বিংশ শতাব্দীর মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদ, ফকীহ, এবং সমকালীন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হলেন শাইখ আবদুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ.)। তিনি সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি এবং ‘গ্র্যান্ড মুফতি’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিলেন। ইলমে হাদীস, ফিকহ, আকীদা ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে তার অবদান অতুলনীয়। নিচে তার জীবন ও কর্মের একটি বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল জীবনী উপস্থাপন করা হলো।
১. জন্ম ও জন্মস্থান
শাইখ বিন বায (রহ.) হিজরী ১৩৩০ সনের ১২ই জিলহজ্জ (মোতাবেক ১৯১২ সালের ২১শে নভেম্বর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের এক সম্ভ্রান্ত দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বায। রিয়াদ তখন একটি ছোট ও ঐতিহ্যবাহী শহর ছিল, যেখানে ইসলামি শিক্ষার এক গভীর পরিবেশ বিদ্যমান ছিল।শাইখ বিন বায (রহ.)
২. পিতামাতা ও পারিবারিক পটভূমি
তিনি একটি অত্যন্ত দ্বীনি এবং ইলম-অনুরাগী পরিবারে বড় হন।
- পিতা: তার পিতা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-বায ছিলেন একজন সাধারণ ও আল্লাহভীরু ব্যবসায়ী। শাইখ যখন একেবারই ছোট (পাঁচ বছর বয়স), তখন তার পিতা ইন্তেকাল করেন। ফলে পিতার ছায়া ও দিকনির্দেশনা তিনি শৈশবেই হারান।
- মাতা: পিতার মৃত্যুর পর তার লালন-পালনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পড়ে তার মা হাফসাহ বিনতে আসসাঈদান (Hafsah bint As-Sa’edan) এর ওপর। তার মা ছিলেন অত্যন্ত পুণ্যবতী, বুদ্ধিমতী এবং দ্বীনদার নারী। তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে শাইখকে বড় করে তোলেন এবং শৈশবেই তাকে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। হিজরী ১৩৪২ সনে যখন শাইখের বয়স মাত্র ১২ বছর, তখন তার মাও ইন্তেকাল করেন।
শৈশবেই পিতামাতাকে হারিয়ে শাইখ এতিম হিসেবে বড় হলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে ইলমের পথ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।
৩. পড়াশোনা ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা
শাইখ বিন বায (রহ.)-এর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রিয়াদের ঐতিহ্যবাহী কুরআন শিক্ষা মাদ্রাসায়। তৎকালীন আরবের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি অত্যন্ত অল্প বয়সেই পবিত্র কুরআনুল কারীম সম্পূর্ণ হিফজ করেন।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরীক্ষা
শাইখের জীবনের অন্যতম একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট বা পরীক্ষা ছিল তার দৃষ্টিশক্তি হারানো। হিজরী ১৩৪৬ সনে (মাত্র ১৬ বছর বয়সে) তিনি এক কঠিন চোখের রোগে আক্রান্ত হন। ধীরে ধীরে তার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হতে থাকে। অবশেষে হিজরী ১৩৫০ সনে (প্রায় ২০ বছর বয়সে) তিনি সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার ইলম অর্জনের পথে বাধা হতে পারেনি। বরং তিনি একে আল্লাহর নেয়ামত ও পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি বলতেন:
“আল্লাহ আমার চোখের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছেন, কিন্তু এর বদলে তিনি আমার অন্তরের আলো (বসিরাত) বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং ইলম অর্জনের পথ সহজ করে দিয়েছেন।”
প্রখ্যাত শিক্ষকবৃন্দ
দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর তিনি শ্রুতি ও স্মৃতির ওপর ভর করে তৎকালীন আরবের বড় বড় আলেমদের মজলিসে বসা শুরু করেন। তার প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে শিক্ষকরা যা বলতেন, তা তিনি একবার শুনেই মুখস্থ করে ফেলতেন। তার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকগণের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল আশ-শাইখ (রহ.): তিনি ছিলেন তৎকালীন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি। শাইখ বিন বায তার সান্নিধ্যে প্রায় ১০ বছর কাটান এবং ফিকহ, হাদীস ও আকীদার গভীর ইলম অর্জন করেন।
- শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান আল আশ-শাইখ: রিয়াদের প্রখ্যাত আলেম।
- শাইখ সা’দ বিন হামাদ বিন আতিক: রিয়াদের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি।
- শাইখ হামাদ বিন ফারেস: আরবী ভাষা ও ব্যাকরণের (নাহু-সরফ) পণ্ডিত।
- শাইখ সা’দ ওয়াক্কাস আল-বুখারী: মক্কার অন্যতম প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ, যার কাছ থেকে শাইখ ইলমে তাজবিদ ও হাদীসের বিশেষ ইজাজত লাভ করেন।
তিনি হাদীসের প্রধান প্রধান কিতাব যেমন— সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আরবাআ (আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ) এবং মুসনাদে আহমাদ সহ অসংখ্য গ্রন্থ কিতাব মুখস্থ ও আত্মস্থ করেছিলেন।
৪. কর্মজীবন
শাইখ বিন বায (রহ.) তার দীর্ঘ জীবনে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, বিচারিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কর্মজীবন ছিল অত্যন্ত গতিশীল ও মুখর।
| সময়কাল (হিজরী) | পদের নাম ও প্রতিষ্ঠান | প্রধান দায়িত্ব |
| ১৩৫৭ – ১৩৭১ | আল-খারজ অঞ্চলের বিচারক (Qadi) | দীর্ঘ ১৪ বছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে শরয়ী বিচারকার্য পরিচালনা করেন। |
| ১৩৭২ – ১৩৮০ | রিয়াদ শিক্ষা ইন্সটিটিউট ও শরীয়াহ কলেজ | হাদীস, ফিকহ এবং তাওহীদের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা। |
| ১৩৮১ – ১৩৯৫ | মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য | বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন এবং এর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করেন। |
| ১৩৯৫ – ১৪১৪ | ইলমি গবেষণা, ফাতওয়া, দাওয়াত ও গাইডেন্স ব্যুরোর প্রধান | বিশ্বজুড়ে ফাতওয়া প্রদান ও ইসলামি দাওয়াতের সমন্বয়। |
| ১৪১৪ – ১৪২০ | সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি ও সিনিয়র উলামা পরিষদের প্রধান | মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দায়িত্ব পালন। |
এছাড়াও তিনি রাবেতাতুল আলাম আল-ইসলামী (Muslim World League) এর সুপ্রিম কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন।
৫. ইসলামে কৃতিত্ব ও অবদান
শাইখ বিন বায (রহ.)-এর অবদান কেবল সৌদি আরবের ভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তার প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য।
- বিশ্বব্যাপী দাওয়াতী কার্যক্রম: তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে— এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকায়— দাঈ ও আলেম প্রেরণ করতেন। বিভিন্ন দেশে মসজিদ, মাদ্রাসা, এবং ইসলামি সেন্টার তৈরিতে তিনি বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও সাংগঠনিক সহযোগিতা করতেন।
- সহজ ফাতওয়া নীতি: তার ফাতওয়া প্রদানের পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সহজ, দলিলভিত্তিক এবং মধ্যপন্থী। তিনি উম্মতের কঠিন ও জটিল সমস্যার সমাধান কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সহজভাবে উপস্থাপন করতেন। প্রতিদিন তিনি শত শত চিঠির উত্তর দিতেন এবং ফোনের মাধ্যমে ফাতওয়া দিতেন।
- মুসলিম উম্মাহর ঐক্য: তিনি মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতির পক্ষে ছিলেন। বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন।
- ছাত্র তৈরি: মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় ও রিয়াদে তার দরস থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে হাজার হাজার ছাত্র বিশ্ববরেণ্য আলেম ও দাঈ হয়েছেন।
৬. তার রচনাবলী
যদিও শাইখ বিন বায (রহ.) দৃষ্টিহীন ছিলেন এবং লেখার চেয়ে মুখে ডিকটেশন (শ্রুতিলিখন) দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন, তা সত্ত্বেও তার তত্ত্বাবধানে ও মুখে বলা বক্তব্যের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মূল্যবান বই সংকলিত হয়েছে। তার ফাতওয়া ও প্রবন্ধগুলো পরবর্তীতে ৩০ খণ্ডে “মাজমু’ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওউয়িআহ” (Majmoo’ Fatawa wa Maqalat Mutanawwi’ah) নামে প্রকাশিত হয়।
তার উল্লেখযোগ্য কিছু একক গ্রন্থ নিচে দেওয়া হলো:
১. আল-আকীদা আল-সহীহা ওয়া মা ইউদাদদুহা (সঠিক আকীদা ও তার পরিপন্থী বিষয়সমূহ) – এটি আকীদা বিষয়ক একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সংক্ষিপ্ত বই।
২. আত-তুহফাতুল কারীমা ফি বয়ান বা’দিল আহকামিল লাতি তাত্তাহিম্মুল উম্মাহ (উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধানের চমৎকার উপহার)।
৩. আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ ওয়া আখলাকুদ দু’আত (আল্লাহর পথে আহ্বান এবং দাঈদের চরিত্র)।
৪. আত-তাহজীর মিনাল বিদা’ (বিদআত থেকে সতর্কীকরণ) – প্রচলিত বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিদআতের খণ্ডন।
五. রিসালাতুন ফিল হিজাব (হিজাব ও পর্দার বিধান সংক্রান্ত পুস্তিকা)।
৬. কিতাবুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ ওয়াজ জিয়ারাহ (হজ্জ, উমরাহ ও জিয়ারতের নিয়মাবলী)।
তার এই বইগুলো বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফ্রেঞ্চ সহ পৃথিবীর বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
৭. মৃত্যু বা ইন্তিকাল
দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দীকাল ইসলামের সেবা করার পর, এই মহান মনীষী হিজরী ১৪২০ সনের ২৭শে মহররম (মোতাবেক ১৯৯৯ সালের ১৩ই মে) বৃহস্পতিবার ফযরের ওয়াক্তের কিছু পূর্বে ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মক্কা মুকাররমার মসজিদে হারামে জুমুআর সালাতের পর লক্ষ লক্ষ মুসুল্লির উপস্থিতিতে তার জানাযার সালাত অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সৌদি আরবের বাদশাহ, যুবরাজ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওলামায়ে কেরাম এবং সাধারণ মানুষের অশ্রুসজল উপস্থিতিতে তাকে মক্কার ঐতিহাসিক “আল-আদল” (Al-Adl) কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল এবং সমকালীন ওলামায়ে কেরাম তাকে “এ যুগের ইমাম” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
আল্লাহ তাআলা শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)-কে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং উম্মাহর জন্য তার রেখে যাওয়া ইলমি আমানতকে কবুল করুন। আমীন।
তার লিখিত কিছু কিতাব হলো :
০১. অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
০২. অলি আওলিয়াদের অসিলা গ্রহণঃ ইসলামী দৃষ্টিকোণ
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
০৩. আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন এবং এর পরিপন্থী বিষয় বর্জন
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
০৪. আল্লাহর দিকে আহবান ও দাঈর গুণাবলী
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
০৫. ইসলাম ও বাস্তবতার আলোকে আরব জাতীয়তাবাদ
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
০৬. ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
০৭. কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
০৮. জাদুকর্ম জ্যোতিষ ও দৈবকর্ম সম্পর্কে ইসলামী বিধান
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
০৯. নবী করীম (সা.) এর নামায আদায়ের পদ্ধতি
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১০. সালাত ও পবিত্রতা সম্পর্কে কয়েকটি বিশেষ প্রবন্ধ
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১১. নামায পড়ার পদ্ধতি
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১২. নিজ দেশের লোকদের সাথে রোযা রাখবে না চাঁদ দেখা যে কোনো দেশের সাথে
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১৩. ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ অত্যাবশ্যক
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১৪. পর্দা ও বেপর্দার বিধান
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১৫. বিদআত ও এর মন্দ প্রভাব
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১৬. বিরোধিতার মোকাবিলায় ইসলামের কর্তনীতি
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১৭. যাকাত ও সাওম বিষয়ক দুটি পুস্তিকা
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১৮. রাসুল সাঃ এর উপর আমলের আবশ্যকতা আর তার অস্বীকারকারীর কাফের হওয়া
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
১৯. শাবানের পনেরতম রজনী উদযাপন শরীয়তের দৃষ্টিভংগি
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
২০. জানাযার কিছু বিধান
লেখক : আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায


















