অধ্যাপক মো: মুজিবুর রহমান-

বাংলাদেশের সমকালীন ইসলামী রাজনীতি, সংসদীয় ইতিহাস, শিক্ষাঙ্গন এবং শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের এক প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মো: মুজিবুর রহমান। তিনি একাধারে একজন প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক এবং প্রভাবশালী পার্লামেন্টারিয়ান। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন এই জননেতা বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় রাজনীতিতে শোক প্রস্তাবের পর দোয়া-মোনাজাতের ঐতিহাসিক রীতি প্রবর্তন এবং জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার দাবি তোলার পেছনে তার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

তার প্রারম্ভিক জীবন, গৌরবময় শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, রাজনৈতিক উত্থান, অনন্য অবদান এবং গ্রন্থাবলির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

১. জন্ম ও জন্মস্থান

অধ্যাপক মো: মুজিবুর রহমান ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আলাতুলি ইউনিয়নের চর-আলাতুলি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তবে ১৯৭০-এর দশকে প্রমত্তা পদ্মার তীব্র নদী ভাঙনের শিকার হয়ে তাদের আদি ভিটা বিলীন হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে, তার পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর-আলাতুলি গ্রাম থেকে পার্শ্ববর্তী রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ীর সাগরপাড়ায় স্থায়ীভাবে চলে আসেন এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেন। নদী ভাঙনের এই পারিবারিক সংগ্রাম এবং চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা খুব কাছ থেকে দেখায় তার মাঝে শৈশব থেকেই মানবকল্যাণ ও সমাজ সংস্কারের চেতনা জাগ্রত হয়েছিল।

২. পিতামাতা ও পারিবারিক জীবন

তার পিতা মরহুম সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং মাতা মরহুমা হামিদা খাতুন ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও আদর্শিক অভিভাবক। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তারা সন্তানের নৈতিক গঠন ও শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন আপসহীন।

ব্যক্তিগত জীবনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান শরীফা বেগম-এর সাথে দাম্পত্য সূত্রে আবদ্ধ। এই আদর্শ দম্পতির সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যারা প্রত্যেকেই সুশিক্ষিত এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে তিনি সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করছেন।

৩. শিক্ষাজীবন ও মেধার স্বাক্ষর

অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল এবং অনন্য মেধার স্বাক্ষরবাহী। তিনি মাদ্রাসা ও আধুনিক সাধারণ উচ্চশিক্ষা—উভয় ধারাতেই শীর্ষস্থান অধিকার করেছিলেন।

  • প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা: তার শিক্ষার হাতেখড়ি ঘটে নিজ গ্রামের আলাতুলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি (SSC) পাস করেন। উল্লেখ্য, তৎকালীন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তিনি মানবিক বিভাগে মেধা তালিকায় (Merit List) তৃতীয় স্থান অধিকার করে তার প্রতিভার জানান দেন।
  • উচ্চমাধ্যমিক: এসএসসি-র পর তিনি উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৭Check২ সালে সফলভাবে এইচএসসি (HSC) সমাপ্ত করেন।
  • বিশ্ববিদ্যালয় জীবন: উচ্চমাধ্যমিক শেষে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি ইংরেজিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি লাভ করেন।
  • ভাষাগত পাণ্ডিত্য: ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি আরবী ও ফার্সী ভাষার ওপর তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘মর্ডান অ্যারাবিক সার্টিফিকেট কোর্স’ এবং ‘মর্ডান পার্সিয়ান সার্টিফিকেট কোর্স’—উভয় কোর্সেই প্রথম শ্রেণীতে প্রথম (1st Class 1st) স্থান অধিকার করার এক বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন।

৪. কর্মজীবন ও শিক্ষকতা

শিক্ষা জীবন শেষ করার পর তার সামনে সরকারি উচ্চপদস্থ আমলা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিসিএস (BCS) পরীক্ষায় সগৌরবে উত্তীর্ণ হন। তবে আমলাতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা ও এ্যাডমিন ক্যাডারের মোহ ত্যাগ করে তিনি দেশ গড়ার মহান পেশা ‘শিক্ষকতা’-কে বেছে নেন।

  • ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে যাত্রা: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী ডিগ্রী কলেজে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে তার পেশাগত জীবন শুরু হয়।
  • দীর্ঘ অধ্যাপনা: পরবর্তীতে তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ এবং বগুড়ার মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত সুনামের সাথে অধ্যাপনা করেন। তরুণ প্রজন্মকে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার কারণে ছাত্র-শিক্ষক মহলে তিনি ‘অধ্যাপক মুজিবুর রহমান’ হিসেবে সমধিক পরিচিতি লাভ করেন।

৫. রাজনৈতিক জীবন ও সংসদীয় রাজনীতি

ছাত্রজীবন থেকেই অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মূল দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং মেধা ও যোগ্যতার বলে দ্রুত শীর্ষ নেতৃত্বে চলে আসেন।

  • জাতীয় সংসদে প্রথম বিজয় (১৯৮৬): মাত্র ৩১ বছর বয়সে, ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী ও তানোর) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে প্রথমবার সংসদ সদস্য (MP) নির্বাচিত হন।
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পুনর্নির্বাচন (২০২৬): দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই শেষে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত দেশের ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় রাজশাহী-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য (MP) নির্বাচিত হন।
  • দলের শীর্ষ নেতৃত্ব: তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর এবং একই সাথে দলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করছেন।
  • শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব: তিনি কেবল রাজনৈতিক নেতাই নন, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর দেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করেছেন।

৬. জাতীয় সংসদে ঐতিহাসিক ও উল্লেখযোগ্য অবদান

সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ, দূরদর্শী ও ঐতিহাসিক। তার দুটি অবদান বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে:

১. সংসদে দোয়া-মোনাজাতের রীতি প্রবর্তন: ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৃতীয় জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তার প্রস্তাব ছিল—সংসদে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর কেবল প্রথাগতভাবে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন না করে, তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হোক। সংসদ তার এই প্রস্তাবটি সাদরে গ্রহণ করে এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের সাথে দোয়া-মোনাজাতের এই সুন্দর ধর্মীয় রীতিটি নিয়মিত পালন হয়ে আসছে।

২. আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার প্রথম জোরালো দাবি: তিনিই সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে আল্লাহর আইন (কোরআনের আইন) প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। সমকালীন বড় দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি সংসদে ঐতিহাসিক এক ভাষণে বলেছিলেন: “আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন বাংলাদেশে মানুষের তৈরি আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।” তার এই সাহসী উচ্চারণ তৎকালীন মুসলিম সমাজকে ব্যাপকভাবে আলোড়িত করেছিল।

৭. লেখক, গবেষক ও লিখনী

একজন ব্যস্ত রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ হওয়া সত্ত্বেও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান নিয়মিত লেখালেখি ও গবেষণার সাথে যুক্ত থেকেছেন। তার লেখনী অত্যন্ত সহজ, সাবলীল এবং তথ্যবহুল। তার রচিত অসংখ্য মৌলিক ও গবেষণাধর্মী বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

১. জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী: সংসদে ইসলামী আন্দোলনের ভূমিকা ও সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত।

২. কারাগার থেকে আদালত: রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ ও আইনি লড়াইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা স্মৃতিকথামূলক বই।

৩. সহজ কথায় ইসলাম: সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামের মূল বিষয়গুলোকে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন।

৪. ইউরোপে একমাস: তার ইউরোপ সফরের অভিজ্ঞতা ও সেখানকার মুসলিম সমাজের অবস্থা নিয়ে চমৎকার একটি ভ্রমণকাহিনী।

৫. আল্লাহর পথে খরচ: ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় দানের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে রচিত।

৬. নির্বাচিত এক হাজার হাদিস: সাধারণ পাঠকদের আমল ও দৈনন্দিন জীবনের উপযোগী ১০০০টি গুরুত্বপূর্ণ হাদীসের সংকলন ও ব্যাখ্যা।

৭. আখিরাতের প্রস্তুতি: মানুষের পরকালীন জীবনের জবাবদিহিতা ও প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা।

৮. ইসলামী আচরণ: সমাজ ও পরিবারে একজন মুসলমানের পারস্পরিক আচার-ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত, তার বিবরণ।

৮. বর্তমান অবস্থা

অধ্যাপক মো: মুজিবুর রহমান বর্তমানে ৭১ বছর বয়সে উপনীত হয়েছেন। প্রবীণ বয়স এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কঠিন পরীক্ষা ও কারাবরণের ধকল সত্ত্বেও আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি সুস্থ ও কর্মক্ষম আছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে নিজ এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদে ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। একই সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সততা, নৈতিকতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে তিনি সমকালীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে মূল্যায়িত হচ্ছেন। তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://www.vote4mujibur.com)-এর মাধ্যমেও তিনি জনগণের সাথে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

তাল লিখিত কিছু কিতাব :

০১. আল কুরআন এক নজরে একশত চৌদ্দ সূরা

লেখক : মুজিবুর রহমান



০২. আল কুরআন সংলাপ

লেখক : মুজিবুর রহমান



০৩. আল-কুরআনে উদাহরণ

লেখক : মুজিবুর রহমান



০৪. ইসলামী আচরণ

লেখক : মুজিবুর রহমান



০৫. উশর

লেখক : মুজিবুর রহমান



০৬. কম হাসো বেশী কাঁদো

লেখক : মুজিবুর রহমান



০৭. কারাগার থেকে আদালতে অধ্যাপক গোলাম আযম

লেখক : মুজিবুর রহমান



০৮. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রোগীদের জন্য সুসংবাদ

লেখক : মুজিবুর রহমান



০৯. দৌড়াও আল্লাহর দিকে

লেখক : মুজিবুর রহমান



১০. বিয়ের উপহার

লেখক : মুজিবুর রহমান



১১. মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা.)

লেখক : মুজিবুর রহমান



১২. রমজান ও রোযা

লেখক : মাসুদা সুলতানা রুমী



১৩. আখেরাতের প্রস্তুতি

লেখক : মফিজুর রহমান



"বাংলা ইসলামিক বইয়ের বিশাল পিডিএফ (PDF) আর্কাইভ"