বিশ্ববরেণ্য ইসলামিক চিন্তাবিদ, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষক এবং বক্তা ডা. জাকির আব্দুল করিম নায়েকের একটি বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল জীবনী নিচে উপস্থাপন করা হলো। এটি তাঁর জীবন, শিক্ষা, কর্ম, অবদান এবং সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
ডা. জাকির আব্দুল করিম নায়েক-এর জীবন ও অবদান
ডা. জাকির নায়েক বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামিক দাঈ (ইসলামের দিকে আহ্বানকারী)। নিখুঁত স্মৃতিশক্তি, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের নির্ভুল রেফারেন্স ও যুক্তিভিত্তিক উপস্থাপনার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে পরিচিত। বিশেষ করে শিক্ষিত মুসলিম ও অমুসলিম তরুণ সমাজের কাছে তাঁর বক্তৃতা ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
১. জন্ম ও জন্মস্থান
ডা. জাকির নায়েক ১৯৬৫ সালের ১৮ অক্টোবর ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই (তৎকালীন বোম্বে) নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি Zakir Abdul Karim Naik নামে সুপরিচিত। তাঁর পূর্বপুরুষ ও জন্মগত নিবাস ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতেই ছিল এবং জীবনের দীর্ঘ একটি সময় তিনি এই শহরেই অতিবাহিত করেন।
২. পিতামাতা ও পারিবারিক পটভূমি
ডা. জাকির নায়েকের পরিবার মুম্বাইয়ের একটি উচ্চশিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার ছিল।
পিতা: তাঁর বাবার নাম ডা. আব্দুল করিম নায়েক। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সফল মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist) এবং চিকিৎসক ছিলেন।
মাতা: তাঁর মাতার নাম রওশন নায়েক।
পারিবারিক পরিবেশটি চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি অনুরাগী থাকায় জাকির নায়েকও ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি বৈবাহিক সূত্রে ফারহাত নায়েকের (Farhat Naik) সাথে আবদ্ধ হন। ফারহাত নায়েকও ইসলামের দাওয়াহ কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নারীদের শাখার দায়িত্ব পরিচালনা করেছেন।
৩. পড়াশোনা ও শিক্ষাজীবন
ডা. জাকির নায়েকের প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন হয় মুম্বাই শহরেই। বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্রে তাঁর মেধার পরিচয় মেলে অত্যন্ত চমৎকারভাবে।
বিদ্যালয়: তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার্স হাই স্কুল (St. Peter’s High School) থেকে আইসিএসই (ICSE) সম্পন্ন করেন।
কলেজ: এরপর তিনি মুম্বাইয়ের কিশিনচাঁদ চেল্লারাম কলেজে (Kishinchand Chellaram College) উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।
চিকিৎসা বিজ্ঞান (MBBS): উচ্চ মাধ্যমিকের পর তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মুম্বাইয়ের ‘টোপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড নায়ার হসপিটাল’ (Topiwala National Medical College & BYL Nair Charitable Hospital)-এ ভর্তি হন। পরবর্তীতে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় (University of Mumbai) থেকে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ ডিগ্রি MBBS (Bachelor of Medicine and Surgery) অর্জন করেন।
পেশাগত যোগ্যতার কারণে তাঁর নামের শুরুতে ‘ডা.’ বা ‘ডক্টর’ শব্দটি যুক্ত হয়।
৪. কর্মজীবন ও দাওয়াহর সূচনা
ডাক্তারি পাস করার পর ডা. জাকির নায়েক কিছুকাল পেশাদার চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৯১ সালের দিকে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে পা বাড়ান।
ডাওয়া কাজের অনুপ্রেরণা
১৯৮৭ সালে ডা. জাকির নায়েকের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ইসলামিক দাঈ ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের পণ্ডিত শেখ আহমেদ দিদাত (Ahmed Deedat)-এর সাক্ষাৎ হয়। শেখ দিদাতের বিতর্ক ও কথা বলার ধরন তরুণ জাকির নায়েককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। শেখ দিদাত নিজেই পরবর্তীতে জাকির নায়েককে “দিদাত প্লাস” (Deedat Plus) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
১৯৯১ সালে তিনি ডাক্তারি পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে পূর্ণকালীন ইসলামিক দাঈ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে, শারীরিক অসুস্থতা নিরাময়ের চেয়ে মানুষের আত্মিক ও আদর্শিক ভ্রান্তি দূর করা বেশি জরুরি। বিশেষ করে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলিম তরুণরা যখন পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে নিজেদের ধর্ম নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগছিল, তখন তিনি তাদের যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে ইসলামের সত্যতা বোঝানোর কাজ শুরু করেন।
৫. ইসলামে কৃতিত্ব ও অবদান
ইসলামের প্রচার, প্রসার এবং অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের প্রকৃত রূপ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ডা. জাকির নায়েকের অবদান সমসাময়িক ইতিহাসে অনন্য। নিচে তাঁর প্রধান কৃতিত্বগুলো তুলে ধরা হলো:
ক. ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (IRF) প্রতিষ্ঠা
১৯৯১ সালে মুম্বাইতে তিনি ‘ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (Islamic Research Foundation – IRF) নামক একটি অলাভজনক গবেষণা ও দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সেমিনার, প্রকাশনা ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
খ. পিস টিভি (Peace TV) নেটওয়ার্ক
ডা. জাকির নায়েকের সবচেয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে Peace TV (পিস টিভি) ইংরেজি চ্যানেল চালু করা। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল যা মূলত তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব এবং ইসলামের যৌক্তিক ব্যাখ্যার ওপর গুরুত্ব দেয়। পরবর্তীতে এর তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে অন্যান্য ভাষাতেও এটি চালু করা হয়:
পিস টিভি উর্দু (২০০৯)
পিস টিভি বাংলা (২০১১)
পিস টিভি চাইনিজ (২০১৫)
একসময় এই নেটওয়ার্কের দর্শক সংখ্যা বিশ্বব্যাপী ২০০ মিলিয়নের (২০ কোটি) বেশি ছাড়িয়ে যায়, যার মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল অমুসলিম দর্শক।
গ. তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে অসাধারণ দক্ষতা
ডা. জাকির নায়েকের মূল অনন্যতা হলো তাঁর অভাবনীয় স্মরণশক্তি। তিনি কেবল পবিত্র কুরআন বা হাদিসের রেফারেন্সই দেন না, বরং সনাতন ধর্মের বেদ, উপনিষদ, গীতা, খ্রিস্টধর্মের বাইবেল (পুরাতন ও নতুন নিয়ম), বৌদ্ধ ধর্ম এবং শিখ ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলোর শত শত বাণী অধ্যায় ও শ্লোক নম্বরসহ মুখস্থ বলতে পারেন।
২০০০ সালের এপ্রিলে আমেরিকার শিকাগোতে ডা. উইলিয়াম ক্যাম্পবেলের সাথে “বিজ্ঞানের আলোয় কুরআন ও বাইবেল” (The Qur’an and the Bible: In the Light of Science) শীর্ষক তাঁর বিতর্কটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এছাড়া ২০০৬ সালে বেঙ্গালুরুতে হিন্দু আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবি শঙ্করের সাথে ঈশ্বরের ধারণা নিয়ে তাঁর ঐতিহাসিক সংলাপ বহু মানুষের চিন্তার জগত বদলে দেয়।
ঘ. আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কার
ইসলামের সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডা. জাকির নায়েক বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
সাল
পুরস্কারের নাম
প্রদানকারী দেশ/সংস্থা
২০১৩
ইসলামিক পার্সোনালিটি অফ দ্য ইয়ার
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০১৩
মালয়েশিয়ান হিজরাহ বিশেষ ব্যক্তিত্ব অ্যাওয়ার্ড
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান
২০১৪
কমান্ডার অফ দ্য ন্যাশনাল অর্ডার অফ দ্য গাম্বিয়া
গাম্বিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রপতি
২০১৫
কিং ফয়সাল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ (Service to Islam)
সৌদি আরব (কিং সালমান কর্তৃক প্রদত্ত)
দ্রষ্টব্য: ২০১৫ সালে প্রাপ্ত ইসলামের নোবেল খ্যাত ‘কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার’-এর সমস্ত অর্থ (প্রায় ২ লাখ মার্কিন ডলার) ডা. জাকির নায়েক পিস টিভির তহবিলে দান করে দেন।
ঙ. সাম্প্রতিক কার্যক্রম (Al Hidaayah ও OTT)
২০১৬ সালে ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর ওপর বিভিন্ন আইনি নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগ আনা হলে তিনি ভারতে প্রত্যাবর্তন না করে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস (Permanent Residency) শুরু করেন। সেখানে থেকেও তিনি দাওয়াহ কাজ থামিয়ে রাখেননি। ২০২১ সালে তিনি Al Hidaayah (আল হিদায়াহ) নামক একটি বিশাল ইসলামিক ভিডিও অন ডিমান্ড ও অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। ২০২৪ সালে পিস টিভি নেটওয়ার্ককে আধুনিক ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হয়, যার ফলে মোবাইল ও স্মার্ট টিভির মাধ্যমে এটি বিশ্বব্যাপী বিনামূল্যে দেখা যাচ্ছে।
৬. তাঁর রচিত ও প্রকাশিত বইসমূহ (Bibliography)
ডা. জাকির নায়েক তাঁর বিভিন্ন গবেষণাধর্মী বক্তৃতা ও সেমিনারের বিষয়বস্তুকে বই আকারে প্রকাশ করেছেন। তাঁর বইগুলো মূলত ইংরেজি ভাষায় রচিত এবং পরবর্তীতে বাংলা, আরবি, উর্দুসহ বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কিছু বইয়ের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. Replies to Non-Muslims’ Common Questions About Islam (ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের সাধারণ কিছু প্রশ্নের জবাব)
২. Quran and Modern Science: Compatible or Incompatible? (কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান: সাদৃশ্য নাকি বৈসাদৃশ্য?)
৩. Concept of God in Major Religions (প্রধান প্রধান ধর্মে ঈশ্বরের ধারণা)
৪. Is Terrorism a Muslim Monopoly? (সন্ত্রাসবাদ কি মুসলিমদের একচেটিয়া অধিকার?)
৫. Women’s Rights in Islam: Protected or Subjugated? (ইসলামে নারীর অধিকার: সুরক্ষিত নাকি অবদমিত?)
৬. Similarities Between Hinduism and Islam (ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্যসমূহ)
৭. Answers to Non-Muslims’ Misconceptions About Islam (ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের ভুল ধারণার নিরসন)
তাঁর এই বইগুলো খুবই সহজ ভাষায় ও রেফারেন্স সহকারে লেখা, যা সাধারণ পাঠককে খুব দ্রুত ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করে।
৭. বর্তমান অবস্থা ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য
অনেকেই ডা. জাকির নায়েকের বর্তমান অবস্থা বা জীবনাবসান সম্পর্কে জানতে চান। স্পষ্ট তথ্য হলো, ডা. জাকির নায়েক জীবিত আছেন এবং সুস্থ আছেন। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
২০১৬ সাল থেকে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের রাষ্ট্রীয় অতিথি ও স্থায়ী বাসিন্দা (PR) হিসেবে দেশটির পুত্রজায়ায় বসবাস করছেন। সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন দেশে (যেমন কাতার, ওমান, পাকিস্তান) আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে ভ্রমণ করেন এবং বড় বড় জনসভায় ইসলামের বাণী ও লেকচার প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং তাঁর নিজস্ব ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তিনি নিয়মিত দ্বীনি আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
ডা. জাকির নায়েকের কর্মপদ্ধতির সারসংক্ষেপ
ডা. জাকির নায়েকের পুরো জীবনকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক শিক্ষিত মুসলিমদের মন থেকে হীনম্মন্যতা দূর করা এবং অমুসলিমদের কাছে ইসলামের শাশ্বত ও যৌক্তিক বাণী পৌঁছে দেওয়া। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ৬৪ নম্বর আয়াতের একটি অংশ তিনি তাঁর বক্তৃতায় প্রায়ই ব্যবহার করেন:
“বলুন, হে আহলে কিতাবগণ (ঐশী গ্রন্থের অনুসারীগণ)! এসো এমন এক বাণীর দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক (অভিন্ন)।”
বিজ্ঞান, যুক্তি এবং অন্যান্য ধর্মের নিজস্ব গ্রন্থের রেফারেন্স ব্যবহার করে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার এই আধুনিক কৌশল ডা. জাকির নায়েককে সমকালীন বিশ্বে এক অনন্য মর্যাদার আসনে বসিয়েছে।
ডা. জাকির নায়েকের কিং ফয়সাল পুরস্কার প্রাপ্তির মুহূর্ত — এই ভিডিওতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ সালমানের হাত থেকে ডা. জাকির নায়েকের মর্যাদাপূর্ণ ‘কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ গ্রহণের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখা যাবে।
তার লিখিত কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে। নিচে কিছু বইয়ের লিংক :