন। তবে ওকালতির চেয়ে জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্য সাধনার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল অনেক বেশি, যার ফলে তিনি দ্রুতই এই পেশা ত্যাগ করেন।

৩. আলিগড় আন্দোলন ও স্যার সৈয়দ আহমদ খানের সাহচর্য (১৮৮৩–১৮৯৮)

১৮৮৩ সালে আল্লামা শিবলী নোমানীর জীবনের একটি বড় পরিবর্তন আসে। তিনি আলিগড় মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল (MAO) কলেজে ফারসি ও আরবি ভাষার অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এখানে তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর শিক্ষকতা করেন। আলিগড়ে অবস্থানকালে তিনি স্যার সৈয়দ আহমদ খানের সংস্পর্শে আসেন এবং আলিগড় আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

আলিগড়ে শিবলী নোমানী কেবল শিক্ষকতাই করেননি, বরং সেখানে আগত ইউরোপীয় পণ্ডিতদের সাথেও মেলামেশার সুযোগ পান। বিশেষ করে বিখ্যাত ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ টমাস আর্নল্ডের (Thomas Arnold) সাথে তার গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আর্নল্ডের কাছ থেকে তিনি আধুনিক পশ্চিমা গবেষণা পদ্ধতি, সমালোচনা সাহিত্য এবং ইতিহাস রচনার আধুনিক কলাকৌশল শিক্ষা করেন। বিনিময়ে তিনি আর্নল্ডকে ইসলামি দর্শন ও ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করেন। এই পারস্পরিক আদান-প্রদান শিবলীর চিন্তাধারায় এক আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। তবে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের সম্পূর্ণ পাশ্চাত্যঘেঁষা নীতি এবং ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাকে কিছুটা উপেক্ষা করার প্রবণতার সাথে শিবলী সবসময় একমত হতে পারেননি। ফলে স্যার সৈয়দের মৃত্যুর পর, ১৮৯৮ সালে তিনি আলিগড় কলেজ থেকে ইস্তফা দেন।

৪. মধ্যপ্রাচ্য সফর ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা

আলিগড়ে থাকাকালীন, ১৮৯২ সালে আল্লামা শিবলী নোমানী অধ্যাপক টমাস আর্নল্ডের সাথে মধ্যপ্রাচ্য সফরে বের হন। তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল ইস্তাম্বুল (তুরস্ক), বৈরুত (লেবানন), দামেস্ক (সিরিয়া) এবং কায়রো (মিশর) ভ্রমণ করেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করা এবং বিভিন্ন বড় বড় লাইব্রেরি থেকে ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ করা।

ইস্তাম্বুলে অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদ (দ্বিতীয়) শিবলী নোমানীর অসাধারণ পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় পদক প্রদান করেন। মিশরের রাজধানী কায়রোতে তিনি আধুনিক ইসলামি রেনেসাঁর অগ্রদূত শায়খ মুহাম্মদ আবদুহুর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তার সংস্কারবাদী চিন্তাধারার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তিনি তার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ‘সফরনামা-ই রোম-ও-মিশর-ও-শাম’ গ্রন্থে চমৎকারভাবে তুলে ধরেন।

৫. নদওয়াতুল উলামা এবং শিক্ষা সংস্কার

আলিগড় ত্যাগের পর শিবলী নোমানী কিছুকাল হায়দ্রাবাদের নিজাম সরকারের শিক্ষা বিভাগে উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তার মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি অনুভব করেছিলেন যে, আলিগড় কলেজ কেবল আধুনিক পশ্চিমা শিক্ষা দিচ্ছে কিন্তু দ্বীনি চেতনা হারাচ্ছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাগুলো যুগের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এই দুই চরমপন্থার অবসান ঘটিয়ে তিনি একটি সমন্বিত ধারার স্বপ্ন দেখতেন।

এই উদ্দেশ্যে তিনি লক্ষ্ণৌতে প্রতিষ্ঠিত ‘নদওয়াতুল উলামা’ আন্দোলনের হাল ধরেন এবং ১৯০৫ সালে এর শিক্ষা সচিব (নাজিম-ই-তালীমাত) হিসেবে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার দায়িত্ব নেন। তিনি এর পাঠ্যসূচিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা, আধুনিক বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল এবং সমাজবিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন আলেমকে অবশ্যই সমকালীন পৃথিবী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে।

৬. সাহিত্য ও ইতিহাস চর্চায় অবদান

আল্লামা শিবলী নোমানী উর্দু সাহিত্যের অন্যতম স্তম্ভ। তাকে উর্দু জীবনচরিত ও ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ রূপকার বলা হয়। তার রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বস্তুনিষ্ঠতা, গভীর গবেষণা এবং যুক্তি খণ্ডন। তার উল্লেখযোগ্য কালজয়ী গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. সীরাতুন্নবী (Sira-un-Nabi): এটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের ওপর রচিত সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ। শিবলী নোমানী এর প্রথম দুই খণ্ড লিখে যেতে পেরেছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য ছাত্র সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী বাকি পাঁচ খণ্ড সমাপ্ত করেন।

২. আল-ফারুক (Al-Farooq): ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জীবনী এবং তার শাসন ব্যবস্থার ওপর এটি একটি অসাধারণ গবেষণামূলক গ্রন্থ। পশ্চিমা ঐতিহাসিকদের বহু সমালোচনার জবাব এই গ্রন্থে দেওয়া হয়েছে।

3. আল-মামুন (Al-Mamun): আব্বাসীয় খলিফা মামুনুর রশিদের জীবন ও তৎকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ইতিহাস।

৪. আল-গাজ্জালী (Al-Ghazali): হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালীর জীবন, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার চুলচেরা বিশ্লেষণ।

৫. সীরতুল নুমান (Sirat-un-Nu’man): ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর জীবন ও ফিকহ শাস্ত্রের অবদান নিয়ে রচিত গ্রন্থ।

৬. শেয়ারুল আজম (Sher-ul-Ajam): ফারসি কবিতার ইতিহাস ও সমালোচনার ওপর রচিত পাঁচ খণ্ডের একটি অনন্য সাধারণ গ্রন্থ, যা ইরান সরকার কর্তৃকও প্রশংসিত হয়েছিল।

৭. ইলমুল কালাম (Ilm-al-Kalam): ইসলামি আকাইদ ও ধর্মতত্ত্বকে আধুনিক যুক্তির আলোকেও উপস্থাপন।

৭. প্রতিষ্ঠান নির্মাণ: শিবলী ন্যাশনাল কলেজ ও দারুল মুসান্নিফীন

আল্লামা শিবলী নোমানী কেবল বই লিখে ক্ষান্ত হননি, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে গেছেন তার চিন্তাধারাকে। ১৮৮৩ সালে তিনি আজমগড়ে ‘শিবলী ন্যাশনাল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও উত্তর ভারতের একটি অন্যতম প্রধান উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মৃত্যুর ঠিক পূর্বে, ১৯১৪ সালে তিনি আজমগড়ে ‘দারুল মুসান্নিফীন’ (כותকদের আবাস বা Shibli Academy) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল ভারতের প্রথম ইসলামি গবেষণা ও প্রকাশনা সংস্থা। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিভাবান লেখক ও গবেষক তৈরি করা যারা ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর উচ্চতর গবেষণা করবেন। এই একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘মাআরিফ’ পত্রিকা আজও জ্ঞান-মহলে অত্যন্ত সমাদৃত।

৮. রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্যান-ইসলামিজম

জীবনের শেষভাগে শিবলী নোমানী সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের তীব্র বিরোধী ছিলেন এবং প্যান-ইসলামিজম বা বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্বের সমর্থক ছিলেন। বলকান যুদ্ধ এবং ত্রিপোলির যুদ্ধে যখন মুসলিম দেশগুলো আক্রান্ত হয়, তখন তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং মুসলিমদের জাগরণের জন্য বেশ কিছু উদ্দীপনামূলক কবিতা ও প্রবন্ধ লেখেন। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নীতি সমর্থন করতেন এবং মুসলিম লীগকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। ১৯১৩ সালে কানপুর মসজিদ ভাঙার ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

৯. জীবনাবসান ও উত্তরাধিকার

অবিরাম মানসিক পরিশ্রম, লেখালেখি এবং সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে আল্লামা শিবলী নোমানীর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। ১৯১৪ সালের ১৮ নভেম্বর মাত্র ৫৭ বছর বয়সে আজমগড়ে এই মহান মনীষী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে আজমগড়েই সমাহিত করা হয়।

উপসংহার:

আল্লামা শিবলী নোমানী ছিলেন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনবদ্য সেতু। তিনি মুসলিম সমাজকে বুঝিয়েছিলেন যে, নিজের ধর্ম ও ঐতিহ্যকে বিসর্জন না দিয়েও আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। তার রেখে যাওয়া সাহিত্যকর্ম, শিক্ষা দর্শন এবং ‘দারুল মুসান্নিফীন’ এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আজও উপমহাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বের ইসলামি চিন্তাবিদদের জন্য আলোর মিনার হিসেবে কাজ করছে। উর্দু ভাষা ও ইসলামি ইতিহাসের পুনরুজ্জীবনে তার অবদান চিরস্মরণীয়।

তার লিখিত কিতাব :

০১. ইসলামী দর্শন

লেখক :  আল্লামা শিবলী নুমানী


"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"