ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ
“জ্ঞানার্জন কেবল নিজের স্বার্থের জন্য নয়; বরং অর্জিত সেই জ্ঞানকে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ ও নৈতিক সংস্কারে প্রয়োগ করাই হলো একজন প্রকৃত আলেমের মূল দায়িত্ব।” — ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ
১. ভূমিকা
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং একবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলাদেশে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা সংস্কার, সূক্ষ্ম গবেষণা এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যের প্রসারে যে কজন মনীষী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একাধারে একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, অনন্য গবেষক, সফল দাওয়াহ কর্মী এবং মননশীল লেখক। দীর্ঘকাল ধরে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি মুসলিম উম্মাহর বৈশ্বিক মেলবন্ধন তৈরির আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামী’ (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ)-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থেকে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচার করেছেন। তাঁর বৈচিত্র্যময় কর্মময় জীবন এবং সাবলীল সাহিত্যকর্ম যুগ যুগ ধরে সমাজকে আলোর পথ দেখিয়ে চলেছে।
২. জন্ম ও বংশ পরিচয়
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা যশোরের এক সম্ভ্রান্ত এবং গভীর ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কাটে আজমপুর গ্রামের এক শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশে। তাঁর পিতা আল-হাজ্জ মুহাম্মদ ইজ্জাতুল্লাহ ছিলেন এলাকার অত্যন্ত সৎ, ন্যায়পরায়ণ, দানশীল ও পরহেজগার একজন মানুষ, যাঁর সততা ও আদর্শ সমাজজুড়ে প্রশংসিত ছিল। তাঁর মাতা সাবেরা খাতুন ছিলেন একজন গভীর শিক্ষানুরাগী, ধৈর্যশীল ও পুণ্যবতী নারী। পারিবারিক এই ধর্মীয় ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ড. আবদুল মাবুদের কোমল মনে শৈশবেই ইসলামি মূল্যবোধ, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি গভীর অনুরাগের বীজ বপন করে দিয়েছিল। পিতামাতার সুযোগ্য তত্ত্বাবধানেই তাঁর প্রাথমিক মানসিক ও মননশীল বিকাশ ঘটে।
৩. শিক্ষাজীবন ও মেধার স্বাক্ষর
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা অত্যন্ত গৌরবময়। বাড়ির নিকটবর্তী দরগাহপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। সেখানে মেধার স্বাক্ষর রেখে ১৯৫৭ সালে তিনি চতুর্থ শ্রেণি সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেন।
এরপর উচ্চতর ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৫৮ সালে তিনি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার তৎকালীন সময়ের অন্যতম প্রাচীন ও খ্যাতনামা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘লাউড়ী-রামনগর সিনিয়র মাদ্রাসা’-এ ভর্তি হন। এই মাদ্রাসার তৎকালীন সুযোগ্য উস্তাদদের গভীর সাহচর্যে তাঁর ইসলামি জ্ঞানের বুনিয়াদ গড়ে ওঠে।
লাউড়ী-রামনগর সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে ১৯৬৫ সালে দাখিল এবং ১৯৬৭ সালে আলিম পরীক্ষায় उत्तीर्ण হন। তাঁর মেধা ও কঠোর অধ্যবসায়ের ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৬৯ সালে ফাজিল পরীক্ষায় অনন্য ফল লাভ করেন।
অতঃপর উচ্চতর হাদিস ও তাফসির শাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য তিনি ফরিদপুর জেলার শিবচরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ‘বাহাদুরপুর শরিয়াতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা’-এ ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭১ সালে তিনি কামিল (হাদিস) পরীক্ষায় অত্যন্ত চমৎকার ফলাফলের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাঁর নামের পূর্বে ‘ডক্টর’ উপাধির গৌরব যোগ করে।
৪. কর্মজীবন ও সাংগঠনিক তৎপরতা
শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার পর ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ কর্মজীবনে প্রবেশ করেন এবং শুরু থেকেই তিনি গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের সাথে সম্পৃক্ত হন।
- রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামী: ১৯৮২ সালের ২৫ আগস্ট তিনি মক্কাভিত্তিক বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামী’ (Muslim World League)-এর অধীনে গুরুত্বপূর্ণ চাকরিতে যোগদান করেন। আন্তর্জাতিক এই সংস্থায় কাজ করার সুবাদে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর নানাবিধ সমস্যা, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক দাওয়াহর রূপরেখা সম্পর্কে তিনি গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
- বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার: পরবর্তীতে দেশে ফিরে এসে ১৯৮২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ও চিন্তাশীল প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার’-এ গবেষণা কর্মকর্তা (Research Officer) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে তিনি ইসলামি অর্থনীতি, সমাজনীতি এবং ইতিহাসের ওপর মৌলিক ও তাত্ত্বিক গবেষণায় লিপ্ত ছিলেন।
- খণ্ডকালীন শিক্ষকতা: একই সাথে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদে ১৯৮৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৫ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি উচ্চশিক্ষালয়ে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবেও নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও নেতৃত্ব
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদের জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়টি রচিত হয় দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামী’-এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ‘ভিজিটিং লেকচারার’ (Visiting Lecturer) হিসেবে যোগ দেন। তাঁর পাণ্ডিত্য, পাঠদান শৈলী এবং ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯৮৭ সালের ১ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে স্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।
এর পর থেকে তাঁর মেধা, সততা ও একাগ্রতার মাধ্যমে তিনি সফলতার সিঁড়ি বেয়ে পদোন্নতি লাভ করতে থাকেন:
- সহকারী অধ্যাপক: ১৯৯০ সালের এপ্রিল মাসে তিনি তাঁর অনন্য একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
- সহযোগী অধ্যাপক: ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
- অধ্যাপক (Professor): ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের পূর্ণ অধ্যাপক পদের গৌরব অর্জন করেন।
প্রশাসনিক নেতৃত্ব: অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দেন। ২০০৬ সালের মে মাস থেকে ২০০৯ সালের ৭ মে পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান (Chairman) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই তিন বছরের মেয়াদকালে বিভাগের একাডেমিক মানোন্নয়ন, সেমিনার লাইব্রেরির আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করার ক্ষেত্রে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে জ্ঞানার্জন করে আজ দেশ-বিদেশের বহু উচ্চপদস্থ ক্ষেত্রে এবং ইসলামি চিন্তাধারার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
৬. গবেষণা ও কালজয়ী সাহিত্যকর্ম
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ কেবল শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক ছিলেন না, বরং তাঁর মূল ক্ষেত্র ছিল গবেষণা ও সৃজনশীল লিখনী। আরবি সাহিত্য, হাদিস শাস্ত্র, ইসলামি ইতিহাস ও জীবনী গ্রন্থের অনুবাদ ও মৌলিক রচনায় তাঁর অবদান অপরিসীম। জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সাবলীল ও প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরায় তিনি অসামান্য পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তাঁর বহু প্রবন্ধ ও গবেষণাপত্র দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ও সমাদৃত হয়েছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত বইয়ের তালিকা:
- আসহাবে রাসূলের জীবনকথা: এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় একটি কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সাহাবিদের ঈমানদীপ্ত জীবন, ত্যাগ, তিতিক্ষা ও বীরত্বের ইতিহাস তিনি বহু খণ্ডে অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যা বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে এক অপরিহার্য সম্পদ।
- খোলাফায়ে রাশেদীন: ইসলামের প্রথম চার খলিফা হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)-এর খেলাফতকাল, शासनব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের নিখুঁত ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
- তাবিঈদের জীবনকথা: সাহাবিদের পরবর্তী প্রজন্ম তথা তাবিঈগণের জ্ঞানচর্চা, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনসংগ্রামের ওপর রচিত এই আকর গ্রন্থটি পাঠককে ইসলামের সোনালী যুগের দিকে নিয়ে যায়।
- আসহাবে রাসূলের কাব্য প্রতিভা: ইসলামে সাহিত্যের স্থান এবং সাহাবিদের মধ্যে যাঁরা উচ্চমানের কবি ছিলেন, তাঁদের কাব্যিক অবদান ও কবিতা নিয়ে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী গবেষণাগ্রন্থ।
- রাসূলুল্লাহর শিক্ষাদান পদ্ধতি: আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান ও পেডাগজির আলোকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কীভাবে তাঁর সাহাবিদের শিক্ষা দিতেন, তাঁর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক কৌশলসমূহের চমৎকার তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই বইটিতে।
- সুন্নাতু রাসূলিল্লাহ (সা.): দৈনন্দিন জীবনে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহর গুরুত্ব, তার প্রামাণিকতা এবং সমাজ গঠনে সুন্নাহর অপরিহার্যতার ওপর এক বলিষ্ঠ তাত্ত্বিক গ্রন্থ।
৭. ইসলামি চিন্তাধারা, দর্শন ও সমাজ সংস্কার
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদের চিন্তাধারা ছিল মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ (ওয়াসাতিল্লাহ)। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইসলাম কোনো সংকীর্ণ বা বৈরাগ্যবাদী ধর্ম নয়, বরং এটি মানবজীবনের সমস্ত দিককে পরিব্যাপ্তকারী এক শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। তাঁর মতে, মুসলিম সমাজকে যদি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, তবে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সুশুদ্ধ ইসলামি শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো আবশ্যিক।
তিনি সর্বদা মুসলিম তরুণ সমাজকে অলসতা ও উগ্রতা পরিহার করে বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণার দিকে আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য ও লিখনীর মূল সুর হলো—নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়, তাই সমাজ সংস্কারের ভিত্তি হতে হবে আত্মশুদ্ধি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের হুবহু অনুসরণ। দাওয়াহর ক্ষেত্রে তিনি সবসময় নরম ও প্রজ্ঞাপূর্ণ (হিকমাহ) পদ্ধতি অবলম্বনের ওপর জোর দিয়েছেন।
৮. জীবনবৃত্তান্তের একনজরে রূপরেখা (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ |
| জন্মস্থান | আজমপুর গ্রাম, যশোর জেলা, বাংলাদেশ |
| পিতামাতা | পিতা: আল-হাজ্জ মুহাম্মদ ইজ্জাতুল্লাহ, মাতা: সাবেরা খাতুন |
| মাদ্রাসা শিক্ষাজীবন | দাখিল (১৯৬৫), আলিম (১৯৬৭), ফাজিল (১৯৬৯) – লাউড়ী-রামনগর সিনিয়র মাদ্রাসা; কামিল (১৯ ১৯৭১) – বাহাদুরপুর শরিয়াতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা |
| উচ্চ শিক্ষা | পিএইচডি (PhD), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান | রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামী (১৯৮২), বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার (১৯৮২-১৯৮৫), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৮৫-বর্তমান) |
| প্রশাসনিক দায়িত্ব | চেয়ারম্যান, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (২০০৬-২০০৯) |
| প্রধান ক্ষেত্রসমূহ | আরবি সাহিত্য, সাহাবি ও তাবিঈদের জীবনী, হাদিস ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতি |
৯. উপসংহার
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ কেবল একজন ব্যক্তির নাম নয়, বরং তিনি নিজেই একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। তাঁর দীর্ঘ জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে জ্ঞানার্জন, জ্ঞান বিতরণ, গ্রন্থ রচনা এবং সমাজ বিনির্মাণে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মতো নিষ্ঠাবান, বিনয়ী এবং গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী স্কলার যেকোনো জাতির জন্য পরম অহংকারের বস্তু। বাংলাদেশে উচ্চস্তরে ইসলামি আরবি সাহিত্য এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের ইতিহাস চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁর অবদান চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদএর একটি pdf বায়োগ্রাফি
তার বই পড়তে ক্লিক করুন :
০১. আসহাবে রাসূলের জীবন কথা
লেখক : মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ

মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ রচিত ‘আসহাবে রাসূলের জীবন কথা’ গ্রন্থটি বাংলা ইসলামি সাহিত্যে এক অমূল্য সংযোজন। নবী করীম (সা.)-এর সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবন, আত্মত্যাগ এবং ইসলামের প্রসারে তাঁদের বীরত্বগাথা অত্যন্ত সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় এই বইটিতে চিত্রিত হয়েছে। এটি কেবল একটি জীবনীগ্রন্থ নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য এক আলোকবর্তিকা।
বইটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নির্ভরযোগ্যতা এবং সহজ উপস্থাপনা। লেখক প্রতিটি সাহাবীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ইবাদত-বন্দেগি এবং তাঁদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের বিবরণ অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে যারা সাহাবীদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য পাঠ্য। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সান্নিধ্য কীভাবে একদল সাধারণ মানুষকে সোনার মানুষে রূপান্তরিত করেছিল, তা এই বইটির পাতায় পাতায় ফুটে উঠেছে। সাহাবায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে সত্য ও সুন্দরের পথে চলার অনুপ্রেরণা পেতে এই বইটি এক অনন্য গাইড হিসেবে কাজ করে।
বইটির ডাউনলোড লিংক :
| ক্র: নং | খণ্ড নম্বর | ডাউনলোড |
| ০১ | প্রথম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০২ | দ্বিতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৩ | তৃতীয় খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৪ | চতুর্থ খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৫ | পঞ্চম খণ্ড | ডাউনলোড |
| ০৬ | ষষ্ঠ খণ্ড | ডাউনলোড |
০২. তাবি’ঈদের জীবনকথা
লেখক : ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ

তাবি’ঈদের জীবনকথা: সোনালী যুগের ইতিকথা
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ রচিত ‘তাবি’ঈদের জীবনকথা’ গ্রন্থটি ইসলামের ইতিহাসের সেই মহান মনীষীদের জীবন আলেখ্য, যারা সাহাবায়ে কেরামের প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। অত্যন্ত নিখুঁত গবেষণা ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখক এখানে তাবেয়ীদের ইবাদত, জ্ঞানসাধনা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার চিত্র তুলে ধরেছেন। নববী আদর্শের উত্তরাধিকারী এই মহামানবদের ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্পগুলো আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির পাথেয়। বিশুদ্ধ ইতিহাস ও আদর্শ জীবন গঠনে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এটি একটি অবশই পাঠ্য সংকলন।
বইটির কিছু বিশেষ দিক:
- নির্ভরযোগ্য সূত্র: ঐতিহাসিক তথ্যের সঠিক উপস্থাপনা।
- সহজ উপস্থাপন: সাধারণ পাঠকদের বোঝার উপযোগী সাবলীল ভাষা।
- অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা: প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে চারিত্রিক সংশোধনের রসদ।
তাবেয়ীদের এই গৌরবোজ্জ্বল জীবনগাথা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক পুনর্জাগরণে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।
বইটির ডাউনলোড লিংক :
০৩. আসহাবে রাসুলের কাব্য প্রতিভা
লেখক : ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ
০৪. খোলাফায়ে রাশেদীন
লেখক : ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ
০৫. রাসূলুল্লাহর শিক্ষাদান পদ্ধতি
লেখক : ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ
০৬. সুন্নাতু রাসূলিল্লাহ সাঃ
লেখক : ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ



