ব্রাদার রাহুল হুসাইন

উপমহাদেশের তরুণ ও প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক ব্রাদার রাহুল হুসাইন (রূহুল আমীন) এর বিস্তারিত জীবনী

১. ভূমিকা

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে ইসলাম প্রচার বা ‘ডিজিটাল দাওয়াহ’ এক নতুন মাত্রা লাভ করেছে。 বাংলাভাষী মুসলিম সমাজে যুক্তি, তথ্য এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের (Comparative Religion) আলোকে ইসলামের যৌক্তিকতা তুলে ধরে যে কজন তরুণ দাঈ ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ব্রাদার রাহুল হুসাইন। তিনি তাঁর সুশৃঙ্খল ও তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাংলাভাষী মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন。 মূলত ড. জাকির নায়েকের লেকচার ও উপস্থাপনা শৈলী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলা ভাষায় দাওয়াতী ময়দানে কাজ শুরু করেন। সমকালীন নাস্তিক্যবাদ, সংশয়বাদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় পণ্ডিতদের সাথে যৌক্তিক বাহাস বা বিতর্কের মাধ্যমে তিনি তরুণ সমাজের কাছে এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

২. জন্ম, বংশ ও পারিবারিক পরিচিতি

ব্রাদার রাহুল হুসাইন ১৯৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী গ্রামে একটি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন。 তাঁর পারিবারিক পটভূমি ও ইতিহাস অত্যন্ত চমৎকার এবং শিক্ষণীয়। তাঁর পিতা বেলায়েত হুসাইন মূলত পূর্বে একজন হিন্দু ছিলেন এবং তাঁর পূর্বনাম ছিল বিমল দাস। পরবর্তীতে ইসলামের সুমহান আদর্শে আকৃষ্ট হয়ে রাহুল হুসাইনের মাতা রহীমা বিবির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে ১৯৭৮ সালের দিকে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন。

পারিবারিক ক্রমানুসারে রাহুল হুসাইন তাঁর ভাই-বোনদের মধ্যে তৃতীয়。 তাঁরা দুই ভাই ও দুই বোন। তাঁর ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাক (রাজা) বর্তমানে জীবিকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। যেহেতু তাঁর পিতা একসময় হিন্দু পরিবারের সদস্য ছিলেন, তাই স্বাভাবিকভাবেই রাহুলের মাসী, পিশীসহ আত্মীয়-স্বজনদের একটি বড় অংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী। এই বহু-ধর্মীয় পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত ছিলেন, যা পরবর্তী জীবনে তাঁকে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

৩. শৈশব, পরিবেশ ও বেড়ে ওঠা

মুর্শিদাবাদের জলঙ্গী গ্রামের গ্রামীণ ও মিশ্র সামাজিক পরিবেশে রাহুল হুসাইনের শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত হয়。 তিনি যে পরিবেশে বড় হয়েছেন, সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা থাকলেও তাদের সিংহভাগই ছিল প্রথাগত বা ব্রেলভী আকীদার অনুসারী。 ভারত একটি বহুমাত্রিক এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রধান দেশ হওয়ায় সেখানে মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতির ওপর হিন্দু সংস্কৃতির এক গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়。

রাহুল হুসাইনের শৈশবে তাঁদের এলাকায় মুসলিমদের মাঝে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান বা তাওহীদের সঠিক চর্চা তেমন একটা ছিল না。 এমনকি তৎকালীন সময়ে স্থানীয় মুসলমানরা হিন্দুদের ধর্মীয় পূজা-পার্বণে চাঁদা দেওয়া, অঞ্জলি নেওয়া, পূজামণ্ডপে যাওয়া এবং প্রসাদ খাওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিত। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই ধর্মনিরপেক্ষ স্লোগানের আড়ালে মুসলিম সমাজে নিজস্ব ধর্মীয় স্বকীয়তার অভাব ছিল প্রকট। রাহুলের নিজের পরিবারেও প্রাথমিক অবস্থায় ধর্মীয় অনুশাসনের কঠোর কোনো চর্চা ছিল না। তিনি নিজেও কৈশোর বয়সে দুই ঈদের ছালাত বা নামাজ ছাড়া নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন না।

৪. শিক্ষাজীবন

ব্রাদার রাহুল হুসাইনের প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয় তাঁর নিজ গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে。 এরপর তিনি স্থানীয় হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন。 বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য নদীয়া জেলায় গমন করেন। ২০১৬ সালে নদীয়া জেলার বিখ্যাত ‘কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়’ (Kalyani University) থেকে তিনি ইতিহাসে স্নাতক (BA in History) ডিগ্রি অর্জন করেন。

তিনি মাদরাসার কোনো প্রথাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তবে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এই বিষয়বস্তু (ইতিহাস) পরবর্তীকালে তাঁকে বিভিন্ন ধর্মের উৎপত্তি, বিবর্তন, ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ এবং প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলোর সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে এক অনন্য তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করেছে。

৫. দ্বীনের পথে আগমন ও আত্মিক পরিবর্তন

রাহুল হুসাইনের জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার পেছনে একটি চমৎকার ও আকস্মিক ঘটনা রয়েছে。 ২০১১ সালের দিকে তিনি যখন হাই স্কুলের ছাত্র, তখন সরস্বতী পূজার প্রসাদ বিতরণকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনা ঘটে। রাহুল এবং তাঁর মুসলিম বন্ধুরা পূজার জন্য পুরোপুরি চাঁদা দিয়েছিলেন এবং সকাল থেকে প্রসাদ পাওয়ার জন্য লাইনে অপেক্ষা করছিলেন。 কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও সিরিয়াল না পাওয়ায় তাঁরা হইচই শুরু করেন, কারণ চাঁদা দেওয়ার কারণে তাঁরা নিজেদের অধিকার কম মনে করেননি।

এই ঘটনার পর মুসলিম বন্ধুদের মনে একটি প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় যে, তাঁরা হিন্দুদের পূজায় চাঁদা না দিয়ে আগামীতে নিজেরা মীলাদ দেবেন এবং সরস্বতী পূজার বিকল্প হিসেবে ধর্মীয় জলসা বা ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করবেন。 ২০১২ সালে যখন রাহুলের মনে এই ধর্মীয় চিন্তাগুলো আবর্তিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি বিশ্বখ্যাত দাঈ ডাঃ জাকির নায়েকের সন্ধান পান。 তিনি ডাঃ জাকির নায়েকের ‘কুরআন অ্যান্ড মডার্ন সায়েন্স’ (Qur’an and Modern Science) শীর্ষক বিখ্যাত বক্তব্যটি শোনেন。 এই একটি বক্তব্য তাঁর চিন্তার জগৎকে সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দেয়。 এরপর তিনি ডাঃ জাকির নায়েকের প্রায় সকল ভিডিও ও লেকচার দেখা শুরু করেন。 ডাঃ জাকির নায়েকের যৌক্তিক ও তথ্যবহুল আলোচনা শুনেই রাহুলের মনে ইসলামের প্রতি প্রকৃত অনুরাগের জন্ম হয় এবং নিজের অজান্তেই মনে মনে দাওয়াতের বীজ রোপিত হতে থাকে。

৬. ‘ব্রাদার’ লকব এবং ‘রূহুল আমীন’ নামের ইতিহাস

রাহুল হুসাইনের অফিশিয়াল এবং সার্টিফিকেট অনুযায়ী নাম হলো ‘রাহুল হোসাইন’। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য সব আইনি নথিতেও এই নামটিই ব্যবহৃত হয়েছে। তবে দ্বীনের পথে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আব্দুল্লাহ সালাফী তাঁর ইসলামিক নাম রাখেন ‘রূহুল আমীন’। এ কারণে তিনি প্রচারণায় উভয় নামই (রাহুল হোসাইন রূহুল আমীন) ব্যবহার করে থাকেন।

তাঁর নামের আগে যুক্ত ‘ব্রাদার’ (Brother) শব্দটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উপাধি নয়, বরং এটি একটি বিশেষ দাওয়াতী সংস্কৃতির অংশ। ভারতে সাধারণত যেসব ব্যক্তি মাদরাসার প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করে ডাঃ জাকির নায়েকের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছেন, তাঁরা নিজেদের নামের আগে ‘ব্রাদার’ লকবটি ব্যবহার করেন। যেমন—হায়দারাবাদের ব্রাদার ইমরান বা অন্যান্য দাঈগণ। রাহুল হুসাইনও সেই ধারা বজায় রেখে সাধারণ শিক্ষিত একজন দাঈ হিসেবে নিজেকে ‘ব্রাদার রাহুল হুসাইন’ নামে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

৭. দাঈ হিসেবে আত্মপ্রকাশ ও দাওয়াতী কার্যক্রম

স্কুলজীবন থেকেই রাহুল হুসাইনের জনসম্মুখে বা মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার এক সহজাত অভ্যাস ও দক্ষতা ছিল। ডাঃ জাকির নায়েকের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হওয়ার পর তিনি ব্যাপক পড়াশোনা শুরু করেন এবং ইসলামের সঠিক রূপ মানুষের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন। একদিন সাহস করে তিনি তাঁর কলেজের একটি অনুষ্ঠানে ‘কনসেপ্ট অফ গড’ (ঈশ্বরের ধারণা) বিষয়ে একটি দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন। সেই অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের সিংহভাগই ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী। তাঁর সেই যৌক্তিক ও শাস্ত্রীয় প্রমাণভিত্তিক বক্তব্য উপস্থিত সকলের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

কলেজের এই সফলতার পর তিনি ধর্মীয় জলসা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করেন。 তিনি প্রথাগত ওয়াজের গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক যুবসমাজের উপযোগী ও যৌক্তিক ধারায় ইসলাম প্রচারের পথ বেছে নেন。

৮. তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও বিতর্কে পারদর্শিতা

ব্রাদার রাহুল হুসাইনের দাওয়াতী কাজের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হলো তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (Comparative Religion)。 তিনি কেবল ইসলাম ধর্মের উৎসগুলোই অধ্যয়ন করেননি, বরং সনাতন ধর্মের বেদ, উপনিষদ, গীতা, পুরাণ এবং খ্রিস্টধর্মের বাইবেল (ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট) ও বৌদ্ধধর্মের গ্রন্থগুলো গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছেন。

তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মতবাদের মানুষের সাথে প্রকাশ্য ও অনলাইন বাহাসে লিপ্ত হয়েছেন। তাঁর বিতর্কের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও তাওহীদ: নাস্তিকদের বিরুদ্ধে মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক যুক্তির সাহায্যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণ করা。 পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের আলোকেই একেশ্বরবাদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা。
  • ধর্মগ্রন্থের সত্যতা যাচাই: কোন ধর্মগ্রন্থটি স্রষ্টার বাণী আর কোনটি মানুষের দ্বারা পরিবর্তিত বা বিকৃত, তা ঐতিহাসিক ও অভ্যন্তরীণ প্রমাণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা。
  • ইসলামের বিরুদ্ধে অপবাদের জবাব: ইসলামে নারীর অধিকার, জিহাদ, বহুবিবাহ এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে অমুসলিম ও সংশয়বাদীদের তোলা ভুল ধারণার যৌক্তিক খণ্ডন করা。

তিনি বহুবার নাস্তিক-সংশয়বাদী, হিন্দু পণ্ডিত এবং খ্রিস্টান ফাদারদের সাথে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে বিতর্ক সম্পন্ন করেছেন, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ মানুষ অবলোকন করেছে。

৯. বাংলাদেশ সফর ও আন্তর্জাতিক সংযোগ

ব্রাদার রাহুল হুসাইন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী হলেও বাংলাদেশের মুসলিম উম্মাহর সাথে তাঁর যোগাযোগ অত্যন্ত নিবিড় ও গভীর। ভারতের চেয়েও বাংলাদেশে তাঁর অনুসারী এবং শ্রোতার সংখ্যা বিশাল。 তিনি ইসলামের সঠিক বার্তা ও তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে বহুবার বাংলাদেশ সফর করেছেন।

বাংলাদেশ সফরকালে তিনি রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের আমন্ত্রণে জালসা, সেমিনার ও দাওয়াতী কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন। এদেশের প্রখ্যাত আলেম ও গবেষকদের সাথেও তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে。 বিশেষ করে প্রখ্যাত আলেম শেখ মতিউর রহমান মাদানীসহ বিভিন্ন বরেণ্য ইসলামী ব্যক্তিত্বের সাথে তাঁর বিভিন্ন মতবিনিময় ও প্রোগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে。 তাঁর সাবলীল ও স্পষ্ট বাংলা ভাষা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও তরুণদের খুব সহজেই আকর্ষিত করে。

১০. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল দাওয়াহ

বর্তমান যুগে ব্রাদার রাহুল হুসাইনের জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সরব ও ফলপ্রসূ পদচারণা। ফেসবুক এবং ইউটিউবকে তিনি দাওয়াতের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন。

  • ফেসবুক পেজ (Facebook Page): ফেসবুকে তাঁর অফিশিয়াল পেজে (Br Rahul Hossain) নিয়মিত ইসলামী রিমাইন্ডার, ছোট ছোট শিক্ষণীয় ক্লিপ, সমসাময়িক বিষয়ের ওপর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্ব সম্প্রচার করা হয়।
  • ইউটিউব চ্যানেল (YouTube Channel): ইউটিউবে তাঁর বিতর্কগুলোর পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, বিভিন্ন সেমিনারের দীর্ঘ লেকচার এবং নাস্তিক ও মুক্তমনাদের বিভিন্ন প্রশ্নের তাত্ত্বিক জবাব সংবলিত ভিডিও আপলোড করা হয়。

তাঁর এই ডিজিটাল দাওয়াহর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরা, যারা হয়তো কখনো সরাসরি কোনো ইসলামী জলসায় যায় না, তারাও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক জ্ঞান ও তাওহীদের সঠিক আকিদা শিখতে পারছে。

১১. তরুণ সমাজের ওপর প্রভাব ও আলোচিত বিষয়সমূহ

ব্রাদার রাহুল হুসাইনের আলোচনার প্রধান টার্গেট গ্রুপ বা শ্রোতা হলো আধুনিক যুবসমাজ。 প্রথাগত ওয়াজ মাহফিলে যেখানে আবেগ ও সুরের প্রাধান্য থাকে, সেখানে রাহুলের আলোচনায় থাকে যুক্তি, তথ্য, রেফারেন্স ও বিজ্ঞান。 তরুণ সমাজ যারা আধুনিক শিক্ষা ও দর্শনের প্রভাবে নানাবিধ মানসিক সংশয়ে ভোগে, তারা রাহুলের বক্তব্যের মধ্যে নিজেদের প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর খুঁজে পায়。

তাঁর লেকচারের অন্যতম বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

১. স্পষ্টতা ও কাঠামোবদ্ধ উপস্থাপনা: তিনি যেকোনো বিষয়ে পয়েন্ট আকারে এবং সুবিন্যস্তভাবে কথা বলেন।

২. তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স প্রদান: তিনি যখনই কোনো ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দেন, তখন সেটির অধ্যায় ও শ্লোক নম্বরসহ উল্লেখ করার চেষ্টা করেন।

৩. প্রশ্নোত্তর পর্ব: তাঁর প্রোগ্রামের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে অমুসলিম কিংবা সংশয়বাদীরা সরাসরি এসে তাঁকে যেকোনো কঠিন প্রশ্ন করতে পারেন এবং তিনি সেগুলোর তাত্ক্ষণিক জবাব দেন。

১২. সমালোচনা ও দৃষ্টিভঙ্গি

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ব্রাদার রাহুল হুসাইনকে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখোমুখিও হতে হয়েছে。

  • বিতর্কের আক্রমণাত্মক শৈলী: কোনো কোনো সমালোচক মনে করেন তাঁর বিতর্কের ধরন বা যুক্তি প্রদানের ভঙ্গি কখনো কখনো অতিরিক্ত সোচ্চার বা আক্রমণাত্মক রূপ নেয়。
  • আকীদাগত পার্থক্য: ইসলামের নামে প্রচলিত বিভিন্ন উপদল বা ভ্রান্ত আকীদার অনুসারীদের (যেমন চরমপন্থী ব্রেলভী বা মাজারপন্থী) ভ্রান্তিগুলো তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে ও যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেন। এর ফলে ওইসব গোষ্ঠীর মানুষ তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হয় এবং তাঁর সমালোচনা করে。

তবে তাঁর সমর্থক এবং সাধারণ শ্রোতাদের মতে, সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এবং শিরক-বেদআতের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে এই ধরনের সমালোচনা আসবেই এবং তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে তা মোকাবেলা করে চলেছেন。

১৩. লেখক ও গবেষক হিসেবে অবদান

ইসলামী দাওয়াতের পাশাপাশি ব্রাদার রাহুল হুসাইন গবেষণামূলক লেখালেখির সাথেও যুক্ত রয়েছেন。 তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের অধ্যয়ন ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অভিজ্ঞতাকে বই আকারে রূপ দিয়েছেন。 তাঁর লেখা বইগুলোতে মূলত অমুসলিমদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর, বিভিন্ন ধর্মের শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ এবং ইসলামের তাওহীদের যৌক্তিকতা অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে。 এই বইগুলো বাংলাভাষী পাঠকদের ধর্মীয় জ্ঞানপিপাসা মেটাতে এবং অমুসলিমদের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে。

১৪. উপসংহার

ব্রাদার রাহুল হুসাইন (রূহুল আমীন) বর্তমান বাংলাভাষী মুসলিম বিশ্বের তরুণ দাঈদের মধ্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক মাদরাসা শিক্ষার অভাব থাকা সত্ত্বেও কেবল তীব্র ইচ্ছা, গভীর অধ্যয়ন এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে তিনি যেভাবে দ্বীনের খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ডাঃ জাকির নায়েকের আদর্শে অনুপ্রাণিত এই তরুণ দাঈ তাঁর যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্ধত্ব, শিরক, বেদআত এবং নাস্তিকতার অন্ধকার দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে সমগ্র বিশ্বের বাংলাভাষী মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক বাণী পৌঁছে দেওয়াই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। দ্বীনের এই তরুণ খাদেমের হাত ধরে আগামী দিনে লাখ লাখ মানুষ সত্যের আলো খুঁজে পাবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।

তার লিখিত কিছু বইয়ের লিংক :

০১. খ্রিষ্টানদের জন্য বড়দিনের উপহার

লেখক :  ব্রাদার রাহুল হুসাইন



০২. সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন

লেখক :  ব্রাদার রাহুল হুসাইন



"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"